Happy রেশন দিবস - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
কবি শঙ্ঘমিত্র সেন

Happy রেশন দিবস

প্রকাশিত :০৫.০৩.২০১৮, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
  • সংঘমিত্র সেন

এই এক ফ্যাশন হয়েছে
হেঁকে ডেকে রেশন দিচ্ছে।

নারী দিবস- বরাদ্দ এক দিন
যাও নারী এক কেজি সম্মান নিয়ে এসো

মা দিবস- অমুক দিনে মা’কে মনে করো
যাও মা দু’মিটার কাপড় নিয়ে এসো মুখ ঢাকো
তোমার দুই কৃতি সন্তানের দেওয়া স্বান্তনা পুরস্কার

বাবা দিবস- এদিন পিতা কে উপহার দাও !
যাও পিতা পাচঁ’শ টাকার পেনশন তোল !

কন্যা দিবস- চক করে গালে চুমু দাও
যাও কন্যা দুই ভরি সোনা দেবে বাবা
যে তোর জন্মমুহুর্ত বংশরক্ষে হল না বলে তোর মাকে বিপ্ বিপ্।

ফ্রেন্ডশিপ দিবস- ক্ষেদিরে তোর আর আমার পুতুলের বিয়ে
এবার থেকে ওই বাছাই লগ্নেই হবে
যাও বন্ধুগণ এক বস্তা বস্তাপচা ডায়লগ নিয়ে এসো “আমরা না ভালো বন্ধু ”

অবশেষে ভ্যালেন্টাইন দিবস- আজ অন্তত প্রেমের বিজ্ঞাপন দাও
যাও প্রেম পাচঁ কেজি হরির লুটের বাতাসা নিয়ে এসো
এদিনে যাঁদের ফাঁসির হুকুম হয়েছিল তাদের জন্যে।

স্বাধীনতা দিবস- বরাদ্দ আছে তো,
যাও মানুষ পনের হাজার স্বাধীনতার পতাকা নিয়ে এসো !!!
তারপর মত প্রকাশের স্বাধীনতা চৈত্র সেলে বেচে দাও

রেশন দিচ্ছে রেশন দিচ্ছে
যাও দৌড়ে যাও আরে রেশন কার্ড লাগবে না।
ডেথ সার্টিফিকেট লাগবে।
সব মৃত সম্পর্কের জন্যে
সব মৃত অনুভূতির জন্যে
সব মিথ্যে স্বাধীনতার জন্যে
সব ভেঙে পড়া পরিবারের জন্যে
ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে যেও।

আমরা আগে ফাঁকা ঠোঙ্গায় ফুঁ দিয়ে বাতাস ভরে ওর মুখ বন্ধ করে
ধুম করে ফাটিয়ে মজা পেতাম।
আজ আমরা ফাটছি ।
প্রতিটা মুহুর্ত সমস্ত জীবন সম্মান যাঁদের প্রাপ্য ছিলো
তারা মাত্র একটি দিবসের মধ্যে নির্বাসিত !

যাই আমিও দু লিটার কেরোসিন নিয়ে আসি আর একটি দেশলাই কাঠি রেশন দিবস উদযাপন করি।

আমার হাতে হ্যারিকেন, তাই ?
ঝড়ের নাম হ্যারিকেন কে রেখেছে ?
আচ্ছা আমার এ ঘর থেকে এতো পোড়া গন্ধ ছাড়ছে কেনো !
তোমার ঘরে ছাড়ছে না ?

সুখী গৃহকোনে গ্রামোফোন এর শব্দটা আর একটু বাড়িয়ে দেবো ?
দূর মশাই !!! রেশন নিচ্ছেন নিন
মাচায় উঠে চিয়ার লিডারের মতো নাচছেন কেনো
ওহো ওয়াহ্ ওঁয়া ওঁয়া এটাও তো এক জাতীয় পুরস্কার ঠাস ঠাস করে এসে গালে এসে পড়ে !

আমাদের আর ব্যথা লাগে না !

আজকাল সমাজ ও ফ্যাশন করে রেশন চায় – ওর মুখে তিন ফোঁটা পোলিও ড্রপ -ধপ
করে ঢেলে দেবো আমি
-হ্যাঁ ওই তিন ফোঁটাই বরাদ্দ –
এক ফোঁটা লজ্জা পাবে না ও

ফোঁটার সঙ্গে ছেলেভুলানো “চকলেট দিবস” free free free যে !

এবার বলি এক নারীর গল্প- তিনি আমার “ভগবতী মা”
যিনি নিজেকেই নিজে স্বাধীনতা দিয়েছেন
সংসারে উপেক্ষিত এই মা পরিবার ত্যাগ করে দশ বছর ধরে ডেরা বেঁধেছেন পাহাড়ের এক
বিপদজ্জনক বাঁকে, গভীর জংগলে !
চা পাকোড়ার দোকান তাঁর।
পাকোড়া কি দিয়ে তৈরী জানেন ?

‘পাহাড়ি নিমপাতা ‘
এই মুহুর্তে খাচ্ছি আর ভাবছি- নিমে এতো বিদ্রোহী স্বাদ !
-নিম বা ভগবতী নিজেকে কোন উচ্চতায় নিয়ে গেছে, কল্পনার ও বাইরে

বেপরোয়া ভগবতী মা ষাট বছর বয়েসে এখানে একা থাকেন- দোকানের পিছনের ঘরে

দরজা থেকে দুপা এগোলেই অতলান্ত খাদ ।
দুদিন থেকে গেলাম এই ভয়হীন মায়ের আশ্রয়ে।

মা ঝর্নায় স্নান করে ভোরবেলা পাহাড়ের মাথায় উঠে নিমপাতা পারেন
ব্যবসা বা বিপ্লব এর মূলধন ।
লড়াই এর হাতিয়ার শুধু নিমপাতা !
কত সামান্য উপাদানে জীবনের রেসিপি বদলে দেয়া যায়, তাই না !!!
ok আমরা এবার পাকোড়া ভাজি।
খেয়ে বলবেন তো কেমন স্বাদ ?

আর হ্যাঁ, আমাদের “নারীদিবসের’ শুভেচ্ছা জানাবেন না
আমরা ভিক্ষা নিই না !!