রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশে ত্রাণ তৎপরতা বৃদ্ধি ইউনিসেফের - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশে ত্রাণ তৎপরতা বৃদ্ধি ইউনিসেফের

প্রকাশিত :০১.০৯.২০১৭, ৩:৪৩ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলে বন্যা দেখা দেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সহায়তায় এগিয়ে এসেছে ইউনাইটেড নেশনস চিলড্রেনস ফান্ড (ইউনিসেফ) ও তার সহযোগী বিভিন্ন সংস্থা।

এরইমধ্যে কক্সবাজারে বন্যাকবলিত এলাকায় বিভিন্ন সহায়তা দিয়েছে জরুরি সহায়তা দিয়েছে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি। সহায়তাপ্রাপ্তদের মধ্যে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন।

বন্যা বা যেকোনো মানবিক দুর্যোগের ক্ষেত্রে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ধকল সহ্য করে থাকে। এক্ষেত্রে তারা সহিংসতা, অপব্যবহার ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের শিকার হয়।

বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় ইউনিসেফ এসব শিশুদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতাসহ শিশু সুরক্ষা খাতে ধারাবাহিক ও জোরালো মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের কান্ট্রি ডিরেক্টর এডওয়ার্ড বেগবেডার।

ইউনিসেফ এবার অন্তত ১৫ লাখ বন্যাকবলিত মানুষকে সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে সহায়তা করছে। এসব মানুষের মধ্যে ইউনিসেফ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, স্বাস্থ্য সুরক্ষা পণ্য, বহনযোগ্য ক্যান ও ব্লিচিং পাউডার সরবরাহ করছে। এছাড়া দুর্গত এলাকা থেকে বন্যার পানি নেমে যেতেই ইউনিসেফ শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় সচলের জন্য কাজ করছে।

পাশাপাশি কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও কাজ করছে আন্তর্জাতিক এ সংস্থাটি। এরইমধ্যে রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের জন্য মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক সেবা দিতে ৮টি কার্যকরী শিশু-বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান তৈরি করেছে সংস্থাটি।

এছাড়া সংস্থাটি এসব শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণ ও ৯-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বর্তমানে এ অঞ্চলে ১৫ হাজার ২০০ মানুষকে নিরাপদ খাবার পানি ও ৯ হাজার ৭০০ মানুষকে স্যানিটেশন সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, সাম্প্রতিক সহিংসতার শিকার হয়ে বক্সবাজারে আসা রোহিঙ্গাদের ৮০ শতাংশই শিশু ও নারী। ফলে এদের জন্য ইউনিসেফের সেবার চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে সেখানে সহায়তা কার্যক্রম আরও জোরদার করেছ সংস্থাটি।

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদমূলক সেবার জন্য এরইমধ্যে ৩০টি কার্যকরী শিশু-বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান চালু করেছে ইউনিসেফ; যেখানে ১০০ রকমের স্বাস্থ্য সুরক্ষা পণ্য, শিক্ষা উপকরণ রয়েছে। সেইসঙ্গে রয়েছে প্রশিক্ষিত শিক্ষক। তারা ইতোমধ্যে নতুন আসা ২২৬ রোহিঙ্গা শিশুকে মনস্তাত্ত্বিক সেবা দিয়েছেন। এছাড়া শিশু-বন্ধুত্বপূর্ণ স্থান ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের প্রচারণার মাধ্যমে পৃথক এবং একা থাকা শিশুদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে বন্যাকবলিত অন্তত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষের সেবার জন্য ইউনিসেফের আর্থিক বরাদ্দ ছিল ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে সম্প্রতি কক্সবাজারে আসা রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যরা যোগ হওয়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এ সহায়তা তহবিলের পরিমাণ ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হচ্ছে।