rohigga

রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরলে বন্দিদশায় পড়তে পারেন : জাতিসংঘ

প্রকাশিত :১২.১০.২০১৭, ১২:৫০ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়ানোর পাশাপাশি তাদের ঘর, শস্য ও গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা এই জনগোষ্ঠীর সেখানে ফিরে যাওয়া ঠেকাতে করা হয়েছে বলে মনে করছে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান জ্যোতি সাংঘেরা বুধবার রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা বন্ধের জন্য মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি আহ্বান জানান। রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরলে তারা বন্দিদশায় পড়তে পারেন বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘গ্রামগুলো যদি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয় এবং তাদের জীবিকার সম্ভাবনা নষ্ট করা হয়, তাহলে আমাদের ভয় হয় যে, তাদের বন্দি করা বা ক্যাম্পে আটকানো হতে পারে।’

মিয়ানমার সেনাবাহিনীর তাড়া খেয়ে গেল মাসে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে তৈরি করা এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৫ অাগস্ট মিয়ানমারের পুলিশ পোস্টে বিদ্রোহীদের হামলার আগে থেকেই সেখানে ‘তাড়ানোর অভিযান’ শুরু হয় এবং তাতে হত্যা, নির্যাতন ও শিশুদের ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটানো হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার যাইদ বিন রাআদ আল-হুসেইন এক বিবৃতিতে বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে কাজ করেছে, তা ফেরার সম্ভাবনা না রেখে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জোর করে স্থানান্তরের কৌশল বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রোহিঙ্গাদের সম্পদ ধ্বংস, তাদের বসত বাড়ি এবং উত্তর রাখাইনের সব গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার কথা বলা হয়েছে ওই প্রতিবেদনে।

‘এটা শুধু তাদের তাড়ানোর জন্য নয়, পালিয়ে যাওয়া রোহিঙ্গারা যাতে তাদের বাড়িতে ফিরতে না পারে সেজন্য এটা করা হয়,’ বলা হয়েছে এতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায়ই সশস্ত্র রাখাইন বৌদ্ধদের সঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গাদের ঘর-বাড়ি, জমি, সংরক্ষিত খাবার, শস্য ও প্রাণিসম্পদের যে ক্ষতি করেছে তাতে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ‘প্রায় অসম্ভব’ হয়ে পড়েছে।

লক্ষ্য অর্জনে ‘পরিকল্পিত, সমন্বিত ও যথাযথ পদ্ধতি’ অনুসরণ করে মিয়ানমারের নিরাপত্তা এই অভিযান চালিয়েছে। এক মাস আগেই ৪০ বছরের কম বয়সী রোহিঙ্গাদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তা শুরু হয়েছিল।

গত ১৪ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা ওই প্রতিনিধি দলের প্রধান টমাস হানেকে বলেন, ‘সেখানে গণহত্যা হয়েছে কি না সে বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর মতো অবস্থায় আমরা ছিলাম না। কিন্তু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তা কোনোভাবে কম গুরুতর নয়।’

আহত রোহিঙ্গাদের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরা ঠেকাতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সীমান্ত বরাবর মাইন পুঁতেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মহলের নিন্দা ও চাপ অব্যাহত থাকলেও রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতা থামেনি।

সোমবারই বাংলাদেশে ১১ হাজার রোহিঙ্গা প্রবেশের কথা তুলে ধরে জ্যোতি সাংঘেরা বলেন, ‘এতে স্পষ্ট বোঝা যায়, একটা মাত্রায় উচ্ছেদ, বাস্তুচ্যুত, পালাতে বাধ্য করা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।’

জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে রাখাইনের রাথেডং এলাকার ১২ বছরের একটি মেয়ের বক্তব্যে সেনাবাহিনীর নির্মমতার চিত্র উঠে এসেছে।

সে বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী তাদের বাড়ি ঘিরে গুলিবর্ষণ শুরু করে।

‘এটা ভয়ানক অবস্থা ছিল-আমার সামনে আমার বোনকে তারা গুলি করে। তার বয়স ছিল সাত বছর। সে কাঁদতে কাঁদতে আমাকে পালাতে বলে।

‘আমি তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করি, কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় আমাদের কোনো চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ ছিল না। তার এত রক্তক্ষরণ হয়েছিল যে পরদিন মারা যায়। আমি নিজে তাকে কবর দিই।’

মা, চার ভাই এবং এক মাস আগে কারান্তরীণ বাবার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানে না মেয়েটি।

সূত্র: রয়টার্স।