adalot

গণ-আদালতে মিয়ানমার সরকার দোষী সাব্যস্ত

প্রকাশিত :২২.০৯.২০১৭, ৩:১৪ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক : রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যার অপরাধে মিয়ানমার সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করা হলো আন্তর্জাতিক গণ-আদালতে। পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনালের সাত সদস্যবিশিষ্ট প্যানেল আজ শুক্রবার এই রায় ঘোষণা করেন।

সহিংসতার শিকার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা, কাচিন ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ২০০ জনের সাক্ষ্য এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে এই রায় দেওয়া হয়।

কুয়ালালামপুরের মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদে আর্জেন্টাইন ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব জেনোসাইড স্কলারসের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিচারক দানিয়েল ফিয়েরেস্তেইন রায় পড়ে শোনান।

আর্জেন্টাইন বিচারক দানিয়েল বলেন, মিয়ানমার সরকার গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতার বিরুদ্ধে করা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, মিয়ানমারে থাকা কাচিন এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালানোর অপরাধে সে দেশের সরকারকে দোষী সাব্যস্ত করে রায় দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পাশাপাশি পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল ১৭টি সুপারিশ করেছে। অস্ট্রেলিয়ার সিডনির মেকুইয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক প্রধান বিচারক গিল এইচ বোয়েরিঙ্গার কয়েকটি সুপারিশ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা, কাচিন ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অনুসন্ধানের জন্য জাতিসংঘের তথ্য অনুসন্ধান দলকে অবশ্যই সে দেশে ভিসা এবং সহজে প্রবেশাধিকার দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার সরকারকে অবশ্যই সংবিধান সংশোধন করতে হবে। নিপীড়িত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি বৈষম্যমূলক আইনের সংস্কার করতে হবে। তাদের অধিকার ও নাগরিকত্ব দিতে হবে।

বিচারক গিল এইচ বোয়েরিঙ্গার আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশ যেমন বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়াকে অবশ্যই আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের অনুসন্ধান থেকে পাওয়া তথ্য, বিচার এবং সুপারিশ অবশ্যই আন্তর্জাতিক মহল এবং মানবাধিকার দলকে জানানো হবে যাতে সেগুলো মেনে চলার জন্য তারা মিয়ানমার সরকারকে চাপ দিতে পারে।

রায়ের পর ট্রাইব্যুনালের সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি ও মালয়েশিয়ার স্বনামধন্য চিন্তাবিদ ও বুদ্ধিজীবী চন্দ্র মোজাফফর অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই রায় মিয়ানমার সরকারের অপরাধ চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের তথ্য অনুসন্ধান এবং বিচারকে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে আসিয়ান, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার কারণে ২৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত সোয়া চার লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মালয়েশিয়া। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা মুসলিমদের মানবিক ত্রাণ দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না।

১৯৭৯ সালে ইতালিতে ৬৬ আন্তর্জাতিক সদস্য নিয়ে দ্য পারমানেন্ট পিপলস ট্রাইব্যুনাল (পিপিটি) প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মানবাধিকার এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত অনেক মামলা নিয়ে ৪৩টি অধিবেশন হয়েছে এই ট্রাইব্যুনালে। পিপিটি ষাটের দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পটভূমিতে প্রখ্যাত ব্রিটিশ দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের ধারণায় প্রতিষ্ঠিত। দ্য স্টার অনলাইন অবলম্বনে।