ঠাণ্ডার সমস্যা কমাবে যে খাবারগুলো …

প্রকাশিত :১৬.১১.২০১৭, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
  • আবহাওয়া বদল ও শীতের প্রকোপের এই সময়টাতে কমবেশী সকলের ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, প্রায় ২০০ টি ভিন্ন ভাইরাস ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা তৈরি করতে কাজ করে থাকে। তার মাঝে Rhinovirus সবচাইতে বেশী ছড়িয়ে থাকে। যার ফলে, সাবধান থাকার পরেও ঠাণ্ডার হাত থেকে রেহাই মেলে না যেন! ঠাণ্ডা লাগা মানেই সর্দি, হাঁচি, কাশি, গলা ব্যথা, মাথা ব্যথা, জ্বর জ্বর ভাব ইত্যাদি। এতো সকল সমস্যা একসাথে দেবার ফলে শরীরও খুব দূর্বল হয়ে পড়ে। ঠাণ্ডার এই লক্ষণগুলো ২-১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়ে থাকে মানুষ বিশেষে। ঠাণ্ডার এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবার জন্যে একদম ঘরোয়া সমাধানের জন্য দারুণ কিছু খাদ্য উপাদান রয়েছে। আজকের ফিচার থেকে জেনে নিন এমই কিছু দারুণ উপাদানের নাম।

মিষ্টিকুমড়ার বিচি
মিষ্টি কুমড়ার বিচিতে রয়েছে অনেক উচ্চমাত্রার জিঙ্ক। যা ঠাণ্ডার স্থায়িত্বকাল কমিয়ে আনতে সাহায্য করে। এছাড়াও মিষ্টি কুমড়ার বিচি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করে থাকে। সবচাইতে বড় ব্যাপার হলো, এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা নতুন করে ঠাণ্ডা লাগা থেকে প্রতিরোধ করে।

রসুন
রসুন তার অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমুহের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। বহু বছর ধরেই, ঠাণ্ডার সমস্যা দূর করতে রসুন ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রসুনে রয়েছে Allicin, যেটা এক ধরণের সালফিউরিক উপাদান। যা বিশেষ এক ধরণের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তৈরি করে ঠাণ্ডার সমস্যায় ওষুধের মতো কাজ করে।

orange

কমলালেবু
কমলালেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, যা বিভিন্ন ধরণের ভাইরাল ইনফেকশন্স ও সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যায় খুব ভালো কাজ করে থাকে। কমলালেবু মূলত খুব শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রক্তের শ্বেতরক্ত কণিকার বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে ইনফেকশনের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। কমলালেবু অন্যতম দারুণ একটি উপাদান ঠাণ্ডা কমানোর জন্য।

মাশরুম
মাশরুম সাধারণ ঠাণ্ডা-সর্দি ও অন্যান্য ধরণের ইনফেকশনের ক্ষেত্রে ভালো কাজ করে থাকে। মাশরুম Cytokines এর উৎপাদন বৃদ্ধি করে থাকে, যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

দই
দই রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে এবং সাধারণ ঠাণ্ডা ও ইনফেকশনের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রাকৃতিকভাবে লড়ায় করতে সাহায্য করে থাকে। দইয়ে রয়েছে কিছু দারুণ ও উপকারী উপাদান, যা সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যা ও অন্যান্য ভাইরাল ইনফেকশনের সমস্যাকে প্রতিহত করে থাকে।

আদা
আদাতে রয়েছে বিশেষ ধরণের একটি উপাদান- সেসকুইটার্পিনস, যা সর্দি ও কাশির ক্ষেত্রে খুব বেশী উপকারী। একদম তাজা আদা খাওয়ার ফলে, সেটি Rhonovirus এর বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে এবং শরীরে অ্যান্টিভাইরাল কেমিক্যাল উৎপাদনে সাহায্য করে থাকে।

গ্রিন টি
গ্রিনটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে রোগ-প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ এবং এতে রয়েছে অ্যান্টিভাইরাল ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান সমূহ। গ্রিন টিতে রয়েছে ক্যাটেচিন নামক এক প্রকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা সাধারণ ঠাণ্ডার সমস্যায় খুব দারুণ কাজ করে বলে দেখা গেছে।

গরুর মাংস
গরুর মাংসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে জিঙ্ক। যা রক্তে শ্বেত রক্তকণিকার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। এই শ্বেত রক্তকণিকা শরীরে রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে থাকে। গরুর মাংস খাওয়ার ফলে শরীর যে প্রোটিন পায়, সেটা থেকে শরীর অ্যান্টিবডি সমূহ তৈরি করে, যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে কাজ করে।

আপেল
অন্যান্য সকল ফলের মাঝে আপেলের গুনাগুনা বরাবরই অনেক বেশী। আপেলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ। শুধুমাত্র একটি আপেলে রয়েছে ১৫০০ মিলিগ্রাম ভিটামিন-সি এর সমপরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট! আপেলে থাকা রোগ-প্রতিরোধী ফ্ল্যাভনয়েড ঠাণ্ডা ও জ্বরের বিরুদ্ধে কাজ করে থাকে।

হলুদ
হলুদে রয়েছে অনেক উচ্চ মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমূহ এবং প্রাকৃতিক প্রদাহ-বিরোধী উপাদান। প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে হলুদ খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায় এবং ঠাণ্ডার সমস্যা দেখা দেবার সম্ভবনাও কমে যায়।

shup

মুরগীর স্যুপ
গরম ও উষ্ণ তরল খাবার, যেমন: স্যুপ শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করতে এবং মিউকাস নিঃসরণ এর হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে। মুরগীর স্যুপে থাকা উচ্চ মাত্রার প্রোটিন এবং সবজী শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল পুষ্টি জোগাতে সাহায্য করে থাকে। ঠাণ্ডার সমস্যার জন্য স্যুপকে সুপারফুড হিসেবে বলা হয়ে থাকে।

দুধ
দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ডি। যা ঠাণ্ডার বিরুদ্ধে কাজ করে করে থাকে। গবেষণা থেকে দেখা গেছে যে, যাদের ভিটামিন-ডি এর স্বল্পতা রয়েছে তার তুলনামূলকভাবে বেশী ঠাণ্ডার সমস্যায় ভুগে থাকেন।

গাজর
দারুণ এই প্রাকৃতিক সবজীতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন-এ। যা শরীরের রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুব দারুণভাবে কাজ করে থাকে। তাই ঠাণ্ডাভাব দেখা দিলে গাজর খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

সূত্র: Boldsky

আজসারাবেলা/ডলি/জীবন-যাপন