Rohigga chlild

রোহিঙ্গারা শিশুরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়

প্রকাশিত :১৮.০৯.২০১৭, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৌলিক প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আর এভাবে চলতে থাকলে পরিস্থিতি ক্রমেই আরও খারাপের দিকে যাবে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।

আজ এক বিবৃতিতে এ কথা জানায় সংস্থাটি।

বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১ হাজার ১০০ জনের বেশি শিশু এসেছে বিচ্ছিন্ন বা নিঃসঙ্গ অবস্থায়। বাংলাদেশে পালানোর সময় এদের কেউ কেউ পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এদের অনেকেই বৃষ্টিতে ভিজে ও কাঁদা মাড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। আর কেউ কেউ সহিংসতায় মা-বাবা খুন হওয়ায় এতিম হয়ে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্ক পিয়ের্স বলেন, ‘বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের কষ্ট ও দুর্দশার ভেতরে আরেক মারাত্মক সমস্যা হলো শিশুদের নিরাপত্তাসংকট। আমরা দেখছি, অনেক শিশু একা এখানে পৌঁছেছে। তাদের জরুরি ভিত্তিতে সাহায্য প্রয়োজন।’

মার্ক পিয়ের্স বলেন, ‘বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুরা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই শিশুদের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি এই শিশুদের পাচারের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক শিশুর বিভিন্ন পর্যায়ের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘শিশুদের কেউ কেউ সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী। এই শিশুদের কাউকে কাউকে লক্ষ্য করে গুলিও ছোড়া হয়েছে। আবার কোনো শিশুর সামনেই তাদের মা-বাবাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। বিভীষিকাময় পরিস্থিতির অভিজ্ঞতার কারণে এই শিশুদের মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া বিষয়টি মানবিক সাহায্যে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।’

মার্ক পিয়ের্স বলেন, কক্সবাজারে যে মাত্রায় রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে, তা অভাবনীয়। এতে করে মানবিক সাহায্য সংস্থা ও স্থানীয় সম্প্রদায় ব্যাপক চাপের মধ্যে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বিশেষ চিন্তিত এই ভেবে যে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বাড়ায় মৌলিক প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মৌলিক প্রয়োজন যদি মেটানো সম্ভব না হয়, তবে পরিস্থিত আরও খারাপ হবে এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটবে।’

জাতিসংঘের সংস্থাগুলো বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশটিতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। এর মধ্যে শিশুদের সংখ্যা দাঁড়াবে ছয় লাখে।