রাগ নিয়ন্ত্রণের ১০টি উপায়!

প্রকাশিত :০২.০১.২০১৮, ৭:২১ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : কথায় আছে, রাগলেন তো হারলেন। অনেকেই আছে হঠাৎ করে রেগে যান। তবে রাগ কম-বেশি সবারই থাকে। কিন্তু কিছু মানুষের রাগের পরিমাণ একটু বেশিই থাকে। দেখা যায়, রাগের কারণে কখন যে কি করে নিজেরই ঠিক নেই। এই রাগের কারণে অনেক বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন আপনি। অনেকে আবার রাগের কারণে হাসির পাত্র হয়ে থাকেন। পরিবার-আত্মীয় স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়। তবে সব কিছুরই সমাধান রয়েছে। অতিরিক্ত রেগে গেলে নিম্নের কাজসমূহ করতে পারেন। ধীরে ধীরে কমে আসবে রাগের মাত্রা।

১) বলার আগে ভাবুন
রাগের মাথায় কোনো কিছু বলে ফেলা খুব সোজা। তারপরে সেই কথা নিয়ে অনুশোচনার শেষ থাকে না। কিছু বলার আগে কয়েক মুহূর্ত সময় নিন। একটু ভাবুন। অন্যদেরও ভাবার সুযোগ দিন।

২) মাথা ঠাণ্ডা হলে তবেই রাগের প্রকাশ করুন
যখন আপনি সাফ ভাবতে পারছেন, তখনই রাগ প্রকাশ করুন। বিরক্তি প্রকাশ করুন, কিন্তু যুদ্ধের মেজাজে নয়। যত রাগই হোক, অন্যকে অপমান করা কাজের কথা নয়।

৩) কিছু ব্যায়াম করুন
শরীর চর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
রাগও নিয়ন্ত্রণে রাখে। যদি দেখেন চড়চড় করে বাড়ছে রাগের পারদ, তাহলে বরং কয়েক চক্কর হেঁটে আসুন।

৪) ছোট্ট একটা টাইমআউট নিন
টাইমআউট শুধু ছোটদের জন্য নয়। দিনের যে সময়টা ভয়ানক স্ট্রেসের সে সময় নিজেকে কিছুটা ব্রেক দিন। নিজের জন্য শান্ত কিছু সময় বিরক্তিকর অনেক কিছু থেকে মুক্তি দেয়। রাগ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

৫) সমাধান খোঁজার চেষ্টা করুন
কী কারণে আপনি রেগে যাচ্ছেন সে বিষয়ে মাথা না ঘামিয়ে কীভাবে সমস্যার সমাধান হবে তা নিয়ে মনোযোগী হোন। বাচ্চারা ঘর অগোছালো করে রাখে বলে বিরক্ত হচ্ছেন? দরজা বন্ধ করে দিন। আপনার পার্টনার কি রোজ ডিনারে দেরি করে আসেন? সন্ধ্যে বেলা একটু ভারী খাবার খেয়ে পেট ভরিয়ে রাখুন। রাতের খাওয়াটা মাঝে মাঝে একা একা খাওয়ায় প্রাকটিস করুন।

৬) নিজের বক্তব্য সাফ জানান
অন্যের নিন্দা বা সমালোচনা না করে নিজের পছন্দ-অপছন্দ পরিস্কার করে জানান। নির্দিষ্ট করে আপনার চাহিদাটা জানান। ‘তুমি বাড়ির কোন কাজই করো না’-র বদলে বলুন ‘আমাকে সাহায্য না করে বারবার তোমার খেয়ে দেয়েই উঠে যাওয়া আমাকে কষ্ট দেয়। ’

৭) রাগ পুষে রাখবেন না
ক্ষমা করতে শিখুন। মনের মধ্যে রাগ পুষে রেখে সবসময় খারাপ কথাই ভাবলে আখেরে ক্ষতি আপনারই। নিজের এই এক পেশে চিন্তায় ডুবে থাকলে ভাল কিছু ভাবার ক্ষমতাটাই না চলে যায়। ক্ষমা করতে শিখুন। নিজের ব্যবহার নিয়েও খুঁটিয়ে ভাবুন। সবাই সব সময় আপনার মতই ভাববে এতটাও আশা করা বোধহয় ঠিক নয়।

৮) টেনশন কমাতে হাসি-ঠাট্টার আশ্রয় নিন
টেনশন কমাতে হাসি ঠাট্টার জুরি মেলা ভার। তবে নিজের চাপ বা রাগ কমাতে গিয়ে অন্যের অনুভূতিকে আঘাত করে ব্যঙ্গ না করাই ভাল।

৯) রিল্যাক্সড হওয়ার কিছু স্কিল প্র্যাকটিস করুন
যদি আপনার চড়া মেজাজে লাগাম পরাতে অসুবিধা হয়, তাহলে জোরে জোরে গভীর নিঃশ্বাস ফেলুন। মজার কোনও দৃশ্য ভাবুন। গান শুনুন, বই পড়ুন, আপনার আদতে যা যা করতে ভাল লাগে সে দিকে বেশি করে মন দিন।

১০) প্রয়োজন হলে সাহায্য নিন
যদি কোনও ভাবেই আপনার রাগ নিয়ন্ত্রণে না আসে, যদি আপনার রাগ আপনার বা অন্যদের লাগাতার ক্ষতির কারণ হয়, তাহলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

আজসারাবেলা/মুয়াজ/জীবন যাপন