বৃষ্টি ছাড়াই দেখা মিলবে সড়কে পানি - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

জিরানী-শিমুলিয়া ৮ কি.মি. সড়ক
বৃষ্টি ছাড়াই দেখা মিলবে সড়কে পানি

প্রকাশিত :১০.০১.২০১৮, ৫:৫২ অপরাহ্ণ

মো. আমিনুল ইসলাম, আশুলিয়া: আশুলিয়ার জিরানী-শিমুলিয়া ৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়ক। বছরের পর বছর ধরে এই সড়কটিতে খানাখন্দ আর বৃষ্টি ছাড়াই দেখা মিলবে পানি। এতে প্রতিদিন ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। গুরুত্বপূর্ণ হলেও এক যুগ ধরে সড়কটি থেকে কোনভাবেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না লাখ মানুষ।

এলাকাটি শিল্পবান্ধব হলেও সড়কের এমন বেহাল দশায় মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। আবার কিছু গড়ে উঠলেও কারখানার মালামাল আনা নেয়া নিয়ে বিপাকে পরতে হয় তাদের। তবে দীর্ঘ এক যুগ ধরে এভাবে পরে থাকলেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। বিগত ১৩ বছর ধরে ৩ থেকে ৪ ঠিকাদার কাজ শুরু করলেও সংস্কার না করেই পালিয়ে গেছে তারা। এতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে পুনরায় টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ঠিকাদারের হাতে কাজ তুলে দিতে হচ্ছে। এই সড়কের মতোই আশুলিয়ার অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কের ভবিষ্যৎ যেন একই পথে হাঁটছে। আশুলিয়ার থানার বিভিন্ন এলাকার নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩টি প্যাকেজের অধীনে ১০ আঞ্চলিক সড়কের প্রায় ২৭ কোটির টাকা অধিক ব্যয়ে সংস্কার কাজ হাতে নেয় হয় স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তর। নির্দিষ্ট সময় এক বছর পার হলেও এসব সড়কের সংস্কার কাজের ৪০শতাংশ শেষ হয়নি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সড়কগুলোতে প্রতিদিন শত শত ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছে। এসব সড়কগুলো ঘিরে গড়ে উঠেছে কয়েকশত শিল্প কারখানা। এছাড়াও রয়েছে একাধিক স্কুল কলেজ ও হাসপাতাল। কিন্তু সড়কটি খানা খন্দে ও বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এমনকি সড়কের পাশ দিয়ে হেটে চলাচলের সুযোগ নেই। কোথাও কোথাও তৈরী হয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। অনেকে আবার নিজেদের উদ্যোগে ইট ও বালি ফেলে ঠিক করার নিস্ফল চেষ্টা করছেন। এমনকি স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের জুতা হাতে নিয়ে সড়কে হাঁটতে দেখা যায়। তবে এ সড়কে সবচেয়ে বেশি ঝুকিতে থাকে হাসপাতালের রোগীরা। এছাড়া বেচা কেনা না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে সড়কের পাশে থাকা দোকানপাট।

স্থানীয় প্রকৌশল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদারের হাতে আশুলিয়ার জিরানী-শিমুলীয়া বাজার সড়কের জন্য ৭ কোটি সাড়ে ৪ লাখ দেওয়া হয়। তবে কাজ শুরু না করেই ঠিকাদার পালিযে যায়। পরে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আরও এক কোটি বাড়িয়ে ৮ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সড়কটির কাজ ২০১৬ সালের জুন মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন হয়নি। এছাড়া আরও আটটি আঞ্চলিক সড়ক সংস্কার ও নিমার্নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
সড়কগুলো হলো- কুটুরিয়া থেকে বগাবাড়ি সোনিয়া মার্কেট ( ৪.৫৭ কি.মি), জামগড়া থেকে চিত্রশাইল কাঠগড়া বাজার পর্যন্ত (৩.৬১৫ কি.মি), শ্রীপুর বাস স্ট্যান্ড থেকে কাশিমপুর পর্যন্ত (১.৫ কি. মি) , জামগড়া চৌরাস্তা থেকে ভাদাইল পর্যন্ত (২.৪৮৭ কি.মি), ভাদাইল চৌরাস্তা থেকে মাদারটেক আনবিক শক্তি কমিশন দ্বিতীয় গেট পর্যন্ত ( ১.২৮ কি.মি), বার্ডস কারখানার ফটক থেকে গাজীরচট আলিয়া মাদ্রাসা (১.২৭০ কি.মি) ,কুমকুমারি থেকে সাধুপাড়া পর্যন্ত (২.৩০ কি.মি), ধলপুর থেকে কাঠগড়া (১.৫২৫ কি.মি)। এবছরের জুন মাসে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সম্পূর্ণ না করে ঠিকাদারের দেখা মিলছে না। আরও একটি প্রকল্প আশুলিয়ার কবিরপুর-বাইদগাও আঞ্চলিক সড়কটি ৮১ লাখ টাকায় (২.৮৫৫ কিলো মিটার) কাজ শুরু হলেও অর্ধেকও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
কথা হয় স্কুলগামী কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে, তারা বলেন, এই বেহাল সড়কে হাঁটতে গিয়ে জামা প্যান্ট ও জুতা ময়লা হয়ে যায়। প্রায় সময় স্কুলে পৌছাতে দেরি হয়। এমনকি মাঝে মধ্যে স্কুলে না গিয়ে ফিরে আসতে হয়।

যানবাহনের চালক মানবদে জানান, একটি নতুন গাড়ি এই সড়কে নামনো হলে ছয়মাস পরেই মেরামতের জন্য নিতে হয়। এছাড়া প্রায়ই সময় গর্তে আটকে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়। প্রতিদিন যা আয় হয় তা ব্যয় হয়ে যায়।

সাভার উপজেলা প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র দেবনাথ জানান, আশুলিয়ার আঞ্চলিক সড়ক গুলোতে কাজ চলছে। তবে এর আগে কিছু জটিতার কারণে কাজের ধীর গতি ছিল। তবে খুব দ্রুতই সড়ক গুলো সংস্কার শেষ হবে।