Increase-autograph-at-book-fair-hasan-zaidi / ajsarabela.com

মেলায় অটোগ্রাফ শিকারী বেড়েছে, বইয়ের পাঠক বাড়েনি : হাসান জায়েদী

প্রকাশিত :১৫.০২.২০১৮, ৪:২০ অপরাহ্ণ

হাসান জায়েদী। প্রকাশক পার্ল পাবলিকেশনস। প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘকাল যুক্ত। জনপ্রিয় ধারার পাশাপাশি, চিন্তাশীল বইয়ের প্রকাশে খ্যাতি রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বইয়ের বাজার, পাঠকের চাহিদা ও চরিত্র, গুরুত্ব-অগুরুত্বপূর্ণ লেখক আর প্রকাশক হিসেবে নিজের চাওয়া-পাওয়ার কথাও বলেছেন আজ সারাবেলা’র সাক্ষাৎকারে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জববার হোসেন সিদ্দিক আশিক

আজ সারাবেলা: আপনি তো অনেক দিন প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। শুরুতেই আমাদের পাঠক সম্পর্কে আপনার বিশ্লেষণ জানতে চাইব, তারা কেমন?

হাসান জায়েদী: আমাদের পাঠক সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই বলব আমাদের ক্রেতা অনেক। অর্থাৎ এটিকে এভাবে বলা যায় প্রচুর বই কিনে মানুষ। কি কিনছে সেটা হচ্ছে বড় বিষয়। কোন বইতে সাহিত্য মান আছে বা কোনটি ভাল উপন্যাস, না একটি সুন্দর কবিতার বই কিনব নাকি শুধু একটি বই কিনলেই হয়- এমন মানসিকতার পাঠক অনেক পাওয়া যায়। কিন্তু বেছে বেছে বই পড়ার পাঠক আমাদের দেশে কম।

আজ সারাবেলা: মেলা বই কেনার একটা উপলক্ষ্য এবং বই পড়ারও উপলক্ষ্য। অনেকেই বইমেলাকে কেন্দ্র করে বই কেনেন এবং পড়েন। এই মেলাকেন্দ্রিক পাঠক সম্পর্কে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

হাসান জায়েদী: আসলে বিশ্লেষণ করাটা একটু কঠিন। মেলায় যারা আসেন, তারা যে সবাই পাঠক এমন নাও হতে পারে। তবে মোটের ওপর উপন্যাসে পাঠকদের ঝোঁকটা একটু বেশি। আবার কিছু পাঠক আছেন যারা প্রবন্ধ পড়তে ভালবাসেন। তাদেরকে আমি ভাল পাঠক বলব। লেখকদের কারণে মেলাটা কিন্তু ভাগ হয়ে গেছে। লেখকদের নাম যদি উচ্চারণ করি তাহলে প্রথমেই কিন্তু আসবে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ, ড. হায়াৎ মামুদ, শামসুজ্জামান খান, সেলিনা হোসেন। অবশ্য তার আগেই নাম আসবে শওকত ওসমান, শওকত আলী, আহমেদ ছফা, বদরুদ্দিন ওমর।

কারণ সাহিত্য বোঝাতেই তাদের নাম উচ্চারণ করতে হবে। কিন্তু এখন মেলাতে কার বই বেশি চলছে? জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, সুমন্ত আসলামের। এখনও হুমায়ুন আহমেদের বই চলছে। তার মানে কি? উপন্যাসের পাঠক আছে অনেক। না হলে এত বই চলবে কেন। কিন্তু সাহিত্যের মান বিবেচনা করলে পূর্ববর্তীদের বইগুলো সেরা। আমরা যেটাকে ক্ল্যাসিক বলি। এই বইগুলোর আবার পাঠক তুলনামূলক কম। কিন্তু তাদের লেখাগুলো একদিনে অনেক বিক্রি না হলেও টিকে আছে দিনের পর দিন।

আজ সারাবেলা: প্রকাশক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ও অগুরুত্বপূর্ণ লেখা ও লেখক কিভাবে মূল্যায়ন করেন? বই বিক্রি না সাহিত্যমূল্য কোনটা এখানে বিবেচ্য বেশি?

হাসান জায়েদী: কে গুরুত্বপূর্ণ লেখক এবং কে অগুরুত্বপূর্ণ সেটা আসলে নির্ধারণ করা কঠিন। অনেক নতুন ও তরূণ লেখকরা এক লেখা দিয়েই বাজিমাত করছেন। অনেকেই তাদের লেখা বা পাবলিশিটিতে এগিয়ে যাচ্ছেন। যেমন ধরেন গত ৫ তারিখে ক্রিকেটার সাকিবের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করলাম। সাকিব আল হাসানের প্রথম বই ‘হালুম’ পার্ল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয়েছে। স্টলে তুমুল ভিড় লেগে যায়। সাকিবের আগে কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখকদের বই প্রকাশিত হয়েছে। আজকে কিন্তু তাদের বই কেউ ধরেননি। শুধু সাকিবরে বই বিক্রি হয়েছে। সাকিবকে কি আমরা লেখক বলব? সাকিব কিন্তু একজন খেলোয়াড়। সেরা ক্রিকেটার। বড় ক্রিকেট সেলিব্রেটি বলেই তার বইয়ের কাটতি বেশি।

এবারের বইমেলায় পার্ল পাবলিকেশনের অনেকগুলো বইয়ের মধ্যে সাকিব আল হাসানের হালুম উল্লেখযোগ্য একটি বই।

আজ সারাবেলা: বড় সেলিব্রেটিদের বই সারা দুনিয়াতেই সাড়া ফেলে। এই বাস্তবতার পরও প্রকাশক হিসেবে আপনি লেখক মূল্যায়ন করেন কিভাবে?

হাসান জায়েদী: প্রকাশক হিসেবে বাণিজ্যিক মূল্য আমাদের মাথায় থাকে। তারপরও লেখকের মূল্য মূলত লেখায়। যে লেখায় নতুন চিন্তা আছে, ভাবনা আছে, পাঠকের হৃদয়কে আন্দোলিত করে সেই লেখা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। লেখা ও লেখকের মধ্যে যদি সামাজিক পর্যবেক্ষণ, রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ না থাকে তবে সেই লেখাকে আমি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি না। শুধু লিখবার জন্য লিখলেই সেটি লেখা হয় না।

আজ সারাবেলা: নতুন লেখকদের বই অনেক প্রকাশকই বের করতে চান না। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?

হাসান জায়েদী: কিছু প্রকাশক আছেন যারা নতুনদের বই আগ্রহ নিয়ে প্রকাশ করেন। প্রকাশের জায়গাটা কিন্তু খুবই বাস্তবধর্মী। এখানে টাকার একটা বিষয় থাকে। বিক্রির কিছু ব্যাপার থাকে। এত কিছুর পরও কিন্তু পাঁচ-ছয়জন নতুন লেখকদের বই প্রকাশ করা হয়। নতুন লেখকদের নির্দিষ্ট কিছু সময় দেওয়া হয়। যেমন ধরেন, পাঁচ বছর একজন তরুণ লেখককে সুযোগ দিব। এর মধ্যে ভাল ফলাফল পেলে ভাল। না হলে নতুন আরেকজনকে সুযোগ দিতে চাই আমি।

এখানে আরো বিষয় রয়েছে। বইয়ের প্রচারের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিতে হয়। প্রথম আলো পত্রিকায় এক ইঞ্চি এক কলাম বিজ্ঞাপনের জন্য দিতে হয় চার হাজার টাকা। দুই ইঞ্চি দুই কলামের জন্য আট হাজার টাকা। নতুন লেখকদের পিছনে আমাদের বিনিয়োগ করতে হয়। একজন নতুন লেখকের জন্য আমাকে সারা মেলায় আট থেকে দশটি বিজ্ঞাপন দিতে হয়। এতে করে আমার লাভের অংশ কমে যায়। প্রতিষ্ঠিত আট থেকে দশটি প্রকাশনী এই খরচ করতে পারে। সবাইতো পারে না। এ কারণেই প্রকাশকদের অনেকেই নতুন লেখকদের ছেড়ে দিচ্ছেন।

আজ সারাবেলা: বিজ্ঞাপনের আলোচনা সূত্র ধরেই বলি। এখন পত্রিকা খুললেই লেখকদের ছবি দিয়ে বইয়ের বিজ্ঞাপন। প্রতিষ্ঠিত লেখকদের চেয়ে অপ্রতিষ্ঠিত লেখকদের বিজ্ঞাপনের সংখ্যাই বেশি চোখে পড়ে। বিজ্ঞাপন কতটা লেখক তৈরি করতে পারে বলে মনে করেন?

হাসান জায়েদী: আমি কখনই মনে করি না বিজ্ঞাপন লেখক তৈরি করতে পারে। অনেকেই মনে করেন বিজ্ঞাপন না দিলে বই বিক্রি হবে না। এখন কথা হচ্ছে, একজন নতুন লেখককে পাঠকরা চিনবেন কিভাবে? তার লেখাটা যখন নিয়মিতভাবে পত্র-পত্রিকায় ছাপা হবে। পাঠক পড়তে পড়তেই লেখককে ভালবেসে ফেলবেন। তার লেখার অনুরাগী হয়ে পড়বেন। এই সুযোগটা যদি নবীন লেখক পান তবেই তিনি নিজের লেখা যাচাই করতে পারবেন, নিজের উন্নতি করতে পারবেন। নতুন লেখকদের জন্য প্রত্যেক দৈনিক পত্রিকার উচিত একটি নির্দিষ্ট পাতা বরাদ্দ রাখা। যাতে করে নতুন লেখক নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারেন। আমরা এক সময় টার্গেট করতাম ঈদ সংখ্যা বা সাহিত্য পাতায় ছাপানো লেখাকে। আমি আশির দশক-নব্বই দশকের কথা বলছি। তখন কিন্তু লেখকদের পত্রিকায় ছাপানো লেখা দেখেই প্রকাশকরা যোগাযোগ করতেন। এই সংস্কৃতি কিন্তু প্রায় নেই বললেই চলে। মুশকিল হচ্ছে যে, এই জায়গাটা যদি সচল না থাকে তাহলে আমাদের বইয়ের মান আরো কমবে। তখন প্রকাশকরা প্রতিষ্ঠিত লেখকদের পেছনে দৌড়াতে থাকবেন। আর তরুণ ও নবীন লেখকরা অবহেলিত হতে থাকবেন।

আজ সারাবেলা: সারা বছর লেখেন না, কোথাও লেখা ছাপা হয় না। শুধুমাত্র বইমেলা আসলে বই প্রকাশিত হয়। এমন লেখকদের নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

হাসান জায়েদী: এরা আসলে লেখক নন, মৌসুমী লেখক। অনেকেই আছেন, যারা টাকা নিয়ে বই প্রকাশ করেন। আমি বিষয়টিকে খুব ঘৃণা করি। এই বিষয়টি কিন্তু আমাদের মেলার জন্য, প্রকাশকদের জন্য এবং যারা লিখছেন তাদের জন্যও ক্ষতিকারক। কিছু লোক রয়েছেন যাদের বইমেলায় বই বের করতেই হবে। পাঠক পড়ুক আর নাই পড়ুক। এই লেখকরা কখনো কখনো জোরাজুরি করেন। টাকার নিশ্চয়তা দেন। তখন প্রকাশক কি সুযোগটি ছেড়ে দিবেন? প্রকাশক তো ব্যবসায়ী। বই প্রকাশ করতে যদি ৪০ হাজার খরচ হয় আর লেখক যদি ৭০ হাজার টাকা ঢেলে দেন তাহলে প্রকাশক কি করবেন? তাতে অসুবিধা কোথায় প্রকাশকের। ব্যবসাতো হচ্ছে। এই বিষয়ে সাহিত্যের বিজ্ঞজনদের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে একটি সেল তৈরি করা উচিত।

আজ সারাবেলা: বইয়ের সঙ্গে সম্পাদনা জড়িত। সারা পৃথিবীতে প্রকাশকদের এডিটরস প্যানেল আছে। কিন্তু আমাদের এখানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এডিটরস প্যানেল অনুপস্থিত, কেন?

হাসান জায়েদী: একেবারেই যে নেই তা বলা যাবে না। তবে সেই সংখ্যা নগণ্য, তা আমি নিজেও স্বীকার করছি। এডিটরস প্যানেলের বিষয়টি ব্যয়বহুল। তবে প্রকাশনা শিল্পের সঙ্গে জড়িত সকলের সহযোগিতা বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারে। তবে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করতে চাই। কখনো কখনো প্রæফ রিডাররা এখানে সম্পাদনার প্রাথমিক কাজটি করে থাকেন। অথচ আমরা বইয়ের কোথাও তাদের নামটিও উল্লেখ করি না। আমার মনে হয় সেটি প্রত্যেকেরই করা খুব জরুরি।

আজ সারাবেলা: জনপ্রিয় লেখকেরা আগেও ছিলেন।এখনকার অনেক লেখককে যেভাবে বইমেলায় বিক্রির জন্য ঘোষণা দিয়ে যেভাবে অটোগ্রাফ দেখা যায়, সেটা আগে কখনো দেখা যেত না। এই দুই সময়ের লেখক ও পাঠকদের তুলনা যদি করেন?

হাসান জায়েদী: বই মেলায় অটোগ্রাফ শিকারী বেড়েছে, পাঠক বাড়েনি। এখন দেখতে হবে ক্রেতারা কারা। কেউ আছেন অটোগ্রাফ শিকারী, কেউ আছেন ফটোগ্রাফ শিকারী। বিখ্যাত লেখকের একটি অটোগ্রাফ সম্বলিত বই কিনে সেলফি তুলতে পারলেই ক্রেতা-পাঠক খুশি। সুতরাং লেখক কি করবেন? যেমন ধরেন জাফর ইকবাল স্যার। উনার কিন্তু অটোগ্রাফ দিয়ে বই বিক্রির প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাচ্চারা যেভাবে তাকে ঘিরে ধরে, তখন অটোগ্রাফ দেওয়া ছাড়া উপায় থাকে না। প্রত্যেক লেখকের একটা ফ্যান গ্রæপ থাকে। তারা প্রিয় লেখকের বই কেনেন। অটোগ্রাফ নেন। কিন্তু একটা সময়ে এটি ছিল না। অতীতের বিশিষ্ট লেখকরা শুধু লিখেই গেছেন। নিজের জন্য, মানুষের জন্য। তার বিদ্যা কলম হয়ে কাগজে লিপিবদ্ধ হয়েছে। উনি চাচ্ছেন জাতিকে আমি কিছু দিয়ে যাই। উনাদের এগুলো নিয়ে মাথা ব্যথা ছিল না। পাঠকদেরও অটোগ্রাফ ইত্যাদি নিয়ে এত মাতামাতি ছিল না। পাঠকরা উৎকৃষ্টমানের বই চাইতেন। যে বই পড়ে জ্ঞানের দরজা আরো বিস্তৃÍত হবে।

আজ সারাবেলা: পাঠক কমে গেছে, সেলফি শিকারী বেড়ে গেছে। আবার অন্য একটি চিত্রও রয়েছে। প্রচুর পাঠক কোলকাতার বই পড়ছেন। ইংরেজি বই পড়ছেন। তবে কি আমাদের লেখকেরা পাঠকের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট সামর্থ্যবান নয়?

হাসান জায়েদী: নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলি। ২০১০ সাল, মোস্তফা কামাল তখনও এতটা পরিচিত হননি। তার একটি ইংরেজি বই আমি প্রকাশ করেছিলাম। ফ্লেমিং ইভেন্ট টাইড। ওই বইটি এক মেলায় আমি সাড়ে নয়শত কপি বিক্রি করেছিলাম। আমি নিজেই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। হ্যাঁ, বিজ্ঞাপন গিয়েছিল দু-তিনটা। ক্রেতা দেখে বুঝেছিলাম তারা ইংলিশ মিডিয়ামের শিক্ষার্থী। ইংরেজি পড়ে এমন বড় একটি অংশ আমাদের এখানে রয়েছে। অথচ এই বাজারটি আমরা ধরতে পারিনি।

কোলকাতার সোসাইটি ও মিডিয়া সারা বছরজুড়ে বইকে যেভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে তা এখানে অনুপস্থিত। এখানে কেবল ফেব্রæয়ারি এলেই বই আর লেখক নিয়ে আলোচনা হয়। বছরের অন্যান্য সময়ে কোন খবর থাকে না। আপনি ঢাকা শহরের দিকে লক্ষ্য করলে দেখবেন, জিম-পার্লার-ফুডকোর্ট মোড়ে মোড়ে তৈরি হচ্ছে। অথচ বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরি দুটোর একটিও নেই। পুঁজিবাদ ও ভোগবাদীতা মানুষকে শ্রম ও মেধার জায়গা থেকে সরিয়ে বিলাসিতায় বন্দি করছে। মানুষ জ্ঞানের চেয়ে অর্থ-বিত্তের দিকে বেশি ধাবিত হচ্ছে।

আজ সারাবেলা: বলা হয় ‘প্রকাশনা একটি শিল্প’। তবে এর সঙ্গে ব্যবসায় জড়িত। সবকিছুর পর প্রকাশক হিসেবে আপনার আত্মতৃপ্তির জায়গাটা কোথায়?

হাসান জায়েদী: আমি বিশ্বাস করি কাজে। অতৃপ্তি যতই থাকবে, ততই আরও ভাল কাজ করতে চাইব। প্রকাশক হিসেবে আমি আরও আরও আরও ভাল বই প্রকাশ করতে চাই। চাই মানুষের চিন্তাকে আন্দোলিত করতে। এক সময় কেউ হয়তো একটি পান্ডুলিপি নিয়ে এসেছে, ভেবেছে আদৌ তার বইটি প্রকাশিত হবে কি না। হয়তো এখন তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক। এটিও আমাকে একধরনের আনন্দ দেয় বটে। সবচেয়ে বড় কথা, যে বই মানুষের চোখ খুলে দেয়, মন খুলে দেয়, সেটি প্রকাশ করতে পারার আনন্দটাই আমি অনেক বেশি উপভোগ করি।

আজ সারাবেলা: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

হাসান জায়েদী: আজ সারাবেলা’কেও ধন্যবাদ।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রবি/সাক্ষাৎকার/বইমেলা/প্রকাশক/পার্ল/পাবলিকেশনস