ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে : অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :০১.১১.২০১৭, ২:৩০ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা যোগ করেন। যা আজ আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেশে আইসিটি খাতে অভাবনীয় উন্নতি হয়েছে। ফলে জ্ঞান আহরণ এখন অনেকটা সহজ হয়েছে বলেছেন, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

বুধবার (১ নভেম্বর) ঢাকায় শুরু হওয়া জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (এসকাপ) এর এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ে (এপিআইএস) এর স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে দুই দিনব্যাপী এই অধিবেশনের উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী।
মুহিত বলেন, এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপার হাইওয়ের (এপিআইএস) স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম অধিবেশন আজ (বুধবার) ঢাকা থেকে শুরু হলো। আশা করি, এ অধিবেশনের মাধ্যমে এশিয়ান সুপার হাইওয়ের কানেক্টিভিটি বাড়াতে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা পাওয়া যাবে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে কানেক্টিভিটি যত বাড়বে এ অঞ্চলের দারিদ্রের হারও তত কমবে।

সভাপতির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, আজ আমি সত্যিই আনন্দিত। আমি সৌভাগ্যবানদের একজনও বটে। ভাবতেই ভালো লাগছে যে, আমি এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে আইসিটি ব্যাকবোনকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব করেছিলাম। এসকাপ কমিটি অন আইসিটি আমার সে প্রস্তাব গ্রহণ করার মাধ্যমে এশিয়া প্যাসিফিক ইনফরমেশন সুপারহাইওয়ে (এপিআইএস) উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং বাংলাদেশকে এই এপিআইএস-এর ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি নির্বাচিত করে।

অতিথির বক্তব্যে ইউএনএসকাপ-এর প্রোগ্রাম ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং এর ডেপুটি এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি হং জো হাম বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বিশ্বের কাছে অনুকরণীয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণা অনেক দেশই গ্রহণ করছে। ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে রাইজিং স্টারে পরিণত হয়েছে।

এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক স্বাগত বক্তব্যে বলেন, এপিআইএস-এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে তা মাথাপিছু ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারী স্বল্পোন্নত দেশের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে মাথাপিছু ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাবে এবং তা জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

অধিবেশনে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সভাপতিত্বে রোড ট্রান্সপোর্ট ডিভিশনের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মোফাজ্জল হোসাইন, এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি ও আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী, ইউএনএসকাপ এ বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও থাইল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাইদা মুনা তাসনিমসহ দেশ-বিদেশি প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এপিআইএস এর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে স্টিয়ারিং কমিটির এই অধিবেশনে জাতিসংঘের এসকাপভুক্ত ৫৬ দেশের প্রতিনিধিসহ দেশি-বিদেশি শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছে। অধিবেশনে এপিআইএস-এর মহাপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত কানেক্টিভিটি, ইন্টারনেট ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট, ই-রেসিলিয়েন্স এবং ব্রডব্যান্ড ফর অল -এ চারটি স্তম্ভ এবং মধ্যবর্তী মেয়াদে (২০১৬-১৮) বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

২০১৬ সালে আগস্টে চীনের গুয়াংজুতে এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় সভায় বাংলাদেশকে এক বছরের জন্য ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে নির্বাচন করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক বনমালী ভৌমিক এপিআইএস ওয়ার্কিং গ্রুপের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।