‘নাগরিক সমাবেশের আদলে আ.লীগ রাষ্ট্রীয় সমাবেশ করছে’

প্রকাশিত :১৮.১১.২০১৭, ৪:১৮ অপরাহ্ণ

সারাবেলা ডেস্ক: রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নাগরিক সমাবেশের আদলে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় সমাবেশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে ছাড়া দেশের মানুষ আর কোনো নির্বাচন গিলবে না।

আওয়ামী লীগের সমাবেশ প্রসঙ্গে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সমাবেশ করবেন ভালো কথা, আনন্দের কথা। আওয়ামী লীগের সমাবেশে বিএনপির আপত্তি নাই। কিন্তু আপনারা কী করছেন? সমাবেশে আসতে বাধ্য করছেন স্কুল-কলেজের কোমলমতি কিশোরদের। শুধু তাই নয় সমাবেশে আসতে চিঠি দেয়া হয়েছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন কর্পোরেট অফিসেও। অথচ আপনারা একদিকে মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন, অন্যদিকে মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছেন যে নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।’
তিনি বলেন, ‘কিছুদিনের জন্য ক্ষমতায় থেকে আনন্দে আছেন। যা ভাবছেন তা হবে না। বিএনপিকে ছাড়া এদেশের মানুষ আর কোনো নির্বাচন গিলবে না, মেনে নেবে না। দেশের মানুষ সকল রাজনৈতিক দলকে আগামী নির্বাচনে দেখতে চায়। তারা নিজের ভোট দিয়ে সরকারের পরিবর্তন চায়, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে এটা সম্ভব একমাত্র নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার ব্যবস্থায়।’

শনিবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়নে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভাসানী স্মৃতি সংসদ নামক একটি সংগঠন এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী- আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন বক্তব্যের কঠোর সমালোচনায় মির্জা ফখরুল বলেন, কোন সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে? যে সংবিধান অাপনারা তৈরি করেছেন অনির্বাচিত সংসদে?

নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শুধু নির্বাচনের আগে ৯০ দিন নিরপেক্ষ থাকবেন তা হবে না। একদিকে হেলিকপ্টারে করে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে আর অন্যদিকে বিএনপি চেয়াপারসনসহ আমরা যারা বিরোধী রাজনৈতিক দলে আছি তারা প্রতিদিন আদালতের বারান্দায় থাকব সেটা হবে না। লোক দেখানো নিরপেক্ষতা দেখালে চলবে না।’

এখন থেকেই নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে, সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে এবং নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে বলেও দাবি করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আজ সবকিছু বদলে গেছে। বদলে গেছে গণতন্ত্রের সঙ্গা। তৈরি হয়েছে ক্ষমতায় যাওয়া আসার বৃত্ত। তারপরও জোর গলায় বলা হচ্ছে এটাই গণতন্ত্র।’

মাওলানা ভাসানীর স্মৃতিচারণ করে সাবেক মন্ত্রী বলেন, ‘মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী বর্তমান প্রেক্ষিতে প্রাসঙ্গিক। তিনি আজীবন লড়াই সংগ্রাম করেছেন শোষণকারীদের বিরুদ্ধে। তিনি প্রথম বাংলাদেশ স্বাধীন করার ডাক দিয়েছেন। অথচ দুঃখের কথা তিনি যে আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছেন তারা ভাসানীকে স্মরণ করতে চায় না।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জিয়াউল হক নিলুর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা নাজমুল হক নান্নু, জাকারিয়া খান চৌধুরী, জাপা (কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে ন্যান্সী রহমান প্রমুখ।