barisal photo

আগৈলঝাড়ার ২৩টি ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান

প্রকাশিত :২৩.০৮.২০১৭, ৫:০৪ অপরাহ্ণ

শামীম আহমেদ, বরিশাল : জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাশ করছে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীরা। ওই স্কুলগুলোতে পাঠদানের শ্রেনি কক্ষের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাশ করায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে তাদের সন্তানদের নিয়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশংকা দেখা দিয়েছে। ২৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে সাতটি ভবনকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে তা দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হলেও গত ১০ বছরেও এখাতে কোন অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি।
সূত্রমতে, ২০০৭ সালে সিডরের পরর্তী সময়ে সরকারী নির্দেশ পেয়ে উপজেলার ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চি‎‎হিৃত করে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ। তালিকাভূক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ওইসকল বিদ্যালয়ের প্লাস্টার খসে প্রতিনিয়ত শিক্ষাথীদের আহত হওয়ায় শ্রেণি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পরেন।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৫টি, নব জাতীয়করণকৃত বিদ্যালয় ২৯টি, বিদ্যালয় প্রকল্প দুইটিসহ মোট ৯৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এরমধ্যে ২৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। সূত্রে আরও জানা গেছে, উপজেলার পূর্বমোহনকাঠী, পূর্ববাগধা দাসপাড়া, জয়রামপট্টি, দর্জিপাড়, পূর্বগোয়াইল, বাহাদুপুর, পূর্বপতিহার, গোপালসেন নিমারপাড়, অহুতি বাটরা, পশ্চিম গোয়াইল, নাঘিরপাড়, দক্ষিন আস্কর, দক্ষিণ-পূর্ব আস্কর, বারপাইকা মুসলিমপাড়া, পূর্ব সুজনকাঠীসহ ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন বর্তমানে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়ের ভবনগুলো উপজেলা প্রকৌশলী বিভাগ থেকে নির্মাণ করা হয়েছিল। নির্মাণকাজের সময় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলো নিন্মমানের কাজ করায় দ্রুত এই ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পরে। এসব ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো সংস্কারের জন্য উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও গত ১০ বছরেও সংস্কারের জন্য কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীদের ক্লাশ করা কঠিন হয়ে পরেছে।
সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা জানান, শ্রেণি কক্ষগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে তারা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। বিদ্যালয়গুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও কোন সংস্কার না হওয়ায় প্রতিমূহুর্তে সন্তানদের নিয়ে দূর্ঘটনার আতংকে থাকেন তারা। জরুরী ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিদ্যালয়গুলো পূণঃনির্মাণ ও সংস্কারের জন্য জোরদাবি করেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার জানান, উপজেলার ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্র্ণসহ মোট ২৩টি বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সরকারীভাবে চিহ্নিত করে সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মানের জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রাজ কুমার গাইন বলেন, আগে এলজিইডি বিভাগের মাধ্যমে স্কুল ভবন নির্মান ও সংস্কারের কাজ করা হতো। এখন সরকার “সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প জিপিএসডিপি এবং রেজিস্ট্রিকৃত স্কুলগুলো জাতীয় করনের পরে ‘নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প এনএনজিপিএসডিপি’র আওতায় নতুন ভবন নির্মান ও সংস্কার কাজ হাতে নিয়েছেন। সরকারীভাবে এখনও ওই প্রকল্পটি কাজ শুরু না করায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো নির্মান বা সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। প্রকল্পের কাজ শুরু হলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উল্লেখিত ভবনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।