চুরির অপবাদে দিনমজুর ও তার স্ত্রীকে মারধর, উচ্ছেদ

প্রকাশিত :১৮.১২.২০১৭, ১:৪০ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: ছেলের বিরুদ্ধে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে এক দিনমজুরের পরিবারের বসতঘর ভেঙে দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয় ওই দিনমজুর ও তার স্ত্রীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ভেবলা গ্রামে। সেই দিন থেকে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে আছে।

সরিষাবাড়ী উপজেলার ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তে ওই দিনমজুরের বসতঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন বলেন, এলাকায় বিভিন্ন ধরনের চুরির সঙ্গে জড়িত থাকায় তিনি গ্রামবাসীকে দিনমজুর জালাল উদ্দিনের পরিবারকে বসতঘর থেকে উচ্ছেদ করার অনুমতি দিয়েছেন। কিন্তু চুরির অপরাধের জন্য সাজা দেওয়া আদালতের কাজ হলেও কেন চেয়ারম্যান এ সিদ্ধান্ত নিলেন? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জালাল উদ্দিনের ছেলে মানিকের বিরুদ্ধে এর আগেও কয়েকবার চুরির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় গ্রামবাসী তাঁর কাছে এসে প্রতিকার চাওয়ায় তিনি এ সিদ্ধান্ত দেন।

সরিষাবাড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাহেরুল ইসলাম বলেন, তারা এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভেবলা গ্রামের বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গ্রামের মোবারক হোসেনের ঘরে গত সোমবার রাতে চুরি হয়। গভীর রাতে সিঁধ কেটে চোর মূল্যবান জিনিস চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনার জন্য মোবারক তার পাশের বাড়ির দিনমজুর জালাল উদ্দিনের (৫৫) ছেলে মানিক মিয়াকে (১৯) দোষারোপ করেন। তবে পরিবার বলছে, মানিক সোমবার দুপুরেই গ্রাম থেকে ঢাকায় চলে গেছে।

এ ব্যাপারে গত মঙ্গলবার সকাল ১০টায় ভেবলা গ্রামের মোবারক হোসেনের বাড়িতে মাতব্বর আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে এক সালিস বৈঠক বসানো হয়। সালিস বৈঠক শেষে মাতব্বর রফিকুল ইসলাম, ভাটারা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বাদল মিয়া, গ্রামীণ পরিবেশ সংস্থার কর্মী বাবলু মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন জালালের বসতঘর উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে বেলা ১১টার সময় জালাল উদ্দিন ও তার স্ত্রী রমনী বেগমকে (৪৫) মোবারক হোসেনের বাড়ির কাঁঠালগাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়।

জালাল বলেন, ইউপি সদস্য বাদল মিয়ার নেতৃত্বে গ্রামবাসী তার ঘর উচ্ছেদ করে দেয়। তাদের ঘরে থাকা লেপ, তোশক, বালিশ, কাপড়সহ সব পাশের দুলাল মিয়ার পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে জাকিয়ার বই-খাতাও পানিতে ফেলে নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তাঁর কাছ থেকে সাদা কাগজে সই নেওয়া হয়। গত ছয় দিন পরিবার নিয়ে তিনি খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

জাকিয়া খাতুন বলে, ‘আমার বই পানিতে ফেলে দেওয়ায় আমি বার্ষিক পরীক্ষা দিতে পারি নাই।’

অভিযোগকারী মোবারক হোসেন বলেন, এলাকার লোকজন তাকে বলেছে, মানিক মিয়া তাঁর ঘরে চুরি করেছে। সে জন্য গ্রামবাসী জালালের বসতঘর উচ্ছেদ করে দিয়েছে।

রমনী বেগম বলেন, মিথ্যা অভিযোগে তাকে ও তার স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করা হয়েছে। গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে তাঁদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। অথচ চুরির ঘটনার আগেই তাঁর ছেলে ঢাকায় চলে গেছে।

ভেবলা গ্রামের মাতব্বর আব্দুস সাত্তার বলেন, চেয়ারম্যান বোরহান উদ্দিন ও ইউপি সদস্য বাদল মিয়ার নির্দেশে জালালের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়।

 

আ/সা/তারেক