ডা. জাকির হোসেন।
ডা. জাকির হোসেন।

মাধবী কেন পরাজয় মেনে নিবে তুমি?

প্রকাশিত :০২.১০.২০১৭, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
  • ডা. জাকির হোসেন
    মাধবী সাহার মা-বাবা গত হয়েছে ছোটবেলায়। বড় ভাই নিখিল সাহার কাছে মানুষ হয়েছে মাধবী। নিখিল সাহা লেখাপড়া শেষ করে যুব উন্নয়নের কর্মকতা হিসেবে কর্মরত। ছোট ভাই বোনকে পড়ালেখা শিখিয়েছেন। বোনটিকে সুপাত্রস্থ করার জন্য হন্ন হয়ে পাত্র খুঁজছেন নিখিল সাহা। কারণ সংসারে তার স্ত্রীর চক্ষশূল হলো তার আদরের বোনটি।

পরিচিত মহলে খোঁজ করতে করতে এক সময় ভাল পাত্রের সন্ধানও পেয়ে যান। পাত্র রণজিত বিশ্বাস লেখাপড়ায় তার বোন থেকে কম যোগ্যতা সম্পন্ন হলেও ডিসি অফিসে সরকারি চাকরি করেন। মাস শেষে বেতনের চেয়ে উপরি উপার্জন বেশি।

ভাইয়ের পছন্দের উপর আস্থা রাখেন মাধবী। শুরুতে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে এক ধরনের খারাপ লাগা থাকলেও নিজেকে অবলা ভেবে বিয়ের পিঁড়িতে বসে যান। যৌতুক হিসেবে পাত্রের হাতে নগদ টাকাসহ ১০ লাখ টাকার মূল্যবান সামগ্রী তুলে দেন নিখিল সাহা।

নিজের অজান্তেই নতুন সঙ্গীর জন্য এক পৃথিবী সমান স্বপ্নের জাল বুনেছেন। যথারীতি ধুমধাম করে নিখিল তার বোনের বিয়ে হিন্দু রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন করেন। ভাইয়ের সংসার ছেড়ে নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মাহসিকতায় মাধবী নিজেকে স্থির করেন। কিন্তু ভাগ্য জীবনের সবচেয়ে বড় আবেগের রাতে তার সঙ্গে প্রতারণাটি করল। বাসর রাতে রণজিত তার কাছে আসে। কিন্তু কিছু একটা সমস্যা বুঝতে পারে মাধবী। আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত মাধবী ধরে নেয় ‘প্রথম অভিজ্ঞতা’ তাই হয়তো সে নার্ভাস। মাধবী তাকে সহজ করতে চেষ্টা করে। কিন্তু সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। ধরে নেয় পরে ঠিক হয়ে যাবে।

ক’দিন পর রণজিতকে বোঝায় চিকিৎসককের কাছে যাওয়ার জন্য। রাজি হয় না রণজিত কোনভাবেই। বাড়ির সবাই তাকে অপয়া বলে যখন অপবাদ দিতে থাকে মাধবীর তখন বিব্রত হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না। মাধবী কোন উপায় খুঁজে পায় না। শেষ পর্যন্ত রণজিতের খালাত ভাই যে আমার চিকিৎসক জীবনের বন্ধু সেই ডা. অসীম সাহার সন্ধান পায়। অসীম মাধবীর স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করে, সঙ্গে আমাকেও নিয়ে যায়। কিন্তু তাকে চিকিৎসায় আনতে আমরা দু’জনই রাজি করাতে ব্যর্থ হই।

আমার বন্ধু রণজিতের পরিবারে সঙ্গে কথা বলে। পরে সে আমাকে নিয়ে মাধবীর বড় ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করলে সব ঘটনা জানা যায়। বন্ধু অসীম তার নিজের পকেট থেকে একটি ১ লাখ টাকার চেক মাধবীর নামে তার ভাইয়ের হাতে দিয়ে বলল, ভাই এখন যদি আপনি বউদিকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিতেন। হয়তো সে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখত।

মাধবীর বড় ভাই অসীমের হাত ধরে কেঁদে ফেলেন। আমি নিজেও নিজেকে আর ধরে রাখতে পারিনি। অবশেষে অনেক চেষ্টায় মাধবীর জন্য একটা সরকারি চাকরির ব্যবস্থা হয়। কাজে যোগদান করে মাধবী এসেছিল দেখা করতে। মিষ্টি খাইয়ে গেছে। যাওয়ার সময় মাধবীর কান্নায় আমরাও ধরে রাখতে পারিনি নিজেদের। শুধু বলেছিলাম, মাধবী আপনাকে হেরে গেলে চলবে না। জিততেই হবে। মনে রাখবেন, জীবন শেষ পর্যন্ত জিতে যাওয়াই।

লেখক: চিকিৎসক ও কলামিস্ট

আজ সারাবেলা/রবি/কলাম