কাবুলে হোটেলে হামলায় নিহতদের ১৪ জন বিদেশি

প্রকাশিত :২২.০১.২০১৮, ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে তালেবান হামলায় ১৪ বিদেশিসহ ১৯জন নিহত হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে পাঁচ হামলাকারীর একটি দল আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিস্ফোরক ভেস্ট নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করে অতিথিদের জিম্মি করে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েল মুখপাত্র ওয়াহিদ মাজরহ বলেন, নগরীর সিটি হাসপাতালে ১৯টি মৃতদেহ নিয়ে আসা হয়েছে।

হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নিহতদের মধ্যে ১৪ জন বিদেশি বলে জানায় বিবিসি ও গার্ডিয়ান।

তাদের মধ্যে ১১ জন আফগানিস্তানের বেসরকারি এয়ারলাইন ‘ক্যামএয়ার’ এর কর্মী বলে জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

হামলায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে ছয়জন নিরাপত্তারক্ষী এবং চারজন বেসামরিক নাগরিক বলে জানান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েল মুখপাত্র নাজিব দানিশ।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতদের মধ্যে ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেইনের নাগরিক আছেন।

হামলার সময় ক্যামএয়ারের প্রায় ৪০ জন পাইলট ও ক্রু হোটেলে অবস্থান করছিলেন, যাদের বেশির ভাগই বিদেশি।

এয়ার লাইনটির উপপরিচালক জামারি কামগার বলেন, ‘এখনও আমাদের কর্মীদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে।’
হামলাকারীদের অন্তত চারজন আফগান সেনাদের পোশাক পরে ছিলেন বলে রয়টার্সকে জানান হোটেলের অতিথি আব্দুল রহমান নাসেরি।

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘন্টার বন্দুকযুদ্ধের পর রোববার ভোরে শেষ বন্দুকধারীকে হত্যা করে হোটেলটি মুক্ত হয় বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই হোটেল ভবনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়ার মেঘ বের হতে দেখা যায়।

আফগান পুলিশ ইউনিটগুলোর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাঁজোয়া যান নিয়ে অভিযানে অংশ নিয়েছে।

হোটেল থেকে ৪১ জন বিদেশিসহ মোট ১৫৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

কাবুলে একটি পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ছয়তলা হোটেলটি বিদেশিদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়।

আফগান তালেবান এ হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে জানায় দ্য গার্ডিয়ান।

তালেবান মুখপাত্র জাবিহউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘প্রথমে আমরা বৃহস্পতিবার রাতে কন্টিনেন্টাল হোটেলে হামলার পরিকল্পনা করেছিলাম। কিন্তু সেদিন সেখানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। যে কারণে আমরা হামলার সময় পিছিয়ে দেই; চাইনি বেসামরিক লোকজন হতাহত হোক।’

কাবুলের হোটেলগুলোতে হামলা হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস থেকে এ ধরনের একটি সতর্কবার্তা জানানোর কয়েকদিনের মধ্যে হামলাটি চালানো হল।
হোটেল ম্যানেজার আহমেদ হ্যারিস নায়াব অক্ষত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আসতে পেরেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, হামলাকারীরা রান্নাঘরের মধ্যদিয়ে হোটেলটির প্রধান অংশে প্রবেশ করে গুলিবর্ষণ শুরু করলে লোকজন হোটেল ছেড়ে বের হওয়ার চেষ্টা করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, হামলাকারীরা হোটেলটির কয়েকজন কর্মী ও অতিথিকে জিম্মি করেছিল।

কাবুলে অধিকাংশ সরকারি ভবনের মতো ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলেও ব্যাপক সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল। এর আগে ২০১১ হোটেলটিতে হামলা চালিয়েছিল তালেবান।