আলিফ লায়লা ও টেলিভিশন ধারাবাহিকের গল্প - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
আব্দুন নূর তুষার

আলিফ লায়লা ও টেলিভিশন ধারাবাহিকের গল্প

প্রকাশিত :১৭.০২.২০১৮, ১:৩১ অপরাহ্ণ
  • আব্দুন নূর তুষার

আলিফ লায়লা বা হাজার রাত্রির গল্প আমরা অনেকেই পড়েছি। স্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতায় ক্ষিপ্ত রাজা প্রতি রাতে একটি বিয়ে করে স্ত্রীর সাথে রাত্রিযাপনের পর তাকে হত্যা করতো। এভাবে রাজ্য হয়ে যাচ্ছিল নারী বিবর্জিত।

রাজার জন্য প্রতি রাতে বিয়ে করার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেয়ে ধরে এনে দিতেন মন্ত্রী। মন্ত্রীর কন্যা শেহেরজাদে বললেন এবার তিনি যাবেন রাজাকে বিয়ে করতে। মন্ত্রী বারবার নিষেধ করার পরেও শেহেরজাদে অটল। তিনি তার বোনকে নিয়ে গেলেন সাথে এবং রাজাকে বিয়ে করলেন। বিয়ের পর বাসর রাতে রাজা তাকে ভোগ করলেন। এরপরও রাত্রির অনেকটা বাকি।

সকাল হলেই মাথা কাটা যাবে শেহেরজাদের। শেহেরজাদের ছোটবোনকে ডেকে শেহেরজাদে গল্প করতে চাইলেন। ছোটবোন এর আবদার সে বোনর কাছ থেকে শেষবারের মতো গল্প শুনবে।

শেহেরজাদে রাজার অনুমতি নিয়ে গল্প শুরু করলেন। গল্প যেখানে শেষ হলো, কাহিনী বাকি থেকে গেলো টান টান রহস্য ও উত্তেজনার মধ্যে। রাজার শোনার কৌতুহল মেটে নাই, তাই রাজা পরের রাতে গল্প শেষ হবে ভেবে শেহেরজাদের মৃত্যু একরাত পিছিয়ে দিলেন। এভাবে প্রতি রাতে গল্প এমন জায়গায় শেষ হয়, যে আরেক রাত গল্প শুনতে ইচ্ছে করে রাজার। ১০০০ রাত পার হয়ে গেল গল্প শুনে শুনে। রাজা শেহেরজাদেকে ভালোবেসে ফেললেন।

ছোটবোনের বিয়ে হলো রাজার ছোট ভাইয়ের সাথে।

বেঁচে গেল অন্তত ১০০০ মেয়ে এবং তারপর রাজ্যের সকল মেয়ে।

এই গল্পগুলি লোককাহিনী, এবং এর সংগ্রহ শুরু হয়েছিল আলেক্সান্ডারের মাধ্যমে। তিনি গল্প শুনতে ভালোবাসতেন এবং এশিয়াতে এসে তিনি তাবুতে প্রতিরাতে এই গল্পগুলি শুনতে থাকেন বলে শোনা যায়, যে কারণে তার জন্য গল্পগুলি সংগ্রহ করতে থাকেন তার পরিচর্যাকারীরা।

গ্রীক এক নৃশংস নৃপতির শিল্পবোধ থেকে পৃথিবী পেল অমর সাহিত্য।

অাসলে নৃশংসতা তখন রীতি ছিল, তাই নৃশংস হওয়াটা তেমন কোন বিষয় ছিল না। বরং নৃশংস নৃপতিরা অনেকেই শিল্পবোধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন। তাই শিল্পবোধসম্পন্ন মানুষ অপরাধ করতে পারে না, কথাটা পুরোপুরি ঠিক না।

এখানে কিন্তু ভারত থেকে পাওয়া গল্পও আছে। কথা সরিৎ সাগরে সোমদেব ১১ শতকে এরকম কিছু গল্প রেখে গেছেন।

আমার কাছে টেলিভিশনকে আধুনিক যুগের শেহেরজাদে বলে মনে হয়। আর হাজার রাতের গল্প হলো সিরিয়াল নাটক ও অনুষ্ঠান । আমরা সব একেক জন মহারাজা। আমাদের প্রতি রাতে মুগ্ধ করে কৌতুহল জাগিয়ে রাখতে পারলে, আমরা সেই টেলিভিশন রোজ দেখি।

আমাদের গল্প বলা ও শোনার প্রক্রিয়া বদলে গেলেও আমাদের অভ্যাস বদলায়নি। আমরা এখনো গল্প শুনতে ভালোবাসি। সেই গল্পে প্রেম, ভালোবাসা, নীতি, দুর্নীতি, হত্যা, অপরাধ, যৌনতা, সব থাকতে হয়।

এখনো মানুষ আরব্য রজনী, আলিফ লায়লা শোনার সেই অভ্যাস থেকে বের হতে পারে নাই। শেহেরজাদের মতো টেলিভিশন এখনো গল্প বলার চেষ্টা করে।

লেখক: চিকিৎসক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

(লেখকের ফেসবুক থেকে নেওয়া)