সমবায় সমিতির অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

সমবায় সমিতির অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশিত :১০.০২.২০১৮, ৫:২৯ অপরাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট: অর্ধকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার গণ-উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সাবেক সম্পাদক সাহিদা আক্তার মেরীনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বুধবার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সংবাদিকবৃন্দ ও সমিতির প্রধান কার্যালয়সহ শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কালেকশন অফিসারদের উপস্থিতিতে সবার সম্মুখে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সমিতির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হাশেম মিয়া।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২২/০৩/২০১১ইং তারিখ হতে বিভিন্ন মেয়াদে তিনবার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়ে ২৩/১১/২০১৭ইং পর্যন্ত সমিতির কার্যক্রম পরিচালনায় অংগ্রহণ করেন।

সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে পদাধিকার বলে তিনি তার নিজ কর্ম এলাকার পূর্ব শ্যামাইল, চর শ্যামাইল, বাচামারা, চর বাচামারা, নলগোড়া, বাহাদুরপুর, বড় বাহাদুরপুর, গোয়ালকান্দা, পাঁচ্চর, মাদবর চর, সন্যাসীর চর সহ অন্যান্য এলাকায় ঋণ আদায়ের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বিগত ৬ মাস ধরে তিনি সমিতির কর্মকাণ্ডে তেমন অংশগ্রহণ করেন না। বিষয়টি ব্যবস্থাপনা কমিটির দৃষ্টিগোচর হওয়ায় তাকে কারণ জিজ্ঞাসাবাদ করলে বয়সের অজুহাত দেন। দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার বিষয়ে অবগত করলে সময় চান তিনি।

ইতোমধ্যে তার কর্ম এলাকার বিতরণকৃত ঋণের কিস্তির টাকা সময়মতো অফিসের হিসাবে জমা না হওয়ায় তাহাকে উক্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন সদস্যরা টাকাপয়সা নিয়মিত দিচ্ছে না। বিষয়টির সত্যতা জানার জন্য ফিল্ড সুপার ভাইজারগণ তার ফিল্ড পরিদর্শনে গিয়ে অফিস রেকর্ড অনুযায়ী সমিতির বিতরণকৃত ঋণের মধ্যে ১০৬ (একশত ছয়) জন সদস্যর ঋণের পাশ বইয়ের সাথে অফিসের মূল লেজার, জমার টপশীট ও আদায় টপশীটের সাথে হিসাবের ব্যাপক গড়মিল পাওয়া যায়। তখন অভ্যন্তরীণ হিসাব নিরীক্ষকরা তার ১০৬ (একশত ছয়) জন সদস্যর হিসাব নিরীক্ষা করে জমা টাকার হিসাবের সাথে মোট পঁয়তাল্লিশ লক্ষ নব্বই হাজার পাঁচশত টাকা গড়মিল প্রমাণিত হয়। যা তহবিল আত্মসাতের শামিল ও সমবায় আইন, বিধি এবং অত্র সমিতির উপ-আইন অনুযায়ী ইহা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

সম্পাদক সাহিদা আক্তার মেরীনকে উক্ত টাকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি বলেন, আমার হেফাজতে আদায়কৃত টাকা আছে। কিছুদিনের মধ্যেই পরিশোধ করে দিব। সাহিদা আক্তার মেরীন উক্ত টাকা সমিতির হিসাব বিভাগকে টাকা জমা প্রদানের জন্য ওয়াদা করেও টাকা জমা না দিয়ে নানা রকম টালবাহানার আশ্রয় গ্রহণ করতে থাকেন।

এমতাবস্থায় গত ১২/১২/২০১৭ইং তারিখ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরী সভা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের অর্থ তছরূপ ও আত্মসাৎ এর অভিযোগে গণ-উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড- হতে সাহিদা আক্তার মেরিন এর সম্পাদকের পদ বাতিল করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে সাহিদা আক্তার মেরীন বিগত ১৮/১২/২০১৭ইং তারিখে সকাল ১০ টায় গণ-উন্নয়ন বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে উক্ত টাকা ফেরৎ না দেওয়ার কথা জানান।

এর প্রেক্ষিতে ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাহিদা আক্তার মেরীনের বিরুদ্ধে ২৬/১২/২০১৭ইং তারিখে মাননীয় চীফ জুডিশিয়াল আদালত, মাদারীপুর ৪৮২/১৭ স্মারকে পিটিশন মামলা এবং ২৮/১২/২০১৭ইং তারিখে সমবায় আইন ২০০১ এর (সংশোধিত ২০০২ ও ২০১৩) এর ৫০ ধারায় জেলা সমবায় কার্যালয়, মাদারীপুরে ডিসপিউট মামলা ও করা হয়।

এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ তারিখ সাহিদা আক্তার মেরীন টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া ও প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ও সমিতিকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে গণউন্নয়ন সমিতির ৩৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ শিরোনামে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশ করে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। সাহিদা আক্তারের ছেলে মেহেদী হাসান অত্র সমিতির আইন সহায়ক কর্মকর্তা সেলিম হোসেনকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনা হতে বিরত থাকতে বলে অন্যথায় প্রাণনাশ করা হবে বলে হুমকি প্রদান করে। আমি এহেন কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শাখা ব্যবস্থাপক আবুল খায়ের, আহসান হাবিব, আমিনুল ইসলাম, আব্দুল কাদের, , প্রধান কার্যালয়ের চীফ হিসাবরক্ষক আবদুস সালাম জমাদ্দার, সিনিয়র অফিসার লায়লা পারভিন, অফিসার শারমিন আক্তার ও আইন সহায়ক কর্মকর্তা সেলিম হোসেন, আবু মাসুম প্রমুখ।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সারাদেশ