ভালোবাসা মানে কি প্রতিমুহূর্তে কাছে থাকা? - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
mohammed-kajol-1
মোহাম্মদ কাজল।ছবি : সংগৃহিত

ভালোবাসা মানে কি প্রতিমুহূর্তে কাছে থাকা?

প্রকাশিত :২৩.০২.২০১৮, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
  • মোহাম্মদ কাজল
    ভ্যালেন্টাইন-ডে গেল, রৌজ-ডে, চকলেট-ডে, প্রপৌজ ডেও তো চলে গেল। এলো বসন্ত তাও চলে যাবে! এসব দিনক্ষণ, ঋতু তো কেবল দৃশ্যমান ভালোবাসার জন্য, অন্তরের ভালোবাসার জন্যে নয়।

দৃশ্যমান ভালোবাসা দেখতে দেখতে বর্তমান প্রজন্ম ভুলেই যাচ্ছে যে, ভালোবাসার অদৃশ্য শক্তি কত প্রখর। কত তীক্ষ্ণ আর বৃহৎ।
আজকাল, একদিন ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেই ভয় হয়। এই বুঝি শেষ হলো।
সে বুঝি আমায় এভয়েড করছে। মুহুর্তের মধ্যে নানা কল্পনায় ফাটলের ক্ষরণ হতে থাকে।

তুলনামূলক ভালোবাসা আরও বেশি ভয়ংকর। তাদের সঙ্গে ওদের ভালোবাসা নাও মিলতে পারে। প্রত্যেকটা মানুষের যেমন আলাদা হৃদয়, সেই হৃদয়ে প্রস্ফুটিত প্রেমের ধরনটাও আলাদা।

তাই তুলনা করলে ভালোবাসার ওজনটা কেবল কমতেই থাকে।

অস্থির এই সময়ে প্রেম ভালোবাসার ধরনটা অস্থির হয়ে গেছে। হাতের মুঠোফোনটি যেমন প্রতিদিন চার্জ করতে হয়, হালের ভালোবাসাতেও পড়েছে তার প্রভাব। প্রিয় মানুষটিকে কোন না কোনভাবে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাখতে হয়। ঠিক প্রতিদিন রিচার্জ করার মতই একটা ব্যাপার।

সে যুগের ভালোবাসা আর আধুনিক ভালোবাসার মধ্যে ঘটছে বিস্তর ফারাক। এ প্রজন্মের ভালোবাসা কেবল দৈহিক কামনা বাসনা আর রং ঢংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আর শেষ পটভূমি কেবল তিক্ততা আর নৈতিকস্থলন।

আমরা যদি লাইলী- মজনু, শিরিন-ফরহাদ, চন্ডিদাশ আর রজকিনী’র ভালোবাসার কথা বলি। সে সব ইতিহাস হয়ে আছে কেবল ধৈর্য্যের অসীম পরীক্ষা, ত্যাগের অপার মহিমা আর অগাধ বিশ্বাসের কারণে।

পৌরানিক ভালোবাসার যত কাহিনী তার সবই ছিল বিচ্ছেদ, অগ্নিপরীক্ষার মিলন, আর অসম বন্ধুর পথ।
লাইলী মজনুর প্রেমে, ছিল না স্বার্থ আর লোভ। একজন রাজপুত্রের সঙ্গে বেদুইন সর্দারের মেয়ের প্রেম। ছিল কেবলই মনের খেলা।

শিরিন-ফরহাদের প্রেমে একে অন্যের জন্য জীবন দিয়েছে।
আকবর পুত্র সেলিমের চোখের সামনেই আনারকলিকে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়।

রাজপুত্র চন্ডিদাস, ধোপার মেয়ে রজকিনীর জন্য প্রতিদিন ঘাটে বড়শি ফেলে বসে থাকতো। একদিন নয়, দুদিন নয়…প্রতিদিন।
একাধারে কেটে গেল বারোটি বছর। তবু ভালোবাসার কথা চন্ডিদাস মুখফুটে বলতে পারেনি। একদিন রজকিনীই তা প্রকাশ করলো।
সেই যুগের গানের ভাষা গুলো ও ছিল এমন-ভালোবাসি বলেই ভালোবাসি বলিনি।

অথবা, তুমি নিজের মুখেই বললে যেদিন, সবই তোমার অভিনয়, সত্যি কোন কিছু নয়,
আমি দুঃখ পেলেও খুশি হলাম জেনে।

হালের ভালোবাসার কৌশলের কাছে পৃথিবীর অমর প্রেমগুলো যেন ম্লান হয়ে যাচ্ছে।

সব শেষে বিশিষ্ট কলামিষ্ট জব্বার হোসেনের কথায়, ভালোবাসি তোমায় প্রতিদিন, ভালোবাসি তোমায় অনেক বেশি।
তবে সেটা লোক দেখানো নয়, অন্তর থেকে অন্তরে যেন বয়ে যায়।

লেখক : সরকারি কর্মকর্তা

আজসারাবেলা/কলাম/ভালবাসা

আরও পড়ুন বিষয় : কলাম