রোহিঙ্গা হত্যার কথা স্বীকার করল মিয়ানমার সেনাবাহিনী

প্রকাশিত :১১.০১.২০১৮, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

 

ডেস্ক রিপোর্ট: রোহিঙ্গা নির্যাতনে সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বুধবার সেনাপ্রধান মিন অং লেইংয়ের কার্যালয় থেকে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানানো হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর ১০ জন রোহিঙ্গাকে হত্যার সঙ্গে সেনাসদস্যরা জড়িত ছিলেন।

এএফপির খবরে বলা হয়, গত ২৫ আগস্ট রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরুর পর থেকে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে দায়ী করছিল।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা রাখাইনে সেনা নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। কিন্তু বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল দেশটির সেনা কর্তৃপক্ষ।

ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাখাইন রাজ্যের ইন দিন গ্রামে ওই গণহত্যা হয়। এক রাখাইনের মৃত্যুর জেরে ওই দিন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে সেনাসদস্য এবং রাখাইনবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে বলা হয়, ‘কয়েকজন গ্রামবাসী এবং সেনাসদস্য স্বীকার করেছেন, তারা ওই দিন ১০ জন বাঙালি সন্ত্রাসীকে (রোহিঙ্গা মুসলমান) হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

এর পাশাপাশি রাখাইনে একটি রোহিঙ্গা গণকবরের সন্ধান পাওয়ার কথা জানানো হয় ওই পোস্টের মাধ্যমে। এতে বলা হয়, ১০ রোহিঙ্গাকে প্রথমে আটক করেন সেনাসদস্যরা। পরে তাদের একটি সমাধিক্ষেত্রে নিয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত হয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, জঙ্গি হামলায় স্বজন হারানো ক্ষুব্ধ রাখাইন বৌদ্ধ গ্রামবাসী আটকদের মেরে ফেলতে চেয়েছিল। গ্রামের এক পাশে একটি গণকবরে ঢুকিয়ে তাদের ধারাল অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। তারপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের গুলি করে মেরে ফেলে। “আইন লংঘনে ওই গ্রামবাসী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এছাড়া ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত না করা সেনা সদস্য এবং ওই অভিযান তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আয়ে উইনের নেতৃত্বে এই তদন্ত হয়। নভেম্বরে সেনাবাহিনীকে দায়মুক্তি দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, তার নেতৃত্বও দিয়েছিলেন এই কর্মকর্তা।

এর আগে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ এক তদন্তে দাবি করা হয়েছিল, রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নির্যাতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

আজ সারাবেলা/সংবাদ/জ্যাকি/আন্তর্জাতিক