জ্ঞান-মেধা চর্চার আগে মানুষ হবার চর্চাটা জরুরি: ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ | Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
abdullah-sir-cover-ajsarabela
ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ।

জ্ঞান-মেধা চর্চার আগে মানুষ হবার চর্চাটা জরুরি: ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ

প্রকাশিত :১৩.০৩.২০১৮, ৭:৪০ অপরাহ্ণ

ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ। শিক্ষাবিদ, শিক্ষা উদ্দ্যোক্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএতে উচ্চশিক্ষার পর মালয়েশিয়া, ফিনল্যান্ড আর আমেরিকায় আরও উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। দেশে ফেরেন দেশপ্রেমের কারণেই। দেশে ফিরে যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই। শিক্ষাকে দেখেন মানবিকতার আলোকময় জায়গা থেকে। নর্দান ইউনিভার্সিটিকে গড়ে তুলছেন সে লক্ষেই। নর্দান ইউনিভার্সিটির ৪র্থ সমাবর্তনের প্রাক্কালে আজ সারাবেলা’র সঙ্গে কথা হয় ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহর। শিক্ষা নিয়ে, স্বপ্ন নিয়ে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জববার হোসেনরবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কথা দিয়েই শুরু করি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গুণগত মান, নৈতিকশিক্ষা বা মূল্যাবোধের চর্চা কতটুকু হচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

প্রফেসর আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ : সত্যি কথা বলতে, ব্রিটিশদের সমসাময়িক সময় থেকে কলকাতাকেন্দ্রিক যে সভ্যতা, নবজাগরণ জেগে উঠেছিল-শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে তারই ধারাবাহিকতায় বেঙ্গল রেনেসার জাগরণ হয়েছিল। সেসময় অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হার্বার্ড থেকে শুরু করে সমস্ত ভারতবর্ষে জ্ঞান বিজ্ঞানের চর্চা শুরু হয়েছিল। বিগত একশ-দেড়’শ বছরের সেই চর্চাতেই ভারতবর্ষ সিলিকন ভ্যালিতে তাদের অভিযাত্রা বলেন, আমেরিকার লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ৩৩ থেকে ৩৫ শতাংশ নামকরা অধ্যাপকদের কথা বলেন, নাসাতে ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্বর কথা বলেন, তারা যে অবস্থানগতভাবে যে জায়গাটায় পৌঁছাতে পেরেছে আমরা এখনও সেখানে যেতে পারিনি। খুব পরিতাপের সঙ্গে বলতে হয়, কেন জানি বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষাভাষীরা তার ছিটেফোটা পায়নি। পাইনি কেন সেটা আমাদের ভাবা এবং গবেষণার বিষয়।

আমার এই বলার যুক্তিটা হলো আপনারা যে দুঃখ থেকে এই প্রশ্নটা করেছেন কারণ সে অবস্থানে নেই বলেই তো করেছেন। এটা কিন্তু একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিনের মনোযোগের অভাবে এটা হয়েছে। পুরো জাতির যে গুরুত্বটা দেবার কথা ছিল তার অভাবেই এটা হয়েছে। এ জন্য আমরা সবাই দায়ী। আপনারা হয়ত জানেন, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বরাদ্দ, লোয়েস্ট ইন দ্যা ওয়ার্ল্ড। উচ্চশিক্ষায় যারা মনোযোগী বা শিক্ষাগ্রহণ করে তারা একটি রাষ্ট্রের বিবেক হয়। তারা রাষ্ট্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবার পথিকৃৎ হয়। সেখানে যদি রাষ্ট্রীয়ভাবে নজরদারীর ঘাটতি থাকে, গবেষণায় ঘাটতি থাকে, বরাদ্দে ঘাটতি থাকে তাহলে কি করে প্রত্যাশা করবেন এই জাতি আলোকিতভাবে এগিয়ে যাবে।

abdullah-sir-body-ajsarabela

ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ। ছবি: আজ সারাবেলা

আজ সারাবেলা : আপনি একজন শিক্ষাবিদ। সীমাবদ্ধতা আছে এবং থাকবে এই বাস্তবতাকে মেনে নিয়েও জানতে চাইছি আপনার প্রতিষ্ঠানে আপনি নৈতিক শিক্ষা, মূল্যবোধের চর্চা কতটা নিশ্চিত করেছেন?

প্রফেসর এম আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ : দেখুন, আপনার সন্তানকে যখন স্কুলে পাঠান তখন কিন্তু বলেন, তোমাকে ফার্স্ট হতে হবে। আমার ছেলেকেও তাই বলি। তোমাকে ডাক্তার হতে হবে, ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, ব্যারিষ্টার হতে হবে। আমরা প্রতিটি পিতা মাতাই একই কথা বলি। আমরা কি কখনো তাদেরকে বলি, তোমাকে ভালো মানুষ হতে হবে। বড় মানুষ হতে হবে। বড় মানুষ হতে গেলে খুব ধৈর্য্য ধরতে হয়, কারো সঙ্গে রাগ করা যাবে না, বড়দের সম্মান করতে হবে, ছোটদের স্নেহ করতে হবে, হিংসা করা যাবে না। অহমিকা দেখানো যাবে না। আল্লাহ পছন্দ করে না। স্রষ্টার সকল সৃষ্টিকে ভালবাসতে হবে। তুমি যত ভাল কাজ করবে তুমি তত বড় হবে। এবং এই বড় হওয়াটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা কিন্তু এভাবে বলি না।

অন্ধ প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত সবাই। নৈতিকতা সবচেয়ে বড় বিষয়। মানুষ নৈতিক থেকে, মানবিক থেকে জ্ঞান অর্জন করবে, আর এই চর্চাটা শুরু হলেই জাতি এগিয়ে যাবে। আমি ভুটানের কথা বলতে পারি। সারা দুনিয়ায় ভুটানের একটি সুনাম রয়েছে। তারা জিডিপিতে যতটা না বিশ্বাস করে তারচেয়েও বেশি করে গ্রস ডমেস্টিক হ্যাপিনেসে। তারা উন্নতির চেয়ে অগ্রগতির সূচকে বিশ্বাস করে বেশি। কেননা মানবিক অগ্রগতি মানুষকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়। প্রগতির পথ দেখায়।
আসলে আমরা কি চাই সেটা আগে জাতিকে বুঝতে হবে। আগেই বলেছি নৈতিকতার ভিত্তিতে জ্ঞান-মেধার চর্চা আমার কাছে চিরকালই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ব্যক্তিগতভাবেও আমার যদি কোন অর্জন থেকে থাকে, সেটি আদর্শ, নৈতিকতা ও মানবিকতা। আমার বিশ্বাস থেকে যখন কিছু গড়ে তুলতে চাইব তার ভিত্তি হবে মানবিক মূল্যবোধ, যার মধ্যে আদর্শ, নৈতিকতা চূড়ান্তভাবে অবস্থান করাটা অনিবার্য হবে। আমি কখনোই আমার বিশ্বাসের বাহিরে গিয়ে কিছু করি না। আমার প্রতিষ্ঠানও আমাকে অবিশ্বাস করে নয়। আমি বরাবরই চেয়েছি, জ্ঞান-মেধা চর্চার আগে মানুষ হবার চর্চাটা জরুরি।

আজ সারাবেলা : বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার প্রসঙ্গে আসি। আপনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করেন। উচ্চপর্যায়ে বেসরকারি শিক্ষা কতটুকু পণ্য কতটুকু শিক্ষা- এই বিতর্কটি প্রায়ই হয়। সামাজিক বাস্তবতা বিবেচনায় উচ্চশিক্ষা ব্যয় বেসরকারি পর্যায়ে কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

প্রফেসর এম আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ : এক ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। আমরা খুব সমালোচনায় বিশ্বাসী। একতরফা সমালোচনা করে খুব আনন্দ পাই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা এই ভুল ধারণা ভাঙতে অনেক বেশি সাহায্য করবে। এখন আগের চেয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি। এখন আর এমন নয় যে কেবল বিত্তবানদের সন্তানরাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেন। অনেক মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত, স্বল্প আয়ের পরিবারের সন্তানরাও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বার সামর্থ্য ও সুযোগ পাচ্ছেন।

একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থীর গ্রাজুয়েশন করতে যে টাকা খরচ হয় একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে তার চেয়ে কম খরচ হয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে যে টাকা খরচ হয় তা বহন করে রাষ্ট্র। করদাতাদের টাকা থেকে রাষ্ট্র সেই শিক্ষার ব্যয় বহন করছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় সরাসরি একজন ছাত্রের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে বিনিময়ে তাকে শিক্ষার সুযোগ দেয়। খরচ আসলে সব জায়গাতে হচ্ছে।

আজ সারাবেলা : যদি একটু সুনির্দিষ্ট করে বলেন, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রের খরচ কি আরও কমানো যায় না?

প্রফেসর এম আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ : প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় কোন অনুদান পায় না। বিশ্ববিদ্যালয় তৈরিতে যে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আর্থিক অবদান রেখে একটি পর্যায়ে নিয়ে যায় পরবর্তীতে তাদের পক্ষে আর নিয়মিতভাবে অবদান রাখা সম্ভব হয় না। তখন বিশ্ববিদ্যালয়টিকে স্বতন্ত্রভাবে টিকে থাকতে হয়। তখন তাকে টিউশন ফি’র উপরই নির্ভর করতে হয়। সেখান থেকেই তাকে পরিচালনা এবং অগ্রগতি করতে হয়। একজন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা হিসেবে বলতে চাই- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একটি মহৎ, জ্ঞান চর্চা এবং আহরণের জায়গা। এখানে মহৎ মানুষদের অবদান ও অনুদান থাকা উচিত, যারা এখান থেকে কিছু চাইবেন না। এখানে যে পরিমাণ অর্থ আসবে তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি, অগ্রগতির জন্য ব্যয় করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করতে হবে বৃহত্তর স্বার্থের জন্য। প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্য লাভের প্রয়োজন আছে। মোট কথায় লাভের অংশটুকু যেন প্রতিষ্ঠান ও সমাজের উন্নতির জন্য ব্যয় করা হয়।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কোথাও থেকে কোন রকমের অনুদান পায় না। নিজ খরচে প্রতিষ্ঠানকে চলতে হয়। তবে ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি যদি বিশ্ববিদ্যালয় বা নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীকে অনুদান দেয় সেটি ভিন্ন কথা। আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই।

আজ সারাবেলা: সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সবচেয়ে হতাশার জায়গাটি হলো প্রশ্নফাঁস- এর সমাধান কি হতে পারে?

প্রফেসর এম আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ : প্রশ্নপত্র ফাঁসের ক্ষেত্রে এককভাবে কাউকেই দায়ী করাটা ঠিক হবে না। শিক্ষামন্ত্রী সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। সবাই মিলে তাকে সাহায্য করা উচিৎ। সমস্যা সমাধানে তার আন্তরিকতার কমতি নেই। তিনি খুব সজ্জন ব্যক্তি। আমাদের শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে পরিবর্তনের সময় এসে গেছে। উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করতে হবে। আজকের আধুনিক বিশ্বে সব কিছু কিন্তু জ্ঞানভিত্তিক। জ্ঞানের বাহিরে কোন নাগরিক থাকতে পারে না। উচ্চশিক্ষাকে বাজারমুখী করতে হবে। শিক্ষাকে শিল্পমুখী করতে হবে। আপনি ক্লাশে যা শেখাবেন সেটি যেন একজন শিক্ষার্থী ক্লাশরুমের বাহিরে কাজে লাগাতে পারে।

abdullah-sir-body-1ajsarabela

ড. আবু ইউসুফ এম আব্দুল্লাহ। ছবি: আজ সারাবেলা

আজ সারাবেলা: শিক্ষকতার মান নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় মেধাবীরা শিক্ষকতাকে আগে যতটা পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাইতো, এখন ততটা আগ্রহী নয়। আপনার কি মনে হয়?

প্রফেসর এম আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ : আমাদের শিক্ষকদের গুণগত মানের বিষয়ে অনেক প্রশ্ন থেকে যায়। আপনি যদি শিক্ষকতা পেশায় সব ধরনের সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে পারেন এবং তা সহজে গ্রহণ করার ব্যবস্থা করেন তাহলে সেরা মেধাবীরা কিন্তু শিক্ষকতায় এগিয়ে আসবেন। পরিতাপের বিষয় হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক বিসিএস দিয়ে পুলিশে চাকরি নিচ্ছেন। আপনি যদি সম্মান, সম্মানী নির্ধারিত করতে পারেন তবেই দেশের সেরা মানুষগুলো শিক্ষকতাকে প্রাধান্য দিবেন। দেশকে সেরা শিক্ষাটুকু দিবেন। আপনি কিছু দিবেন না তাহলে আপনি কিভাবে সেরাটুকু পাওয়ার আশা রাখেন? আপনি যদি মনে করেন জ্ঞান মানুষকে এগিয়ে নিয়ে যায়, সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায় তাহলে সেই জায়গাটায় আপনার বেশি বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

আজ সারাবেলা: বেসরকারি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় আপনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। নর্দান বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার স্বপ্নের জায়গাটা যদি বলেন।

প্রফেসর এম আবু ইউসুফ আব্দুল্লাহ : এখন অনেকে শুরুতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির খোঁজ নেয়। এটা একদিনে হয়নি, দীর্ঘদিনের শ্রমের ফসল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি বেসরকারি খাতে শিক্ষাব্যবস্থা অনেক এগিয়ে যাবে। এটা সময়ের চাহিদা।

মানুষ কাজের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকে। কর্মময়তায় আমার আনন্দ। আমি চাই নর্দান শুধু চাকরির জন্য বাজারে প্রার্থী আর প্রতিযোগী তৈরি করবে না। সবার আগে মানুষ তৈরি করবে, যে মানুষ নৈতিক মানবিক। নর্দান পৌঁছে যাবে শিক্ষাক্ষেত্রে অন্য একটি মানবীয় উচ্চতায়। সেই উচ্চতা আকাঙ্খার লক্ষ্যেই আমার শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ। উচ্চশিক্ষায় কল্যাণকর একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠবে, সে প্রাপ্তির বড় লোভ আমার, স্বপ্ন আমার।

আজসারাবেলা/সাক্ষাৎকার/জেপ্র/শিক্ষা/১৩/মার্চ/২০১৮