kamrul

ব্রিটিশ মিডিয়ায় জননেত্রী শেখ হাসিনা ‌’দ্য মাদার অব হিউম্যানিটি’

প্রকাশিত :১৪.০৯.২০১৭, ৪:০১ অপরাহ্ণ

কামরুল হাসান

রোহিঙ্গারা মায়ানমারের আরাকান রাজ্যের মুসলিম জাতি। তবে বার্মার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী শাসক গোষ্ঠীরা কখনও তাদের সাধারণ জীবনযাপন করার স্বীকৃতি দেননি। না সামরিক শাসক, না শান্তি পুরস্কার প্রাপ্ত অং সান সু চির শাসক।

এদিকে, বৌদ্ধরা মহাগৌরব নিয়ে দাবি করেন পৃথিবীতে শান্তির ধর্ম বলতেই আছে শুধু বৌদ্ধ ধর্ম। আর তাদের মহান বাণী হচ্ছে- ‘জীব হত্যা মহাপাপ।’

কিন্তু সেই মহান বাণীর বলিয়ান হয়ে তারা আজ বিশ্বকে দেখাচ্ছে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। যদিও তিব্বতের দালাইলামা বলে গেছেন, ‘পৃথিবীতে যদি কখনো বৌদ্ধদেব ফিরে আসতো তবে রোহিঙ্গাদের রক্ষা করত’।

মায়ানমারে নির্বিচারে নারী ধর্ষণ, লোমহর্ষক শিশু হত্যা, যা শত ভাগ মানবাধিকার লঙ্ঘন। আর রোহিঙ্গারা বাঁচার জন্য আশ্রয় নিচ্ছে বাংলাদেশে। প্রাণ বাঁচাতে বর্ষার ঢলের মতো  এগিয়ে আসছে সবাই তাদের দুঃখের ভার ঘোচাতে।

কিন্তু শুধুমাত্র বাঁচার জন্য সাহায্য করলেই কি দায়িত্ব শেষ? তারা কি বাকি জীবন শরণার্থী হিসাবে বেঁচে থাকবে? যেখানে থাকবে না তাদের কোন মৌলিক অধিকার?

বাংলাদেশের শরণার্থী ক্যাম্পে জন্মগ্রহণকারী কোন এক নবজাতক শিশু একদিন যখন কথা বলতে শিখবে, যখন সে দেখবে তার জীবনযাত্রা শুধু মাত্র পাখির খাঁচায় বন্দি। একটি নির্দিষ্ট জায়গার মধ্যে সীমাবদ্ধ। তখন তারা তাদের মা বাবার কাছে প্রশ্ন করবে- আমরা বন্দি কেন? আমার দেশ কোথায়? আমার মাতৃভূমি কোথায়? আমার ভাষা কি? আমি শরণার্থী কেন? আমি লেখা পড়া করতে পারছি না কেন? আমি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, শিক্ষক কিছুই হতে পারছি না কেন? আমি সভ্য না কেন? তখন হয়তো তার মা বাবা রূপ কথার গল্পের মত করে তাদের দেশের শাসক বাহিনীর সেই জঘন্যতম করুন ইতিহাস শোনাবে।

ইতিহাস শোনার পর সন্তান যখন দীর্ঘশ্বাস ফেলে পুনরায় জিজ্ঞেস করবে, তোমরা যে বাঁচার জন্য পালিয়ে এসেছিলে কাপুরুষের মত, এতে কি লাভ হল? এখানে তো আমরা জিন্দা লাশের মত বেঁচে আছি! এই স্বাধীনতাহীন বাঁচার কোন অর্থই থাকতে পারে না! দেশের একজন সু-নাগরিক হিসাবে আমিও তাই বলি জিন্দা লাশ বানিয়ে স্বাধীনতাহীন রোহিঙ্গাদের লালন পালন করার চেয়ে আমাদের ভাবা উচিত তাদেরকে বাঁচার মত করে বাঁচতে দেওয়া। এবং তাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া। তাদের মধ্যে দেশের প্রতি ভালবাসা কিংবা দেশপ্রেমিক করে গড়ে তোলা। শুধু তাই নয় তাদের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টি করতে হবে যে, বাঁচতে হলে প্রয়োজনে লড়াই করে বাঁচতে হবে। যেমনি ভাবে আমরা বাঙ্গালিরা ১৯৫২ সালে আমাদের মাতৃভাষাকে ছিনিয়ে এনেছি বুকের তাজা রক্ত দিয়ে  কিংবা ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি।

তাদের বুঝাতে হবে যে, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বাঙালিরা অনেকেই আশ্রয় নিয়েছিল বার্মায়, অনেকেই আশ্রয় নিয়েছিলো ভারতে। কিন্তু কেউ স্থায়ীভাবে শরণার্থী হয়ে থাকেনি। কেউ কেউ স্ব স্ব অবস্থান থেকে যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে। এবং যারা আশ্রিত ছিল তারাও স্বাধীন হওয়ার পরে দেশে ফিরে এসেছে।

আর যে কথাটি সত্য সেটা হলো, সেই যুদ্ধে আমেরিকাসহ আর ও অনেক শক্তিশালী দেশ পশ্চিমা শাসক গোষ্ঠির পক্ষে থাকা সত্ত্বেও বাঙালীরা যে, জিতবে কেউ কল্পনাও করেনি। কিন্তু আমরা বিশ্বকে হতবাক করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনে দেখেয়েছি। ইতিহাস কিছু দিতে পারে না তবে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হয়।

আর সেই বিশাল অর্জন করার কারণ হচ্ছে- আমরা স্বাধীন হয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম সেদিন। আমরা চাইনি কারো গোলামীর অধীনে থাকতে। আমাদের প্রিয় নেতা বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা শেখ মুজিবুর রহমান সাহস যুগিয়েছিলো সেদিন। এই মনোবল এবং দৃঢ় চেতনার বলিয়ানে জয় করেছি বাংলাদেশ।

অন্যদিকে এই রোহিঙ্গারা যারা প্রাণ বাঁচার জন্য নিজেদের মাতৃভূমি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে তাদের চিন্তা চেতনা অন্যরকম ভীরু কাপুরুষের মত। তাদের মনের বাসনা হচ্ছে আজীবন বাংলাদেশের ঘাড়ে চেপে বসবে, দেশি বিদেশী সাহায্যকারীদের কাছ থেকে খেয়ে খেয়ে বাহু বড় করবে আর ডজন ডজন বাচ্চা নিবে। বড় বিচিত্র ভাবনা হবে তাদের।

আর্থিক স্বচ্ছলতা যখন থাকবে না তখন চুরি করবে, ডাকাতি করবে, হাজার টাকায় মানুষ খুন করবে, মাদক ব্যবসায় একাকার হয়ে যাবে, জঙ্গিবাদের উত্তান ঘটাবে শেষ পর্যন্ত আমাদের সোনার সবুজ বাংলাকে করবে কলঙ্কিত। তাই এই মুহুর্তে সকল মানবতাবাদী দেশের উচিত হবে বাংলাদেশের পাশে থেকে তাদেরকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া।

পাশাপাশি তাদেরকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত করা, তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে পাওয়ার জন্য, স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করার জন্য অনুপ্রেরণার যোগান।

সাহসী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে নিজের মাতৃভূমিতে বসবাস করতে প্রয়োজনে পাঠিয়ে দেওয়া। তাদের বুঝাতে হবে যে, বাধা দিলেই বাধবে লড়াই। রক্ত ছাড়া কখনো স্বাধীনতা ও নাগরিকত্ব আসে না তা বুঝতে হবে। প্রতিবাদ প্রতিঘাত ছাড়া কখনো সাহস তৈরি হয় না।

অন্যদিকে দৃষ্টিপাত করছি, দেশরত্ন মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করিতেছি যে, কোন মূল্যে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করতে হবে আবার যে কোন মূল্যে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হবে।
তা না হলে যে স্বাধীনতা নিয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করে বাংলাদেশ আজ যে ভাবে উন্নতির ধার প্রান্তে গিয়ে পৌঁছেছে, এই রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ঠিক ততটুকু আবার নামিয়ে দিতে পারে।
রোহিঙ্গাদের নির্দিষ্ট জায়গায় রেখে বিজিবি বা আর্মি কতৃক নিবন্ধন করে। উখিয়া টেকনাফের স্কুল কলেজ থেকে ক্যাম্প সরাতে হবে, না হয় দেশের ছেলে মেয়েদের শিক্ষার ক্ষতি হবে। খেয়াল রাখতে হবে রাখাইনদের মূল ব্যবসা অস্ত্র আর মাদক। শরণার্থী হলেও রোহিঙ্গারা বিষধর সাপের মতো যখন প্রবেশ করেছে এখন গোখরা সাপের মতো বাক্সে ভরিয়ে রাখাই নিরাপদ মনে করছি।

রোহিঙ্গারা পর্যটননগরী কক্সবাজারকে নষ্ট করে দিতে ১৩ মিনিট সময়ও লাগবে না। সেদিকে প্রশাসনের নজর প্রত্যাশা করছি। বেশির ভাগ খবরে ভুয়া ছবি, যেমন মুক্তিযুদ্ধকাল, ইতালি, সিরিয়া, সুদান, ইথিওপিয়, নাইজেরিয়া, কলম্বিয়ার নির্যাতনের ছবি। যা হোক নির্যাতিত না হলে কেউ জন্মভূমি ত্যাগ করে না।

সরকার জায়গা দিয়েছে বলে আজ ব্রিটিশ মিডিয়া জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দ্য মাদার অফ হিউম্যানেটি’ উপাধিতে ভূষিত করেছে। তার আর নোবেল পুরস্কারের প্রয়োজন নেই। নোবেল মায়ানমারে শান্তি আসেনি, শান্তির সূত্র মানবতা, সেটা ভুলে গেছে সু চি।

নোবেল জয়ী সু চির পরাজয়, দেশরত্ন শেখ হাসিনার জয়। রোহিঙ্গা নয়, মুসলিম নয়, মানবতার পাশে দাড়িয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন জাতির জনকের কন্যা চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থে ভূষিত, সাউথ সাউথে অলংকৃত বিশ্বনন্দিত নেত্রী শেখ হাসিনা।

দেশহীন, গ্রামহীন স্বাধীনতাহীন অভাবী রোহিঙ্গাদের কাজে লাগাতে পারে উৎপেতে থাকা দেশী-বিদেশী মহাপাপীরা। আমরা চাই তাদের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায়। জয় হোক রোহিঙ্গাদের। জয় হোক আরাকানদের। জয় হোক মানবতাবাদের। জয় হোক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। আমরা শোষক শাসকের পক্ষে নয়, শোষিতের পাশে নির্যাতিত জনতার অধিকারের পাশে।

লেখক: কলামিস্ট ও জনপ্রতিনিধি, মহেশখালী, কক্সবাজার।