শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন কানতারা খান।ছবি: সোহেল রানা রিপন
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন কানতারা খান।ছবি: সোহেল রানা রিপন

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ এবার ধানমন্ডিতে

প্রকাশিত :২৪.০৮.২০১৭, ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

ইসলাম মোহাম্মদ রবি : ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রমের এবারের আয়োজন ছিল ধানমন্ডির ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ উচ্চ বিদ্যালয়ে। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী।

অনুষ্ঠানে ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর পরিচালক ও ‘আজ সারাবেলা’র ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কানতারা খান বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বেই আজ আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক। আমাদের স্বাধীন অস্তিত্ব নিয়ে সম্মানের সঙ্গে কাজ করে যেতে পারছি। বঙ্গবন্ধুর মত মহান মানুষটিকে জানতে হবে, ধারণ করতে হবে চেতনায় ও অস্তিত্বে। কারণ বাঙালির সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব তিনি।

তিনি বলেন, আমরা অনেক সময় বলি, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুর কোন ছবি নেই কেন? আসলে ভাষার জন্য আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯৪৮ সালে। পশ্চিম পাকিস্থান থেকে যখন বলা হয়েছিল ‘উর্দু এন্ড উর্দু শ্যাল বি দ্যা স্টেট লেঙ্গুয়েজ অব পাকিস্থান’। তখন প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু এবং তখনই প্রথমবার আটক করা হয়েছিল তাকে। এর পর আন্দোলন আরো তীব্র আকার ধারন করে। ৫২’র ২১ শে ফেব্রæয়ারীর আগে তাকে আবারও আটক করা হয়। বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় প্রায় ১৪ বছর জেলে ছিলেন তিনি। শুধুমাত্র দেশ ও দেশের মানুষের জন্য আন্দোলন, প্রতিবাদ করায়। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ, ২৫ই মার্চের কালো রাত, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক প্রামাণ্যচিত্র, সেসময় পত্রিকায় প্রকাশিত অনেক প্রতিবেদন তোমরা পাবে গুগল, ইউটিউবে। ২৬ শে’র সকালে পৃথিবীর প্রায় ৮ থেতে ৯টা দেশের জাতীয় দৈনিকে বলা হয়েছে ‘মুজিব ডিক্লিয়ারস ইন্ডিপেন্ডেনসি’।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষীকা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি: সোহেল রানা রিপন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষীকা ও শিক্ষার্থীদের একাংশ। ছবি: সোহেল রানা রিপন

তিনি আরো বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশে ফিরবেন তখন লন্ডন, দিল্লী হয়ে দেশে ফিরতে হয়েছিল। সে সময় ঢাকার ফ্লাইট ছিল না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ্’র বাসভবন টেন ডাউনিং স্ট্রিটে কোন অতিথি গেলে তার গাড়ির দরজা খুলে দেবে একজন সেনা কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রী করমর্দন করে স্বাগত জানাবে- এটাই রীতি। কিন্তু বঙ্গবন্ধু যখন এডওয়ার্ড হিথ্’র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তার বাসভবনে যান, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী নিজে বঙ্গবন্ধুর গাড়ির দরজা খুলে স্বাগত জানান। বিষয়টি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে সমালোচনার ঝড় উঠে- প্রধানমন্ত্রী ব্রিটিশদের সম্মানহানী করেছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ্ পার্লামেন্টে বলেন, ‘আমি ব্রিটিশদের অসম্মানিত করিনি বরং সম্মানিত করেছি। যিনি স্বপ্ন দেখেন এবং তা পূরণ করে দেখিয়েছেন। একটি জাতির স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। আমি সম্মান দেখিয়েছি তার কর্ম ও নেতৃত্বকে।’ পরে সবার ভুল ভাঙে।

আজকে যারা এখানে উপস্থিত হয়েছো তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন বঙ্গবন্ধু। তোমাদের ভেতর আছে দেশপ্রেম। বঙ্গবন্ধু কোনো দূর আকাশের তারা নয়, তিনি তোমার আমার মাঝেই বাস করেন। দেশকে ভালবেসে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠি আমরা।যোগ করেন কানতারা খান।

বক্তব্য রাখছেন মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহবুব হোসেন খান। ছবি: সোহেল রানা রিপন

বক্তব্য রাখছেন মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহবুব হোসেন খান। ছবি: সোহেল রানা রিপন

প্রতিবারের মত এবারও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মো. মাহবুব হোসেন খান। ২ নম্বর সেক্টরে যিনি বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। এই কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে যুদ্ধের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন শিক্ষার্থীদের মাঝে।

তিনি বলেন, রাজনীতি বলতে বুঝতাম শুধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার ৭ই মার্চের ভাষণ প্রেরণা জুগিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে। যোগ দেই মুক্তিযুদ্ধে। ক্যাম্পে সারাদিন বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হতো। শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে শত্রু র মোকাবেলা করার অনুপ্রেরণা পেয়েছিলাম সেখান থেকে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জামশেদ আলী’র হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দিচ্ছেন কানতারা খান।ছবি: সোহেল রানা রিপন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জামশেদ আলী’র হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দিচ্ছেন কানতারা খান।ছবি: সোহেল রানা রিপন

অনুষ্ঠান শেষে ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর পক্ষ থেকে ওয়েস্ট ধানমন্ডি ইউসুফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম জামশেদ আলী’র হাতে ‘বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও সিআরআই থেকে প্রকাশিত তিন পর্বের কমিক নভেল ‘মুজিব’ তুলে দেন কানতারা খান।

‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ‘আজ সারাবেলা’র সম্পাদক জববার হোসেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ ও নর্দান ইউনিভার্সিটি।