নুহাশপল্লীতে হুমায়ূনকে স্মরণ

প্রকাশিত :১৩.১১.২০১৭, ৩:১৭ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ৬৯ তম জম্মবার্ষিকীতে ফুল দিয়ে গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় চলছে ভক্তদের শ্রদ্ধা নিবেদন। প্রিয় লেখকের জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুরের নুহাশপল্লীতে কেক কাটা, মোমবাতি প্রজ্জ্বলনসহ নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি। তার স্মৃতি আর ব্যবহৃত জিনিসপত্র সংরক্ষণে নুহাশপল্লীতে জাদুঘর নির্মাণের কথা বলছেন হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন।

শীতের কুয়াশা মাড়িয়ে সোমবার সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন হুমায়ূন ভক্তরা। আস্তে আস্তে নুহাশপল্লী হুমায়ূন ভক্তদের পদচারণায় ভরে যায়। কেউ সাইকেলে আবার কেউ বাসে চড়ে আসেন। হলুদ পাঞ্জাবি পড়া হিমু পরিবারের সদস্যরাও এসেছেন। কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিকসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তারা।

স্বামীর জন্মদিন পালনের জন্য মেহের আফরোজ শাওন তার দুই পুত্র সন্তান নিষাদ ও নিনিতকে সঙ্গে নিয়ে নুহাশপল্লীতে আসেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি হুমায়ুন আহমেদের কবরে ফুল দেন।

মরহুমের পরিবার পরিজনের পাশাপশি ভক্তদের অনেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসেন সকাল থেকেই। সাইকেলযোগে নুহাশপল্লীতে এসে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন গাজীপুরের হিমু পরিবারের ৩০ সদস্য। এছাড়া নুহাশপল্লীর কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় হুমায়ূন আহমেদের লেখা ও বই বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদের দাবি জানান তার অনেক ভক্ত। লেখকের প্রতি ভালোলাগা ও ভালোবাসার প্রেরণা থেকে তারা এখানে এসেছেন বলে জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হুমায়ূন আহমেদের বাস ভবনের সামনে তার ৬৯তম জম্মদিনের কেক কাটা হয়।

সেখানে হুমায়ূন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন জানান, সারাদেশের মানুষ হুমায়ূন আহমেদকে যেভাবে স্মরণ করে তাতে আমাদের খুব ভাল লাগে। মনে হয় বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে আমাদের হুমায়ূন সবার আদরের হুমায়ূন। হুমায়ূন আহমেদের প্রচুর ব্যবহৃত জিনিস, হাতে লেখা স্ক্রিপ্ট, বই আছে। আমার মনে হয়, এগুলো সংরক্ষণের দরকার। আমার ইচ্ছে, নুহাশপল্লীতে একটি জাদুঘর করব। বিষয়টি নিয়ে আমি পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেছি। তার প্রতি ভালবাসা ও স্মৃতি সংরক্ষণে পারিবারিক সম্মতিতে শিগগির নুহাশপল্লীতে হুমায়ূন স্মৃতি জাদুঘরের কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

নুহাশপল্লীর ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বুলবুল জানান, হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে নুহাশপল্লীতে রাতে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। এছাড়া দিবসটি পালনের জন্য কেককাটা, শিল্পকর্ম প্রদর্শন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ দিনব্যাপী নানা আয়োজন করা হয়েছে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। তার বাবা ফয়েজুর রহমান ও মা আয়েশা ফয়েজ। ২০১২ সালে ১৯ জুলাই মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তিনি নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান।