ccd26fdbc2329787afa9ce60fa422c2b-59ac0424be6e5

ড্রামের ভেতর ৩৮ টুকরো লাশ: পরিচয় গোপন করে নেওয়া হয় বাড়ি ভাড়া

প্রকাশিত :০৩.০৯.২০১৭, ৮:২৯ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : আশুলিয়ার যে বাড়িটি থেকে শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) এক নারীর ৩৮ টুকরো লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, সেটি ভাড়া নেওয়ার সময় কোনও কাগজপত্র জমা দেননি ভাড়াটিয়া। সেসময় নিজেকে মজিদ নামে পরিচয় দেন তিনি। এই নামেই ঝিনাইদহের পরিচয় ব্যবহার করে জামগড়া এলাকার একটি টেইলার্সে কারিগর হিসাবে কাজ করতেন ওই ব্যক্তি। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের নিবন্ধনে রাজধানীর রামপুরার ঠিকানা রয়েছে। পুলিশের ধারণা, লাশ গুম করার জন্যই তথ্য গোপন করে বাড়িটির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন তিনি।

এ ব্যাপারে রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত নারীর লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী লাশ গুম করতে বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ ভাড়াটিয়া তার গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ বললেও তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরের নিবন্ধনের ঠিকানা রয়েছে রাজধানীর রামপুরায়।’

এ ব্যাপারে মজিদের আগের রুমমেট মেহেদী বলেন, ‘তাকে আমরা মজিদ নামেই জানতাম। তিনি বিবাহিত ছিলেন। বাড়ি ঝিনাইদহে। তিনি সত্য নাকি মিথ্যা বলেছেন তা জানি না। তিনি ৩০ আগস্ট টেইলার্স থেকে সব পাওনা হিসাব করে নিয়ে যান।’

রবিবার জামগড়া এলাকার মাসুদ রানার ওই বাড়িটিতে গিয়ে জানা যায়, বাড়ির ভেতরে ১০টি আলাদা আলাদা কক্ষ আছে। বাড়িটির কেয়ারটেকারের নাম হারুন। তিনি তার স্ত্রী লিমা ও সন্তানকে নিয়ে বাড়িটির তত্ত্বাবধান করতেন। বাড়ির মালিক মাসুদ রানা দেশে থাকে না। প্রবাসী মাসুদ রানার স্বজনরাও কেউ এখানে নেই।

নতুন কক্ষ ভাড়া নেওয়ার আগ এ কক্ষেই অবস্থান করেছেন অভিযুক্ত ভাড়াটিয়া

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাড়িটিতে কোনও ভাড়াটিয়াও ছিলেন না। ঈদ উদযাপনের জন্য কেয়ারটেকার হারুন পাবনাতে তার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ওই বাড়ির একটি কক্ষে থাকা ড্রামের ভেতর থেকে নারীর ৩৮ টুকরো লাশ উদ্ধারের পর পুলিশ তাকে খবর দেয়। এরপর তিনি আশুলিয়াতে চলে আসেন। রবিবার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

এর আগে  হারুন জানান, ভাই ভাই টেইলার্সে তিনি অবসর সময় আড্ডা দিতেন। টেইলার্সটি বাড়ি থেকে মাত্র একশ’ গজ দূরে। টেইলার্সের মালিক নূরে আলমের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের পরিচয়। মজিদ নামে এক ব্যক্তি ওই টেইলার্সের কারিগর হিসাবে দু’মাস আগে কাজ করতে আসেন। কারিগর মেহেদীর সঙ্গে তিনি একই রুমে থাকতেন। তখন এক রুমে মেহেদী, মজিদ ও রফিকুল তিনজন থাকতেন। আগস্টের ২৮ তারিখ মজিদ জানায় যে, তিনি তার স্ত্রী নিয়ে আসবেন, তাই একটা রুম দরকার। তখন এই বাড়ির একটি রুম ভাড়া নেন তিনি। তখন তার কাছে কাগজপত্র চাইলে তিনি পরে দিবেন বলে জানান। এরপর তাকে কক্ষটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ৩০ আগস্ট জিনিসপত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে ওই কক্ষে ওঠেন মজিদ। এসময় তিনি কয়েকটি ড্রামও আনেন।

মজিদকে রুমে তুলে দিয়ে ঈদ করার জন্য কেয়ারটেকার হারুন স্ত্রীকে নিয়ে পাবনাতে চলে যান বলেও জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে ভাই ভাই টেইলারের মালিক আলম জানান, জুলাই মাসের ২৪ তারিখ থেকে মজিদ তার দোকানে কাজে যোগ দেয়। এখানে তার কেউ না থাকায় দোকানের বিপরীতে বুলবুলের বাড়িতে অপর এক কর্মচারীর সঙ্গে মজিদের থাকার ব্যবস্থা করে দেন তিনি। ওই কক্ষে মজিদের সাথে কারিগর মেহেদী ও অপর এক যুবক রফিকুল থাকতেন। ৩১ আগস্ট দুপুরের আগেই পাওনা বুঝে নিয়ে চলে যায় মজিদ। এর আগে তাকে কখনোই তারা দেখননি বলেও দাবি স্থানীয়দের।

এরপর শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে বাড়িটির একটি কক্ষ থেকে গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। তখন তারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে দরজার তালা ভেঙে ড্রামটি উদ্ধার করেন। ড্রামের মধ্য থেকে এক নারীর লাশের ৩৮টি টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ।