শাহ আলমের দাপটে দিশেহারা রাজাপুরের মানুষ

প্রকাশিত :১৮.১১.২০১৭, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি : শাহ আলমের নামক এক ব্যক্তির দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে ঝালকাঠির রাজাপুরের একটি দরিদ্র পরিবার। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দরিদ্র পরিবারের নারীসহ চারজনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ সদস্য মো: শাহ আলমের ভাগিনা রাজিব হোসেন এ মামলার বাদী।
.
এদিকে আহতদের পক্ষ থেকে একটি মামলা করলেও আসামিরা জামিনে বের হয়ে বাদীর পরিবারকে নানা ধরনের হুমকি দিচ্ছে। এ সুযোগে বিরোধীদের জমি দখলের চেষ্টা করছে শাহ আলম ও তার সহযোগীরা।

জানা যায়, রাজাপুর উপজেলার দক্ষিণ কানুদাশকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ও মো: শাহ আলমের সঙ্গে ৪৮ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে প্রতিবেশী কাঞ্চন হাওলাদার ও মনির হাওলাদারের। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একাধিকবার স্থানীয়রা মীমাংসাও করেন। কিন্তু কোনো মীমাংসার তোয়াক্কা করছেন না শাহ আলম। এরই জের ধরে গত ১১ নভেম্বর দুপুরে শাহ আলম তার সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায় কাঞ্চন হাওলাদার ও মনির হাওলাদারের পরিবারের ওপর। হামলাকারীরা ৫০ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলে। এতে বাধা দিতে গেলে নাসরিন বেগম নামে এক নারীকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়িভাবে পিটিয়ে আহত করে। এসময় তাকে বাঁচাতে মোশারফ হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার এগিয়ে এলে শাহ আলম ও আলতাফ দা দিয়ে মাথায় আঘাত করে জখম করে।

এসময় হামলাকারীরা ওই নারীর কানের দুল ছিনিয়ে নেয় এবং শ্লীলতাহানি ঘটায়। মুন্নি আক্তার নামে একজন নাসরিনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তাকেও পিটিয়ে আহত করে স্বর্নের চেইন ছিনিয়ে নেয়। পরে বসতঘরে হামলা চালিয়ে দরজা জানালা ভাঙচুর করে। আহতদের উদ্ধার করে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতরা হলো মোশারেফ হাওলাদার, মোস্তফা হাওলাদার, দেলোয়ার হাওলাদার ও নাসরিন বেগম।
এ ঘটনায় নাসরিন বেগম বাদী হয়ে ১২ নভেম্বর রাতে মমিন উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে শাহ আলম ও আলতাফ, আজিজ হাওলাদারের ছেলে রেজা হাওলাদার, ফিরোজের স্ত্রী কহিনুর বেগম, আবুল কালাম হাওলাদারের স্ত্রী নাছিরুন বেগম, নজরুলের স্ত্রী রোকসানা বেগমসহ আরো ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ মামলায় ১৫ নভেম্বর আদালত থেকে পাঁচ আসামি জামিন নেয়। জামিনে বের হয়ে আসামিরা বাদীকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এমনকি তারা বাদীর পরিবারকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

JHALAKATHI Rajapur Hamla 2

এদিকে হামলা ও মারধরের পর উল্টো একটি নাটক সাজিয়ে পুলিশ সদস্য শাহ আলম তার ভাগিনা রাজি হোসেনকে বাদী বানিয়ে আহতদের নামে রাজাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নিরীহ পরিবারটি।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদস্য শাহ আলমের ভাগিনা রাজিব হোসেন জানান, প্রায় ১০০ বছর ধরে এই জমি আমরা ভোগ-দখল করে আসছি। কিন্তু কাঞ্চন হাওলাদার ও তার পরিবার তাদের জমি বলে দাবি করে আসছে। তারা আদালতে একটি মামলা করার পর রায় না পেয়েই জমি তাদের দখলে নিতে চায়। এ নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে আমাদেরও কয়েকজনকে পিটিয়ে আহত করেছে। এলাকায় একটি শালিস মীমাংসায় সিএস রেকর্ড মূলে একতরফা বিচার করা হয়। এজন্য আমরা শালিসির সিদ্ধান্ত মানিনি। পুলিশ সদস্য শাহ আলমের বিষয়ে জানতে চাইলে আমি জানি না বলে এড়িয়ে যান রাজিব হোসেন ।

এদিকে আহত নাসরিন বেগম বলেন, আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে একটি মিথ্যা মামলা করে এখন জমিজমা দখল করতে চাইছেন পুলিশ সদস্য শাহ আলম। পুলিশে চাকরি করায় তার দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ট। ছুটিতে বাড়ি এসে নিরীহ মানুষকে মারধর করে। জোর করে অন্যের জমি দখল করার চেষ্টা করে। কিছু বললেই মামলা দিয়ে হয়রানি করে।

রাজাপুর থানার এসআই চান মিয়া বলেন, নাসরিনের প্রতিপক্ষ একটি মামলা করেছে। এ মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে, তারা অত্যন্ত নিরীহ। আমরা তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।