নোটিশ

ঢাবির সুফিয়া কামাল হলের ভুয়া নোটিশ বিতর্ক: ছাত্রীরা এখনো দ্বিধায়

প্রকাশিত :২৪.০৮.২০১৭, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ

 ঢাবি প্রতিনিধি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিয়া কামাল হলের নোটিশবোর্ডে লাগানো দুইটি ভূঁয়া নোটিশ কে কেন্দ্র করে সামাজিক ও গণযোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। জানা যায়, বুধবার সন্ধায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলের নোটিশবোর্ডে নিম্নোক্ত লেখাযুক্তহ একটি নোটিশ পাওয়া যায়,‘সকল আবাসিক ছাত্রীদের জানানো যাচ্ছে যে, হলের ভেতর দিন বা রাত হোক, কখনোই ছাত্রীদের অশালীন পোশাক (সালোয়ারের ওপর গেঞ্জি) পরা যাবে না।

এ পোশাকে হলের কার্যালয়ে কোনো কাজের জন্য ঢোকা যাবে না। অন্যথায় শৃঙ্খলাভঙ্গের হলকর্তৃপক্ষ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

সুফিয়া কামাল হলের

                                                                                        প্রথম নোটিশ

 

কিছু সময়ের মধ্যেই এই নোটিশটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পরে, নোটিশবোর্ডে পূর্বানূরুপ আরেকটা নোটিশ পাওয়া যায়।

সেটাতে লেখা হয়, ‘ছাত্রীদের কক্ষ, বারান্দা, বাথরুম ও ব্যক্তিগত এলাকা ব্যতীত অত্র অফিস এলাকায়/হল অফিসে কোন কাজের জন্য যথাযথ পোশাক পরিধান করে আসতে হবে।

হলের ভাবমূর্তি রক্ষা করবার দ্বায়িত্ব সকলের।’

সুফিয়া কামাল হলের                                                                                                         দ্বিতীয় নোটিশ

উপরিউক্ত দু’টি নোটিশই সামাজিক ও গণযোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় আসে।

নোটিশদ্বয়ের মাধ্যমে ছাত্রীদের ব্যক্তিঅধিকার হরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ আসতে থাকে।

এ বিষয়টি হলকর্তৃপক্ষের গোচরে আসলে তারা জানায়, নোটিশ দু’টির একটিও প্রকৃতপক্ষে হল কতৃপক্ষের দেওয়া নয়।

এ ব্যাপারে কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড সবিতা রহমান বলেন

“আমাদের হলের অফিসিয়াল কার্যক্রম বিকেল ৫:০০ টায় শেষ হয়ে যায়, এরপর কোনো একটি মহল আমাদের নোটিশ পরিবর্তন করে এমন একটি নোটিশ দিয়েছেন।

আর আমাদের নোটিশ বোর্ডে নোটিশ দেয়া হয় কিন্তু ওই নোটিশটি দেয়ালে লাগানো ছিলো। আমি এমন কোনো নোটিশ দিইনি। তবে যেই এই কাজ করে থাকুক তাদের উদ্দেশ্য কখনো সফল হবে না”।

কবি সুফিয়া কামাল হলের সিনিয়র কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান

“এমন কোনো নোটিশ বোর্ডে দেইনি। কে বা কারা কর্তৃপক্ষকে হীন করার জন্য এমন কাজ করেছে। আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য।

আমাদের প্রাধ্যক্ষ এমন মানুষই নন যে, এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

তিনি ছাত্রীদের জন্য ল্যাব করেছেন এমনকি ছাত্রীদের সাইকেল কেনার জন্য লোনের ব্যবস্থা করেছেন।’

আজ বৃহৎস্পতিবার সকালে আরেকটি নোটিশে জানানো হয়,

‘অত্র হলের মেয়েদের পোশাক পরিধান সংক্রান্ত একটি বিকৃত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নোটিশ অনলাইন ভিত্তিক বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

উক্ত বিকৃত নোটিশটি হলকর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত নয়। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠিত হয়েছে।’

সুফিয়া কামাল হলের

                                                         তৃতীয় নোটিশ

 

এহেন পরিস্থিিতি ও নোটিশ নিয়ে ছাত্রীদের মধ্যে একনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও সংশয় রয়ে গেছে বলে তদন্তে ফুটে উঠেছে।

হলের আবাসিক ছাত্রী রিমি বলেন ‘এটা কি হচ্ছে বুঝতে পারছি না, নোটিশের উপর নোটিশ দেয়া হচ্ছে,আমি খুবই বিব্রত বোধ করছি।’

সানজিদা নামের আরেক আবাসিক ছাত্রী অভিযোগ করেন,

‘হল কর্তৃপক্ষ যদি না দেয় তাহলে কে দেবে এই নোটিশ? আমাদের হাতের পুতুল বানানোর চেষ্টা করেছিলেন আমাদের প্রভোস্ট এখন সফল হতে না পেরে দোষ অন্নের উপর চাপাচ্ছেন’।

কবি সুপিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন

‘এটা একটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত ঘটনা,কেউ বিভ্রান্ত ছড়ানোর জন্য এমন কাজ করে হলের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছেন,আমাদের হলের নোটিশ গুলো সাধারণত অভ্র কীবোর্ড এ লিখা হয় কিন্তু এই নোটিস বিজয় কীবোর্ড দিয়ে লিখা’।

 

আরো পড়ুন : ঢাবির বঙ্গবন্ধু হল পুকুরের বেহাল দশা ! দেখার কেউ নেই