নীতুর দঙ্গল কন্যা হয়ে ওঠার গল্প - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

নীতুর দঙ্গল কন্যা হয়ে ওঠার গল্প

প্রকাশিত :০৮.০১.২০১৮, ৩:০০ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: বলিউডের সিনেমা ‘দঙ্গল’-এ দেখানো হয়েছিল এক বাবা তার স্বপ্নপূরণে দুই শিশুকন্যাকে কীভাবে কুস্তিগির হিসেবে গড়ে তুলেছেন। ভারতীয় কুস্তিগির মহাবীর সিং ফোগাতের জীবনকাহিনি। মহাবীর জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলেও দেশের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিততে পারেননি। সেই স্বপ্নপূরণে তার দুই মেয়ে গীতা ও ববিতাকে কুস্তিগির বানান এবং সফল হন।

তবে এর থেকে কম কিছু নয় ভারতের আরেক নারী নীতুর গল্প। বাল্যবধূ থেকে কুস্তিগির হয়েছেন। কুস্তিগির গীতা ও ববিতার সঙ্গে জীবনের কাহিনিতে ভিন্নতা থাকলেও নীতুকেও প্রতিবন্ধকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হয়েছে। দলিত সম্প্রদায়ের হওয়ায় প্রতিবন্ধকতা ছিল অনেক বেশি। মাথার ওপর ছিল না কোনো ছায়া। বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছিলেন। সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে নিজ চেষ্টায় হয়েছেন কুস্তিগির। আর সেই সঙ্গে রচনা করেছেন মানুষ ও খেলাধুলার জগতের বিজয়ের গল্প। দুই সন্তানের মা, ভারতীয় কুস্তিগির ২১ বছর বয়সী নীতু জাতীয় পর্যায়ে ব্রোঞ্জপদকসহ আঞ্চলিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কার জিতেছেন। আজ সোমবার নীতুকে নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বিবিসি অনলাইনে।

নীতু বলেন, ‘মাত্র ১২ বছর বয়সে আমার জীবনের গল্প শুরু হয়। জোর করে আমাকে বিয়ে দেওয়া হয় মানসিকভাবে অসুস্থ ৪০ বছর বয়সী এক লোকের সঙ্গে। মাত্র দুই মাস টিকেছিল সেই বিয়ে। এরপর আমাকে আবার বিয়ে দেওয়া হয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে যমজ ছেলের মা হই। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরই খেলাধুলায় জড়ানোর সিদ্ধান্ত নিই।’

আর এভাবেই ঘুরে দাঁড়ানো শুরু হয় নীতুর। তবে এ জন্য তাকে মূল্যও দিতে হয়েছে। সন্তানদের থেকে দূরে থাকতে হচ্ছে। মাঝেমধ্যে তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ মেলে। পরিবার থেকে দূরে ছোট্ট এক রুমে একাকী থাকেন। কুস্তিই তার জীবন, তাই এই ত্যাগ স্বীকার করছেন বলেন জানালেন নীতু।

কুস্তিতে অংশ নেওয়ার সময় খুব কম লোকই বিশ্বাস করেছিল যে নীতুর স্বপ্ন পূরণ হবে। নীতুকে গ্রামের লোকজন বলেছিল, দুই সন্তানের মা কখনো কুস্তিগির হতে পারে না। তা ছাড়া নিচু গোত্রের দলিত সম্প্রদায়ের কোনো নারীর এ ধরনের স্বপ্ন দেখাও ঠিক না।

নীতু বলেন, ‘আমি জানি ক্ষুধা কী জিনিস! প্রশিক্ষণ শুরুর সময় আমি পর্যাপ্ত খেতেও পেতাম না। আমার সঙ্গের অন্য মেয়েদের ফলের রস, পনির খেতে দেখতাম। আমি শুধু জানতাম, আমাকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে হবে।’

পরিস্থিতি পাল্টে যেতে থাকে যখন নীতু পদক জেতা শুরু করেন। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি জয়ী হতে শুরু করেন। ২০১৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে ব্রোঞ্জপদক জেতার পর নিজ গ্রামে তাকে নিয়ে হুল্লোড় পড়ে যায়। সে সময় গ্রামে যাওয়ার পর তাকে নিয়ে শুরু হয় জয়োৎসব।

নীতু বলেন, ‘শুরুতে যারা আমাকে নিরুৎসাহিত করেছিলেন, আজ তারাই তাদের মেয়েদের কুস্তিগির বানাতে আমাকে প্রশিক্ষক হিসেবে চান।’

প্রতিকূলতাকে জয় করে এগিয়ে চলা নীতুর এখন একটাই স্বপ্ন—অলিম্পিকে পদক জয়।

 

আজ সারাবেলা/জ্যাকি/দঙ্গল কন্যা