র‌্যাবের এসআই খালেকুজ্জামান হাসপাতালে

প্রকাশিত :১৯.১১.২০১৭, ২:০৪ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : সিনিয়রের নির্দেশনা অনুযায়ী র‌্যাবের পিকআপ ভ্যানের পেছনে না বসায় সম্প্রতি কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ পাওয়া র‌্যাব-১৪ এর ভৈরব ক্যাম্পে কর্মরত এসআই খালেকুজ্জামান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরায় শনিবার সকালে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে ভর্তি হন ।

শনিবার (১৮ নভেম্বর) শোকজের উত্তর দেয়ার দিন ধার্য ছিল।

গত বৃহস্পতিবার এই নোটিশের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে প্রতিবাদ ও সমালোচনা করেছেন পুলিশের এসআই ও ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা।

শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে তাকে হাসপাতালের ৪নং (মেডিসিন) ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন এক কর্মকর্তা। তবে তিনি তার নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করেছেন।

গত বুধবার টহলরত অবস্থায় র‌্যাবের কমান্ডার ডিএডি মো. শাহীন মিয়া এসআই খালেকুজ্জামানকে গাড়ির পেছনে বসার নির্দেশ দেন। তবে পুলিশের কনস্টেবল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের পেছনে বসার বিধান থাকায় এসআই খালেকুজ্জামান পেছনে বসতে অস্বীকৃতি জানান। র‌্যাব সদর দফতরের পরিপন্থী কাজ করায় কেন তাকে শাস্তি দেয়া হবে না- এই মর্মে শনিবারের (১৮ নভেম্বর) মধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হয়।

শুক্রবার সকালে এই নোটিশটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। বিশেষ করে পুলিশের এসআই পদমর্যাদার কর্মকর্তারা র‌্যাবের সমালোচনা করে বিভিন্ন পোস্ট এবং কমেন্ট করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যাম ফেসবুকে। এছাড়াও তারা পুলিশের এসআইদের নিয়ে র‌্যাবের ফ্যাটিগ ডিউটি করানোর অভিযোগ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এসআই বলেন, এসআই পদবী’র অফিসার পুলিশ বাহিনীর মেরুদণ্ড। সে এসআই’কে গাড়ীর পিছনে বসিয়ে অপমান করা উচিত না। ডিএডি স্যারের পাশে বা সামনে সিট আছে ওখানে বসালেতো ইজ্জত যাবার কথা নয়। এসআই পদবীর অফিসারগন সর্বোচ্চ গ্রাজুয়েশন প্রাপ্ত।

একটি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এসআই খালেকুজ্জামানকে ভৈরব ক্যাম্পে নিয়মিত ডিউটি থেকে ক্লোজ করা হয়। পোশাক ছেড়ে ও হাতিয়ার জমা দিয়ে সাধারণ কাপড়ে তাকে কসবা এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। তবে পোশাক ছেড়ে অস্ত্র জমা দিয়ে সিসি নিতে গিয়ে দেখেন তার গন্তব্যস্থল ব্রাহ্মণবাড়িয়া লেখা।

কোম্পানি কমান্ডার ছুটিতে থাকায় কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জায়গায় তাকে কসবায় যেতে হলো- এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি খালেকুজ্জামান। আগে থেকেই উচ্চরক্তচাপে ভুগছিলেন তিনি, বুকে ব্যথা অনুভব করেন। প্রথমে স্থানীয় একটি হাসপাতাল এবং পরে তাকে রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এসআই খালেকুজ্জামানের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। ২০১০ সালে তিনি এসআই হিসেবে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। এক বছর নয় মাস ধরে তিনি র‌্যাবে কর্মরত আছেন।

আজসারাবেলা/রবি/সারাদেশ/পুলিশ/র‌্যাব