বরিশালে দুই গৃহকর্মীকে দেড় বছর ধরে নির্যাতন - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

ব্যবসায়ী দম্পতি আটক
বরিশালে দুই গৃহকর্মীকে দেড় বছর ধরে নির্যাতন

প্রকাশিত :০৬.০৩.২০১৮, ১:০১ অপরাহ্ণ

শামীম আহমেদ, বরিশাল : বরিশাল নগরীতে দুই গৃহকর্মীকে দেড় বছর ধরে নির্যাতনের ঘটনায় গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর বাজার রোড এলাকার নিজবাসা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হল, বাজার রোডের এ এন্ড জে এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর জুয়েল আহম্মেদ ও তার স্ত্রী ইসরাত জাহান দিনা।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এস এম রুহুল আমিন জানান, গৃহকর্তা ও তার স্ত্রীর নির্যাতনের শিকার আসফিয়া নামের মেয়েটি তাদের বাসা থেকে পালিয়ে যায়। সে পালিয়ে গিয়ে এয়ারপোর্ট থানাধীন দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকায় চলে যায়। তারপর পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধারের পর আসফিয়া পুলিশের কাছে নির্যাতনের কথা জানান। তার সাথে আরো এক গৃহকর্মী আয়শাকেও নির্যাতন করা হয় বলেও জানায় আসফিয়া। সেই সূত্র ধরে তাকে নিয়ে পুলিশ এই বাসায় এসে নির্যাতনের সত্যতা পায় এবং অপর গৃহকর্মীকেও উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় ওই বাসার গৃহকর্তা জুয়েল ও তার স্ত্রী দিনাকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার জানান, দুই গৃহকর্মীকে এই বাসায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হত। এদের দুইজনকেই জোড় করে আটকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে তাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গে।
এস এম রুহুল আমিন বলেন, গৃহকর্তী ইসরাত জাহান দিনার সাথে কথা বলেছি আমরা। তিনি উচ্চ শিক্ষিত একজন নারী। এমন শিক্ষিত লোকজনদের দ্বারা এমন আচরণ আসলেই খুব দুঃখজনক।

নির্যাতনের শিকার আসফিয়া জানায়, দেড়বছর যাবৎ তাকে আটকে রাখা হয়েছিল এই বাসায়। ঠিকমত খাবার দিলেও নির্যাতন করা হত প্রচুর। এই নির্যাতন থেকে বাঁচতে সে পালিয়ে এয়ারপোর্ট থানাধীন দক্ষিণ বাঘিয়া এলাকার বাসিন্দা রেনু বেগমের বাসায় গিয়ে পানি পান করতে চাই এবং সেখানে বসে এই ঘটনা বলি। এরপরেই পুলিশ আমাকে সেখান থেকে নিয়ে যায়।
জানা গেছে, ২৯নং ওয়ার্ড এলাকার রাজ্জাক খান সড়কের বাসিন্দা রাহাত হাওলাদার এক সংবাদকর্মীকে বিষয়টি জানানোর পর ওই সংবাদ কর্মী পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করার প্রেক্ষিতে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীকে উদ্ধার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র সহকারি কমিশনার মো: শাখাওয়াত হোসেন বলেন, নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং নির্যাতনের শিকার দুই গৃহকর্মীকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে আনা হয়েছে।