গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন মুক্তিযোদ্ধা ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান আল কবির। ছবি : আজ সারাবেলা

গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’

প্রকাশিত :২২.১১.২০১৭, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
  • ইসলাম মোহাম্মদ রবি : রাজধানীর বেগম রোকেয়া সরণীতে গ্রীন ইউনিভার্সিটি’র অডিটোরিয়ামে ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রমের এবারের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

প্রায় দুই শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা আলোচনা করেন মুক্তিযোদ্ধা ও অর্থনীতিবিদ ড. আহসান আল কবির।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং মুক্তিযুদ্ধের অপরিহার্যতা শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। তুলে ধরেন, ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট।

তিনি বলেন, যে মহান মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছি, তা আসলে একদিনের সিদ্ধান্ত ছিল না। তখন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের রাষ্ট্রের সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হতো। আর এই বঞ্চিত জনগণের অধিকার আদায়ের জন্যে, ভাষার জন্য আন্দোলন, ৬ দফা দাবি, স্বাধীনতা সংগ্রামে সকলকে একত্রিত করে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এসব আন্দোলনের জন্য প্রায় ১৪ বছর জেলে কাটাতে হয়েছে তাকে। জেলে বসেও তিনি কাজ করে গেছেন বাঙালিদের জন্যে। নানা সংগ্রাম পার করে যখন বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ ভাষণ দিলেন তখনই বাঙালি জাতি একত্রিত হয়েছিল। আমরা তখন বুঝতে পেরেছিলাম বাঙালি জাতির জন্য সংগ্রাম করতে হবে, স্বাধীন করতে হবে বাংলাদেশকে।

গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা। ছবি : আজ সারাবেলা

গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা। ছবি : আজ সারাবেলা

২৫ মার্চ কালো রাত্রিতে নিরস্ত্র বাঙালির উপর হামলার পর থেকেই বঙ্গবন্ধুর কথা মত যার যা কিছু ছিল তাই নিয়েই প্রস্তুত হয়ে মোকাবেলা করেছিল বাঙালিরা। আমরা তখন বাঁশ দিয়ে নানান হাতিয়ার বানিয়েছিলাম। যুদ্ধ করেছি ৪ নং সাব সেক্টরের আটগ্রাম এলাকায়। ট্রেনিংয়ের সময় অর্ধেক চাল আর অর্ধেক পাথর খেয়েছি। থ্রি নট থ্রি বন্দুক চালানো, গ্রেনেড চার্জ করা, কাভারেজ ফায়ার দেয়া শিখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরি।

ড. আহসান আল কবির যুদ্ধের নানা অভিজ্ঞতা বলার মধ্য দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্য প্রফেসর ড. এম গোলাম সামদানি ফকির। তিনি তার বক্তব্যে স্বাধীনতা ও পরাধীনতার পার্থক্য তুলে ধরেন।

গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা। ছবি : আজ সারাবেলা

গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা। ছবি : আজ সারাবেলা

তিনি বলেন, স্বাধীন হয়েছি বলেই আজ আমরা রাষ্ট্রের সকল সুবিধা ভোগ করতে পারছি। পারছি দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার স্বপ্ন ধীরে ধীরে পূরণ হচ্ছে। তাই তোমাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার। গড়ে তুলতে হবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা।

বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে বক্তব্য শেষ করেন উপাচার্য।

উপাচার্যের বক্তব্যের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন আজ সারাবেলা এর সম্পাদক জব্বার হোসেন।

অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, এই কার্যক্রমের সমন্বয়ক রবিউল ইসলাম রবি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ ও নর্দান ইউনিভার্সিটি।

আজসারাবেলা/রবি/মুক্তিযুদ্ধ/জাতীয়