ভ্রমণের নেশায় নেপালে যান পিয়াস - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত
ভ্রমণের নেশায় নেপালে যান পিয়াস

প্রকাশিত :১৩.০৩.২০১৮, ৭:৫১ অপরাহ্ণ

শামীম আহমেদ, বরিশাল : নেপালের কাঠমান্ডুতে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত বিমানের যাত্রী ছিলেন বরিশালের সন্তান পিয়াস রায়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এ দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে স্বজনদের আহাজারিতে বরিশাল নগরীর নতুনবাজারস্থ মথুরানাথাত পাবলিক স্কুল সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের চতুর্থতলার ফ্লাট বাসায় চলছে শোকের মাতম। স্তব্ধতা বিরাজ করছে গোটা এলাকাজুড়ে। স্বজনরা যেখান থেকে যে খবর পাচ্ছেন তা নিয়েই ছুটে আসছেন তাদের বাসায়।

পিয়াস রায় জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দাড়িয়াল ইউনিয়নের মধুকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সুখেন্দু বিকাশ রায়ের পুত্র। তারা বরিশাল নগরীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। সুখেন্দু বিকাশ রায় ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার চন্দ্রকান্দা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বরিশাল সরকারী পলিটেকনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।
তাদের এক পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে পিয়াস রায় বড়। পিয়াস বরিশাল জিলা স্কুল থেকে এসএসসি ও ঢাকা নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে গোপালগঞ্জের শেখ সাবেরা খাতুন মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি হন। ছাত্রজীবনে ওই মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন পিয়াস।

পিয়াসের মা পূর্ণা রানী মিস্ত্রি বলেন, গত ১১ মার্চ রাতে বরিশাল থেকে লঞ্চযোগে ঢাকায় যায় পিয়াস। সেসময় তিনি তার ছেলেকে লঞ্চঘাটে দিয়ে আসেন। ১২ মার্চ সকালে ঢাকায় চাচাতো ভাইয়ের বাসায় গিয়ে ওঠে পিয়াস। সেখান থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নেপালের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পিয়াস। তিনি আরও বলেন, সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পিয়াসের সাথে তার শেষ কথা হয়েছে। তখন পিয়াস জানিয়েছিলো, কিছুক্ষণের মধ্যে সে বিমানে উঠবে। এরপর আর তার সাথে কোনো যোগাযোগ হয়নি।

পিয়াসের ছোট বোন শুভ্রা রায় বলেন, পিয়াস (ইঈ০৭৫৯৮৯৯) নম্বরের পাসপোর্টধারী যাত্রী ছিলো। তার টিকিটে যাওয়ার ফ্লাইট নম্বর ছিলো (ইঝ ২১১)। ওই এয়ারওয়েজেরে (ইঝ ২১২) নম্বর ফ্লাইট ধরে ১৬ মার্চ বেলা তিনটায় কাঠমান্ডু থেকে পিয়াসের ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়ার কথাছিলো। দুটি টিকিটই অগ্রিম কাটা ছিল।

পিয়াসের বোনজামাই শুসময় সরকার বলেন, পিয়াস এসএসসি পরীক্ষার পর থেকে অবসর সময়ে নানান জায়গায় ঘুরতে যেতেন। ইতোমধ্যে দেশের বাহিরে ভারতে ছয়বার ও নেপালে আরও দুইবার ভ্রমন করেছেন। কয়েকদিন আগে তার মেডিক্যাল কলেজের শেষবর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে। পরীক্ষা দিয়েই সে নেপাল ভ্রমনে যায়।
একমাত্র ছেলের এমন দুর্ঘটনায় দিশেহারা পিয়াসের বাবা সুখেন্দু বিকাশ রায় জানান, দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হয়েছেন পিয়াস ইউএস বাংলার ওই বিমানের যাত্রী ছিলো। আবার একটি টেলিভিশন চ্যানেলেও পিয়াসের ছবি দেখানো হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই ভ্রমণ পিপাসু পিয়াস ছুটি পেলেই তিনি ঘুরতে বেরিয়ে পড়তো দেশ থেকে দেশান্তরে। আর আজ সেই ভ্রমণই কেড়ে নিয়েছে পিয়াসের জীবন।