বরিশালে লোকালয়ে চলছে ইটভাটার কার্যক্রম - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে
বরিশালে লোকালয়ে চলছে ইটভাটার কার্যক্রম

প্রকাশিত :২০.০৩.২০১৮, ৬:১৩ অপরাহ্ণ

শামীম আহমেদ, বরিশাল : হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে জেলার বানারীপাড়া উপজেলার লোকালয়ে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনা করে আসছেন সহদর প্রভাবশালীরা। ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বাইশারী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তাজেম আলী হাওলাদারের পিতা সাবেক ইউপি সদস্য সেকেন্দার আলী হাওলাদার তার বসত বাড়ির পাশে লোকালয়ে ‘মাহিন’ ব্রিকস নামের একটি অবৈধ ইটভাটা নির্মাণ করে ফলদ, বনজ, ঔষধী গাছের ক্ষতিসাধণসহ পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে ফেলার অভিযোগ এনে হাইকোর্টে রিট করেন।

এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ছয় মাসের জন্য অবৈধ ওই ইটভাটার কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবেনা তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে বিবাদী বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার, বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি এবং বাইশারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে চার সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলেছেন।

সূত্রমতে, ওই আদেশে ৭২ ঘন্টার মধ্যে অবৈধ ইট ভাটা বন্ধ করারও নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু বিবাদীরা অবৈধ ইট ভাটা বন্ধে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ‘মাহিন’ ব্রিকসের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।

স্থানীয় প্রভাবশালী বাবুল গোমস্তা ও তার ভাই নুরুল ইসলাম গোমস্তা ভাটা বন্ধ না করে ‘মাহিন ব্রিকস’র নাম পরিবর্তন করে ‘এডিবি ব্রিকস’ নামকরণ করার পাশাপাশি ওই ভাটা সংলগ্ন আরও একটি ড্রাম চুল্লী ভাটা নির্মাণ করে ইট পোড়ার কাজ শুরু করেছেন। ভাটার নাম পরিবর্তন করা হলেও মাহিন নামের ইট পোড়ানো হচ্ছে।

অপরদিকে ব্রিকেসের মালিকদের বিরুদ্ধে একই এলাকায় আবেদ আলী হাওলাদারের সম্পত্তি জবর দখল করে ভাটা সম্প্রসারণের চেষ্টা করার অভিযোগে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের বিচারক শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য থানার ওসিকে নির্দেশ দিলে এসআই জুবায়ের হোসেন সরেজমিনে গিয়ে ব্রিকসের মালিকদের সর্তক করেন। এতেও প্রভাবশালীরা কোন কর্ণপাত না করে আবেদ আলীর সম্পত্তির সীমানা বেড়া ভেঙ্গে গাছ পালা কেটে নদীতে ফেলে দিয়ে ভাটা সম্প্রসারণ করেছেন। ফলে ভাটার মালিক দুই সহদরের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ও জজ কোর্টের আদেশ অমান্য করার ঘটনায় ওই এলাকায় নানাপ্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এ ব্যাপারে ব্রিকসের মালিক নুরুল ইসলাম গোমস্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিফ না করায় তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শরিফুল ইসলাম জানান, হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিপুল চন্দ্র দাসকে সরেজমিনে পাঠিয়ে অবৈধ ইট ভাটার কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ওই নির্দেশ পাওয়ার পরেও কার্যক্রম চালানো হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।