চট্টগ্রাম কলেজে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ। ছবি: আজ সারাবেলা

চট্টগ্রাম কলেজে ৫শতাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’

প্রকাশিত :১১.১২.২০১৭, ৫:১৩ অপরাহ্ণ

তারেক খন্দকার : বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ‘চট্টগ্রাম কলেজে’ এবার প্রায় ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ‘আজ সারাবেলা’ ও ‘সুচিন্তা ফাউন্ডেশন’ এর উদ্দ্যোগে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ শীর্ষক দেশজুড়ে, বছরজুড়ে কার্যক্রমের এবারের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতা আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের অভিজ্ঞতা আলোচনা করেন চট্টগ্রামের জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. সাহাব উদ্দিন, যিনি মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম বইটির লেখক।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট এবং মুক্তিযুদ্ধের অপরিহার্যতা শিক্ষার্থীদের মাঝে তুলে ধরেন। তুলে ধরেন, ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীবৃন্দ। ছবি: আজ সারাবেলা

তিনি বলেন, কেউ এমনি এমনি যুদ্ধে যায় না। আমরাও গিয়েছি সময়ের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে। বঙ্গবন্ধু না হলে বাংলাদেশ হতো না। আমরা একটি স্বাধীন দেশ চেয়েছি। স্বাধীনতা পেয়েছি। আজ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইউনেস্ক কর্তৃক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এটা শুনে মন ভরে যাচ্ছে। তিনি একদিনে দেশ স্বাধীন করেননি। ৫২ -তে বন্দি ছিলেন। নানা আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়েই তিনি বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি হয়ে উঠেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন। যিনি বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীকে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করেন। বাংলাদেশকে জানতে বঙ্গবন্ধুকে জানতেই হবে। এই কথা উল্লেখ করে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু পাঠের আবশ্যকতা তুলে ধরেন।

বঙ্গবন্ধুর অসাধারণ বক্তৃতা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথা স্মরণ করিয়ে বক্তব্য শেষ করেন সুচিন্তা বাংলাদেশ এর সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী।

তিনি বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশ বাংলাদেশকে চেনে না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নাম বললেই আলাদা করে চিনতে পারে। বঙ্গবন্ধুর ভাষণ এখন পৃথিবীর সর্বত্র পরিচিতি।

বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তুলবার কথা বলতে গিয়ে অ্যাডভোকেট সোহানা বলেন, তিনি সকল ধর্মের মানুষের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। যে মানুষ সকলের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, সকলের উচিত দল মতের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাকে সম্মান করা।

সব শেষে কেন দেশজুড়ে, বছরজুড়ে মুক্তিযুদ্ধকে স্মরণ করতে হবে, ধারণ করতে হবে শিক্ষার্থীদের মাঝে তা ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ‘আজ সারাবেলা’ এর সম্পাদক জব্বার হোসেন।

চট্টগ্রাম কলেজে ‘বঙ্গবন্ধুর গল্প শুনি, মুক্তিযুদ্ধের গল্প বলি’ অনুষ্ঠানে আলোচকবৃন্দ। ছবি: আজ সারাবেলা

অন্যান্যদের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সুচিন্তা বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম বিভাগের নির্বাহী সদস্য নজরুল ইসলাম, যুগ্ম সমন্বয়ক আবু হাসনাত চৌধুরী প্রমুখ। এই প্রচারভিযানের চট্টগ্রাম পর্বের সমন্বয়ক সামিউল তারেক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠ ও সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য বিশেষ অবদান রেখেছে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল করিম, মনির ইসলাম, জাবেদুল ইসলাম জিতু এবং মহসীন কলেজের কাজী নাঈম, মেমোন উদ্দিন মামুন ও আনোয়ার হোসেন পলাশ।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই প্রচারভিযানের মিডিয়া পার্টনার ‘দৈনিক খোলা কাগজ’ ও ‘পরিবর্তন ডট কম’।

আয়োজিত কার্যক্রমের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল নীলসাগর গ্রুপ ও আয়োজন সহযোগী নর্দান ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

আজসারাবেলা/কিশু/সংবাদ/মুক্তিযুদ্ধ