টিএসসির
টিএসসির ওয়াশরুম

টিএসসির টয়লেট ব্যবহার অনুপযোগী, সংস্কারের উদ্যোগ নেই

প্রকাশিত :২৮.০৮.২০১৭, ৪:১৫ অপরাহ্ণ

ঢাবি প্রতিনিধি :  অপরিচ্ছন্নতা, দূর্গন্ধ, কলকব্জা নষ্ট ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের অভাবে  ব্যবহারের উপযোগিতা হারিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের টিএসসির ( ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র) ওয়াশরুম

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, টিএসসির ওয়াশরুম সংলগ্ন বেসিনের ট্যাপগুলো বেশির ভাগই ভালো নেই।

বেসিনের পানির ট্যাপ কোনোটা দিয়ে একেবারেই পানি আসেনা আবার কোনটা দিয়ে পরছে বিরতিহীনভাবে। টিস্যু পেপার তো নেই ই সাথে সাবান/হ্যান্ড ওয়াশও নেই।

টয়লেটগুলোর অবস্থা আরো খারাপ । টয়লেটের ভেতরের পানির ট্যাপও বেশিরভাগ ভাঙ্গাচোরা,নষ্ট।

কোন কোন টয়লেটের ভেতরের অবস্থা এমন যে ভেতরে তাকালেই বমির উদ্রেগ হয় ।

এসব কারনে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এমনকি অতিথিদেরও দূর্ভোগে পরতে হচ্ছে ।

সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ।

টিএসসির ওয়াশরুম

টিএসসির ওয়াশরুম

 

এ অবস্থা সম্পর্কে মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাসিফ বলেন, ‘

‌’এটা খুবই বিব্রতকর, মানুষের অতি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাররমধ্যে টয়লেট থাকলেও আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি’র মত জায়গায় টয়লেট গুলো ব্যবহারের উপোযোগী নয়।

প্রচন্ড দূর্গন্ধ ও অপরিচ্ছন্নতার কারনে এগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না’

নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী তানিয়া কয়েকজন অতিথি  জানান ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে এটা কখনও ভাবতে পারিননি,এরকম টয়লেট মানুষ কিভাবে ব্যবহার করতে পারে’!

টিএসসির ওয়াশরুম নিয়ে নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরো বেশী।

তাহিরা তাহারিম এক নারী শিক্ষার্থী জানান, ‘ছেলেদের তুলনায় আমরা মেয়েরা বেশি সঙ্কট এ আছি।’

দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী অনন্যা বলেন ‘আমাদের ওয়াশরুমের অবস্থা এতটাই খারাপ যে খুব বিপদে না পড়লে আমরা যাইনা’।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে টিএসসির পরিচালক এ এম এম মহিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমি নিজেও জানি টিএসসির ওয়াশরুম একটা বিরাট সমস্যা ।  এটার কারণে আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশেষ বেগ পেতে হচ্ছে’।

এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন,  ‌’টিএসসি যখন প্রতিষ্ঠা হয় তখন বিশ্যবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সংখ্যা ছিল ১০ হাজার আর বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার।

তার উপরে টিএসসি একটা জাতীয় পর্যায়ের পাবলিক জায়গা।প্রচন্ড মানুষের চাপ থাকার কারণে প্রতিনিয়তই টিএসসি ওয়াশরুম নোংরা হচ্ছে।

আমাদের মাত্র ১জন সুইপার ও ৪জন পরিস্কার কর্মীর পক্ষে এতো মানুষের চাপ সামলানো খুবই কষ্টকর।

আমি ইতিমধ্যে উপর মহলে বার্তা পাঠিয়েছি তবে ইঞ্জিনিয়াররা এসে শুধুমাত্র পর্যবেক্ষণ করে চলে গেছে কিন্তু কোনো কাজ হয়নি’।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য তিনি বলেন ‘আপনারা যারা টিএসসির ওয়াশরুম ব্যবহার করেন,তারা দয়া করে একটু সচেতন হয়ে ব্যবহার করবেন’।

চলতি অর্থ বছরের মধ্যেই আরো নতুন ৬টি টয়লেট স্থাপন হবে বলেও জানান তিনি।

টিএসসির ওয়াশরুম

টিএসসির সুইপার অনিল বলেন,’আমি একা মানুষ এতগুলো টয়লেট একা পরিষ্কার করে কুলায় উঠতে পারিনা।

সবসময়ই ছাত্ররা, সাথে বাইরের মানুষ জন্মদিন পালন করে, বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে এলাকা নোংরা করে।

আমরা ৫ জন মাত্র লোক এগুলো পরিস্কার করবো নাকি টয়লেট পরিষ্কার করবো?’

এছাড়াও কিছু নেশাখোর টয়লেটে বসে নেশা গ্রহণ করে বোতল, ইনজেকশন সিরিঞ্জ, কাগজ টয়লেট এর প্যানে ফেলে প্যান জ্যাম করে।

‘নারীরা তাদের ব্যবহার করা বিভিন্ন নেপকিনগুলো পর্যন্ত টয়লেটের ভেতরে ফেলে।আমাকে এসব কিছু নিজের হাত দিয়ে বের করতে হয়’। জানান অনিল।

অনিল আরো জানান, ‘নির্দিষ্ট সময়ের ডিউটি নাই আমার । ২৪ঘন্টাই ডিউটি করতে হয় আমাকে । তবু কুলিয়ে উঠতে পারি না।’

 

আ-সা/ আজাদ