ভালো আছেন অদিতি বৈরাগী! - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
dr.shwakawat-hossain-shyontho-ajsarabela-cloumn
ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ

ভালো আছেন অদিতি বৈরাগী!

প্রকাশিত :০৮.০৩.২০১৮, ১:৩৬ অপরাহ্ণ
  • ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ
    গতকালই ঐতিহাসিক সাত মার্চে আওয়ামী লীগের মিছিলের সামনে পড়ে শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে অদিতি বৈরাগী নামে এক স্কুলছাত্রী।

সাতই মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগের জনসভাকে কেন্দ্র করে অচল হয়ে পড়েছিল পুরো রাজধানী শহরটি। জনদুর্ভোগ ছিল অবর্ণনীয়।
বাস না পেয়ে শান্তিনগর থেকে মেয়েটির হেঁটে আসতে হয়েছিল বাংলামটর পর্যন্ত।

সেখানেই রাজনৈতিক কর্মী নামের কিছু পশুর কবলে পড়ে স্কুল ড্রেস পড়া এই মেয়েটি।মেয়েটি তার ওপর যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখে –

‘আমার দুইটা হাত এতোগুলা হাত থেকে নিজের শরীরটাকে বাঁচাইতে পারে নাই। … প্রচণ্ড শরীর ব্যথা ছাড়া আর কোন কাটাছেঁড়া নাই। মেন্টালি ভয়াবহ বিপর্যস্ত বাট শারীরিকভাবে ভালো আছি।এই শুয়োরদের দেশে আমি থাকবো না। জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকবো না। থাকবো না, থাকবো না ..।’

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার প্রেক্ষিতে অদিতি বৈরাগী আরেকটি স্ট্যাটাস দিয়ে লিখেছে,
‘আমি ভালো আছি সুস্থ আছি। পোস্ট টা অনলি মি করেছি কারণ পোস্টটা রাজনৈতিক উস্কানিমূলকভাবে শেয়ার করা হচ্ছিলো। আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোস্টটা দেইনি। প্লাস আমার কলেজ কে জড়ানো হচ্ছিলো এই ব্যাপারে। ব্যাপারটার সাথে আমার কলেজের কোনো সম্পর্ক নাই।’

আসলেই কি এই বয়সের একটি স্কুলছাত্রী এমন পাশবিক পরিস্থিতিতে পড়ার পড়ে ভালো থাকে! ভালো থাকতে পারে! কয়েক ঘণ্টা আগেই যে মেয়েটি লিখেছে, এই শুয়োরদের দেশে আমি থাকবো না, তার মন থেকে এতো তাড়াতাড়ি ওই দুঃসহ বেদনার ক্ষত চলে যাবে!

আসলে এই ছোট্ট মেয়েটি তার জীবনটাকে ওই পশুদের দেশে আরো ঝুঁকির মধ্যে হয়তো ফেলতে চায়নি। হয়তো চায়নি যে তাকে কোন রাজনৈতিক ঘুটির চালে ফেলে দিক কেউ। তাই হয়তো দিতে হয়েছে নতুন স্ট্যাটাস। গুম করে ফেলতে হয়েছে আগেরটি।
এই জঘন্য অপরাধীদের যে কিছুই হবে না সেটা বুঝতে কারো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। বড়জোর তদন্তের নামে একটা আইওয়াশ দেয়া হবে।

এ দেশে ক্ষমতাসীনদের ব্যানারে যা খুশি তাই করে পাড় পেয়ে যাওয়ার নজীরই তো আদর্শ!
এই সব পশুদের যে কোন দল থাকতে পারে না, রাজনীতি থাকতে পারে না, সেটা কবে কোন রাজনৈতিক ‌’বড় ভাই’ বুঝেছে?

দেশের শতকরা আশি ভাগ তরুণ যেমন দেশ ছেড়ে চলে যেতে চায় (সূত্র: প্রথম আলো), তেমনি হয়তো সুযোগ পেলে কোন এক সময় নিরবে অদিতিরাও চলে যাবে ‘শুয়োরদের দেশ’ ছেড়ে।

দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ওই সব হতাশাগ্রস্ত তরুণ বা অদিতিদের মনে যদি আস্থা ফিরিয়ে না আনা যায়, যদি প্রমাণ করা না যায় যে এই দেশটা ওই সব গুটি কয়েক ‘শুয়োরদের’ নয়, এই দেশটা কোটি কোটি মানুষের, এই দেশটা অদিতিদের, তবে নিশ্চিত এই দেশটি পুরোপুরি পরিণত হবে ‘শুয়োরদের’ অভয়ারণ্যে।কিন্তু এই আস্থাটা ফিরিয়ে আনবে কে?রাজনীতি যে ক্রমেই ‘শুয়োর’ নির্ভর হয়ে পড়ছে!

 

আজসারাবেলা/কলাম/র/৮/মার্চ/২০১৮