আমানুল্লাহ নোমান
আমানুল্লাহ নোমান

কোরবানী বর্জ্য ও আমাদের পরিবেশ

প্রকাশিত :৩১.০৮.২০১৭, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
  • আমানুল্লাহ নোমান
    ঈদুল আযহা ইসলাম ধর্মের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। নিসাব পরিমান সম্পদের অধিকারী প্রত্যেক মুসলমানের কোরবানী আদায় করা ওয়াজিব। কোরবানীকৃত পশুর মাংসের অধিকাংশ বিলিয়ে দিতে হয় গরীব দুঃখী ও আত্নীয় স্বজনদের মাঝে। গোশত খাওয়া দাওয়া থাকলেও মূলত ইসলাম এর মাধ্যমে মনের পশুত্ব ধ্বংস করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে।

মহান রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনে আমরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানী দেই। কোরবানীর মাধ্যমে আমরা মনের কালিমা, পাপ-পঙ্কিলতা ও যাবতীয় লোভ-লালসা বিসর্জন দিয়ে পরিচ্ছন্ন হতে চেষ্টা করি। মনের এই পরিচ্ছন্নতার সাথে সাথে এমন পরিচ্ছন্নতা কিন্তু বাইরের জগত তথা পরিবেশের জন্যও প্রয়োজন। ঈদের দিন বা তার পরবর্তী সময়ে সারাদেশে লাখ লাখ পশু কোরবানী হবে। এসব কোরবানীকৃত পশুর বর্জ্য, রক্ত ও নাড়িভুড়ি যদি সঠিক উপায়ে নিষ্কাশন না করা হয়, তবে তা হবে পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। দূষিত হবে বাতাস। বিষাক্ত জিবানুর কবলে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়বে অসংখ্য মানুষ। যত্র তত্র ফেলে দেয়া রক্ত ও উচ্ছিষ্টের কারনে পরিবেশ নোংরা ও দূষিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কোরবানীর আগে ও পরে রাজধানীসহ সারাদেশের শহর ও গ্রামে সৃষ্টি হয় মারাত্মক দূর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। পশুর বিষ্ঠা ও কোরবানী পরবর্তী বর্জ্য যত্রতত্র ফেলার কারণে এই অস্বস্থিকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক জায়গায় বিশেষ করে নদী তীরবর্তী এলাকায় বর্জ্য ও রক্ত নারিভুড়ি সরাসরি নদী বা খালের পানিতে ফেলা হয়, যা পানি দূষণের অন্যতম কারন হয়ে দাড়ায়। তাছাড়া খোলা জায়গায় রক্ত ও নাড়িভুড়ি ফেলার কারনে চরম দূর্গন্ধ সৃষ্টি হয়।

রক্তের মধ্যে সহজেই ক্ষতিকারক নানা ব্যকটেরিয়ার জীবানু জন্মাতে ও বংশবৃদ্ধি করতে পারে। পরিবেশে রোগজীবাণু বেড়ে যায় এবং মানুষ ও পশুপাখি সহজেই এসব জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হয়। কোরবানী করতেই হবে, তা আল্লাহপাকের বিধান। কিন্তু এ বিধান পালন করতে যেয়ে অন্যকে কষ্ট দেয়া যাবেনা। অন্যকে কষ্ট দিয়ে ইসলামী বিধান পালনের সুযোগ নেই। তাই ঈমানী দায়িত্ব কোরবানী পালন করতে যেয়ে আমরা অন্যায় কিছু যেন না করি। মহান আল্লাহ তায়ালা ও তার প্রিয় বন্ধু মহানবী (স.) সুন্দরকে ভালোবাসেন, গুরুত্ব দিতেন উত্তম পরিবেশকে। তিনি বলেছেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।” তাই পরিবেশকে সুন্দর রাখাও এবাদত। পরিবেশটা আমাদেরকে নিয়েই। এই পরিবেশের ভালোমন্দের সাথেই আমাদেরও ভালোমন্দ নির্ভর করে। তাই পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে।

কোরবানীর পূর্ব ও পরবর্তী সময়ের কিছু সচেতনতা পরিবেশ দূষনের হাত থেকে বাচতে পারে আমাদের। এ জন্য নির্দিষ্ট ও পরিষ্কার কোন স্থানে কোরবানী দিতে হবে। কোরবানীর পর ঐ স্থানের যাবতীয় বর্জ্য ও রক্ত পরিষ্কার করতে হবে। পশুর বর্জ্য, রক্ত বা নাড়িভুড়ি কোনভাবেই নদী, পুকুর বা খালের পানিতে ফেলা যাবে না। উম্মুক্ত কোন স্থান, রাস্তার পাশে, ক্ষেত খামারে, বা খাল বিলে ফেলা যাবেনা। এসব বর্জ্য সঠিক নিয়মে গর্ত করে মাটিচাপা দিতে হবে। বিশেষ করে শহরের ড্রেনে রক্ত ও নাড়ি ভুড়ি ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ও ময়লার ভ্যানে ফেলতে হবে।

ইদানিং জনগনের মাঝে সতর্কতা আগের তুলনায় বেড়েছে। তবে পর্যাপ্ত পরিমানে নয়। ঢাকায় র্নিদৃষ্ট স্থানে পশু কোরবানী দেয়ার বিষয়ে পরিবেশবাদীরা আন্দোলন করছে। উন্নত বিশ্বে এমনই নিয়ম। খোদ সৌদি আরবেও কেউ ইচ্ছেনুযায়ী যত্রতত্র কোরবানীর পশু জবাই করতে পাওে না। র্নিদৃষ্ট স্থানে যেয়ে পশু কোরবানী করে আনতে হয়। বাংলাদেশের সর্বত্র এমন হওয়া প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে পশু জবাই করার র্নিদৃষ্ট স্থানে ব্যবস্থা করে দেয়া উচিত। শুধু কোরবানী কেন, অন্যান্য সময়েও যাতে যত্রতত্র পশু জবাই না করা হয় সে বিষয়ে প্রশাসনের খেয়াল রাখা জরুরী। এতে পরিবেশ ভালো থাকবে। পরিবেশ ভালো থাকলে আমরা সবাই ভালো থাকবো।

আসুন আমরা কোরবানীর পশু জবাই বিষয়ে সতর্ক হই, সুস্থ ও সুন্দর রাখি আমাদের চারপাশের পরিবেশ।

লেখক: কলামিষ্ট

আ-সা/রবি/কলাম