গ্রন্থমেলায় শিশু-কিশোরদের কলকালতিতে মুখর - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

গ্রন্থমেলায় শিশু-কিশোরদের কলকালতিতে মুখর

প্রকাশিত :০২.০২.২০১৮, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : আজ সকাল থেকে একুশের গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণ শিশু-কিশোরদের কলকাকলিতে ছিল মুখরিত। এবারের মেলার প্রথম শিশুপ্রহর ছিল আজ। শত শত শিশুকিশোর কুয়াশার ভিড়ে অভিভাবকদের সঙ্গে মেলায় এসেছে।

মেলার গেট খোলা হয় এগারটার পর পরই। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য শিশুকিশোর ও অভিবাবকরা সারিবদ্ধভাবে মেলাঙ্গন প্রবেশ করেন। বারটার মধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলায় ও বাংলা একাডেমিতে বিপুল শিশু-কিশোরদের অভিভাবকদের সমাগম ঘটে। শিশুরা ঘুরে ঘুরে বই দেখছে। ছবি তুলছে। খেলছে। বড়দের সঙ্গে মেলার নানা বিষয় নিয়ে শিশুরা কথাও বলছে। বই কিনে দেওয়ার আবদার করছে। অনেকে বইও কিনছে।
মেলায় আজ থেকে বিক্রিও শুরু হয়েছে। বারটার পর থেকেই বই কিনতে শুরু করে অনেকে। লোকজনও বাড়তে থাকে। দর্শনার্থীদের জন্য বাংলা একাডেমির দুটি ক্যান্টিন চালু হয়েছে। বয়রা তলায় খোলা হয়েছে কয়েকটি লিটলম্যাগ স্টল। ধীরে ধীরে মেলার পুর্ণাঙ্গ রুপ পাচ্ছে।

এদিকে আজ সকাল থেকেই মেলায় আসতে থাকে বই বোঝাই করা যানবাহন। মাচা গাড়ি, ঠেলাগাড়ি, প্রাইভেট ঝিপসহ বিভিন্ন যানবাহনে বই আনার ধুম পড়েছে। বই বোঝাই অগণিত গাড়ির মেলার ভেতরে ঢুকে বই খালাস করতে দেখা যায়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর এটা পর্যন্ত ছিল শিশু প্রহর। দুপুর দুটা থেকে সকল দশনার্থীরা প্রবেশ করে।

মেলার প্রথম শিশু প্রহরে সিসিমপুর মঞ্চে চতুর্থ শ্রেনির ছাত্র অনীল বাশারের নতুন দুটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে মেতেছিল একদল শিশু। এটাই এবারের মেলায় প্রথম শিশুগ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব। শিশুরা ঘুরলো, নাচল। গাইলো অনেকে গান। পরে খেলাধুলা করে যোগ দেয় অনীল বাশারের দুই নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলাঙ্গণে সিসিমপুর মঞ্চের এই উৎসবে প্রধান অতিথি ছিলেন কথাশিল্পী আনিসুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি হালিম আজাদ, কথাশিল্পী মোস্তফা কামাল, গবেষক আফজালুল বাশার, সাংবাদিক শাহনাজ বেগম ও সিসিমপুরের ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান। তারা অলীন বাশারের ‘পালোয়ানের হার’ ও ভূতের টিউশনি’ বই দুটির মোড়ক উন্মোচন করেন। বই দুটি প্রকাশ করেছে ফড়িং ও জ্ঞান বিতান।

আনিসুল হক বলেন, এটা বিস্ময়কর ও আনন্দের যে, চতুর্থ শ্রেণির একজন মেধাবী ছাত্রর এক সঙ্গে দুটি বই বের হলো। এর আগে অলীনের আরও তিনটি বই বের হয়েছে। তিনি অলীনের পরিবারের সদস্যদের বলেন, অলীনের জীবন ও কর্ম নিয়ে বিশ্বরেকর্ড করা প্রতিষ্ঠানে আপনারা দেবেন। কম বয়সে লেখালেখির রেকের্ড অলীন এগিয়ে রয়েছে। তিনি শিশুদের অলীন বাশারের মতো বই পড়া,বই লেখায় মনোযোগ হবার আহবান জানান। অন্যান্য বক্তারা অলীনের লেখালেখি অব্যাহত রাখার আহবান জানান। অনুষ্ঠানে অলীন বাশার তার জন্য সবাইকে দোয়া করার অনুরোধ করে বললো, আমি কি বলব। লিখে যাব। আমার জন্য সবাই দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে সিসিমপুরের ব্যবস্থাপক খলিলুর রহমান শিশুদের উদ্দেষে বলেন, মহান একুশের ফেব্রুয়ারির দিনে সাকল থেকে এ¦ই মঞ্চে সিসিমপুরের বন্ধুরা তোমাদের সাথে আনন্দ করবে। তিনি সকল শিশুদের একুশের দিনে আসার আহবান জানান।

সূত্র: বাসস