‘আমি জনগণেরই একজন; জনগণের জন্যই আমার জীবন-মৃত্যু!’ - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

‘আমি জনগণেরই একজন; জনগণের জন্যই আমার জীবন-মৃত্যু!’

প্রকাশিত :১৭.০৩.২০১৮, ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ

ডেস্ক রিপোর্ট : নিজ জন্মদিনে কেক কাটা কিংবা মোমবাতি জ্বালাতেন না জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি বিশ্বাস করতেন, জনগণের জন্যই তাঁর জীবন ও মৃত্যু।

একাত্তরের ১৭ মার্চ ছিল বঙ্গবন্ধুর ৫২তম জন্মদিন। সেদিন জনতা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গেলে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্মদিনই কী আর মৃত্যু দিনই বা কী? সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমি জনগণেরই একজন। জনগণের জন্যই আমার মৃত্যু ও জীবন।

পরিষ্কারভাবে তিনি বলেন, জন্মদিন পালন করেন না তিনি। এমনকি জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালানো কিংবা কেকও কাটেন না।

তবে সেদিন বায়তুল মোকারম মসজিদে আছর নামাজের পর বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেছিলেন মাওলানা শেখ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ বিন সায়িদ জালালাবাদী।

পরের দিন দৈনিক পূর্বদেশ, ইত্তেফাক ও আজাদ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত সংবাদ ছাপা হয়। মাহমুদ হাসানের ‘দিনপঞ্জি একাত্তর’ এবং ড. মোহাম্মদ হান্নানের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গ্রন্থেও একাত্তরের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন সংক্রান্ত এ বিবরণ পাওয়া যায়।

‘দিনপঞ্জি একাত্তরে বলা হয়, এদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সমাজের সর্বস্তরের মানুষ মিছিল করে বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে গিয়ে তাদের প্রানপ্রিয় নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। সেদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ছাড়াও ছিল তাঁর ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের ষোড়শ দিবস। সকাল ১০ টায় তিনি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করেছিলেন।

কড়া সামরিক প্রহরার মধ্যে রমনার প্রেসিডেন্ট ভবনে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী ছিল। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে তৃতীয় কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট ভবন থেকে বেরিয়ে এলে প্রধান ফটকের সামনে অপেক্ষামান দেশী-বিদেশী সাংবাদিকরা বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ধরেন। তিনি এসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে নিজ বাসভবনে ফিরে যান।

বাসভবনে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের আনুরোধে বঙ্গবন্ধু তাদের সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় মিলিত হন। এসময় বিদেশী এক সাংবাদিক বাংলাদেশের নেতাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে জানতে চান, ৫২তম জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় কামনা কী?

জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, জনগণের সার্বিক মুক্তি। অপর এক প্রশ্নের জবাবে, জন্মদিন পালন করেন না  উল্লেখ তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আমার জন্মদিনে মোমবাতি জ্বালাই না, কেকও কাটি না।”

সূত্র: বাসস