সরকার মনে করছে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা মানে বিএনপিকেই দূরে রাখা : ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ

সরকার মনে করছে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা মানে বিএনপিকেই দূরে রাখা : ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ

প্রকাশিত :০৪.০৩.২০১৮, ৬:২৭ অপরাহ্ণ

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ। চিকিৎসক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। সম্পাদক, ধানের শীষ। ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি দুর্বিনিত টান। অনেক গণতান্ত্রিক আন্দোলনেই ছিলেন সক্রিয়। বিএনপির ‘থিঙ্ক ট্যাংক’ হিসেবে পরিচিত। রাজনীতির চুলচেরা বিশ্লেষণে সমাধান খোঁজেন আগামীর। বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ, আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়া ইত্যকার এমন অনেক বিষয়ে কথা বলেছেন আজ সারাবেলা’র সাথে। বলেছেন সংকট উত্তরণ ও সমাধানের কথা একবুক বিশ্বাস নিয়ে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জুলকারনাইন জ্যাকি

আজ সারাবেলা : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রায় হয়েছে। আদালতের রায় নিয়ে বিএনপি আপত্তি জানাচ্ছে কেন?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : প্রথম কথা হলো, এই মামলাটা নিয়ে বিতর্ক আজকে নতুন নয়। রায় হওয়ার আগ থেকেই মামলাটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিতর্কের প্রেক্ষাপট হলো, বাংলাদেশে দুর্নীতি সবসময় ছিল এবং এখনও আছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে গণতন্ত্রের সঙ্গে দুর্নীতি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। তবে সেটি যতটা সম্ভব সীমাবদ্ধ রাখা যায়, নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, প্রতিটি সরকার সেই চেষ্টাটি করে। কিন্তু তারপরও দুর্নীতি হয়। বাংলাদেশে রাজনীতিবিদদের নামে প্রথমবারের মত ঢালাওভাবে মামলা করা শুরু হয় ১/১১ সরকারের সময়ে। অস্বাভাবিক একটি সরকারের শাসনামলে। মাইনাস টু ফর্মুলা বাস্তবায়নে সেই অস্বাভাবিক সরকার দুই নেত্রীর নামে একাধিক মামলা দায়ের করে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে চারটি মামলা হয়েছিল। সেই সময়ে আওয়ামী লীগ নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে ১৪টি মামলা ছিল। পরবর্তীতে শেখ হাসিনার সেই মামলাগুলো হাইকোর্ট খারিজ করে দেন। আর খালেদা জিয়ার সেই চারটি মামলা বেড়ে ৩৭-এ গিয়ে দাঁড়াল। এটি রাজনৈতিক হয়রানির একটি দিক।

বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ, রাগান্বিত ব্যক্তিকে দিয়ে মামলার তদন্ত করা হয়। সেখান থেকেই কিন্তু সরকারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। মামলাটি কিন্তু দীর্ঘ ছয়-সাত বছর স্থগিত ছিল। বিএনপি আইনি লড়াই চালিয়ে কাক্সিক্ষত রায় পায়নি। শেষ দিকে মামলার জন্য সরকার মরিয়া হয়ে ওঠে। এই মামলায় সপ্তাহে কিন্তু তিন-চার দিন পর্যন্তও শুনানী হয়েছে।

একটি মামলা নিম্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সেই সময়ে আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-নেতা, এমনকি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত সংসদে, প্রকাশ্য জনসভায় বলেছেন যে খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা চুরি করেছেন। একটা বিচারাধীন মামলায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যদি বলে দেওয়া হয় যে তিনি এতিমের টাকা চুরি করেছেন তাহলে আর বাকি কি থাকে? এটিই তো একটি অঘোষিত রায়। সরকারের মন্ত্রীরা প্রকাশ্যে বলেছেন, একদিনের জন্য হলেও খালেদা জিয়াকে জেলে যেতে হবে। তারা বলছেন দুই সপ্তাহর মধ্যেই তাকে জেলে যেতে হবে। খালেদা জিয়ার নামে কিন্তু আরও মামলা রয়েছে। সরকার বেছে বেছে এই মামলাকে নিয়ে এত তড়িঘড়ি করল কেন? সরকার প্রচার করবে যে খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা চুরি করেছেন। খালেদা জিয়াকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্যই এই মামলায় রায় তড়িঘড়িভাবে দেওয়া হয়েছে।

টাকা খালেদা জিয়া নেননি। তার কোথাও দস্তখতও নেই। আপনি দেখেন, সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকগুলো কি অবস্থা? সরকার প্রতি বছর বাজেটে প্রণোদনা দিয়েই বেহালদশা কাটাতে পারছে না। বেসিক ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ কতগুলো আর্থিক প্রতিষ্ঠান আজ ধুঁকছে। শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে, শেয়ার বাজার ধসে মানুষ সর্বশান্ত হচ্ছে, সরকারি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কোথায় এই বিষয়ের মামলাগুলোর এত দ্রুততার সঙ্গে বিচারকাজ এগুচ্ছে না তো? দুর্নীতির বিষয়ে সরকারের মন্ত্রীরা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন খোদ সংসদে। সেই দৃষ্টিতে বেগম জিয়ার মামলাটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হতে পারে?

আজ সারাবেলা : মামলার রায়ে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি?  আপনার কথার সূত্র ধরেই বলি, তাহলে এই রায়ে বিএনপি লাভবান না ক্ষতিগ্রস্ত?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : রাজনৈতিক উক্তি এক জিনিস আর বাস্তবতা ভিন্ন জিনিস। সরকার যদি এই রায়টি জনগণের মধ্যে বসিয়ে দিতে পারে তবে বিএনপির ক্ষতি হবে। বিএনপির ইমেজ নষ্ট হবে। সরকার এদিক দিয়ে লাভবান হবে। আর সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে বেগম জিয়াকে হয়রানি করে, বা তার চরিত্র হরণ করার চেষ্টা করে এবং এই বিষয়টি জনগণ যদি বুঝতে পারে তবে সরকারের নিশ্চিত ক্ষতি হবে। জনগণের সহানুভুতি বেগম জিয়ার প্রতি প্রবল হবে।

বঙ্গবন্ধু কিন্তু ভিন্নমত, ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শের মানুষদেরও সম্মান করতেন। তাদের খোঁজ-খবর নিতেন। রাজনীতিতে একসময় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ছিল। এখন কিন্তু সৎ রাজনীতি, সজ্জন রাজনীতির জায়গাটুকু নেই। আজকের বাংলাদেশের গণতন্ত্র অনুমতির গণতন্ত্রে পরিণত হয়েছে। অনুমতি নিয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে।

আজ সারাবেলা : নির্বাচন কমিশন বলছে খালেদা জিয়ার নির্বাচনে অংশগ্রহণ নির্ভর করবে উচ্চ আদালতরে রায়ের উপর। এই বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কী?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : একটা ভয়ের সংস্কৃতি রাজনীতিতে বিরাজমান। এই ভয় সর্বত্র। বিএনপি মনে করে উচ্চ আদালত সরকারের প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। তারপরও দলটি উচ্চ আদালতের উপর আস্থাশীল। বিএনপি সুবিচার পাবে। আস্থার জায়গা থেকেই বিএনপি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই সব কিছু করছে। বিএনপি বরাবরই বিচার বিভাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ

আজ সারাবেলা : খালেদা জিয়ার কারাবাস কতটা দীর্ঘায়িত হবে বলে মনে করছেন? খালেদা জিয়া কি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : এই বিষয়গুলো সম্পূর্ণ নির্ভর করবে সরকারের ইচ্ছার উপরে। সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা নেই যে রায় কি হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা যাবে না। এরশাদের বিরুদ্ধে যখন নিম্ন আদালতে রায় হয়, সেই রায় মাথায় নিয়েই কিন্তু তিনি নির্বাচন করেছেন। নির্বাচনে কিন্তু অযোগ্য হননি। বর্তমান সরকারের ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তার বিরুদ্ধে কিন্তু নিম্ন আদালত এবং উচ্চ আদালত এই দুই জায়গাতেই দুর্নীতি প্রমাণিত হয়ে রায় হয়েছে। আপিল বিভাগে সেই রায়ের শুনানী চলবে এমন পর্যবেক্ষণও ছিল আদালতের। তিনি তো দিব্যি মন্ত্রীত্ব করে যাচ্ছেন! সরকারি এমপি বদি থেকে শুরু করে মহিউদ্দিন খান আলমগীর এমন অনেকেই আছেন যারা অভিযুক্ত হয়েছেন, জেল খেটেছেন। তাদের তো পদ যায়নি। এগুলো হলো উদাহরণ। সংবিধানে একটি ধারা রয়েছে যে নৈতিক স্থলন হলে আদালত কর্তৃক দুই বছরের সাজা হলে আপনি নির্বাচনে অযোগ্য হবেন। খালেদা জিয়ার রায়টি নৈতিক স্থলনের পর্যায়ে পড়ে কি না? সরকার মনে করতে পারে খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখা মানে বিএনপিকেই দূরে রাখা। তখন তারা স্বনির্বাচিত সরকার ভেবে আগামী আরো পাঁচ বছর চালিয়ে নিতে চাইবে। কারণ একবার এভাবে ক্ষমতায় গিয়ে তাদের লোভ ধরেছে। পরীক্ষা না দিয়েই যদি পাস করা যায় তাহলে ক্ষতি কোথায়?

আজ সারাবেলা : খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলন কিন্তু শুধু বিবৃতি বা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বৃহত্তর অনেকগুলো দাবি আদায়ের আন্দোলনে বিএনপি নীরব কেন? এটা কি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ না কি দুর্বলতা?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : রায়ের আগেই বিএনপি নেত্রী দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। রায়ে যদি জেলও হয় সেই বিষয়ে তিনি স্পষ্ট সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আন্দোলনের গতি-প্রকৃতি নিয়েও তিনি দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। নির্দেশিত কর্মসূচি অনুযায়ীই আন্দোলন চলছে। আন্দোলনের সময় বিএনপির গায়ে সরকার যখন আগুন সন্ত্রাসীর তকমা লাগানোর চেষ্টা করে ঠিক তখনই কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাদের হাতেনাতে পেট্রোল বোমাসহ ধরা হয়েছে। কর্মসূচি বিএনপির, তা প্রতিহত করছে পুলিশ, এখানে পেট্রোল বোমা হাতে আওয়ামী লীগ কর্মীদের কি কাজ? কেন তারা ছিল? বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই দাবি আদায় করে নেবে। সরকারকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণ নির্বাচন আয়োজন করতে বাধ্য করাবে।

আজ সারাবেলা : বিএনপি প্রসঙ্গে সরকার কতটা হার্ডলাইনে যাবে বলে মনে করছেন?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : সরকার ভাবছে বিএনপিকে নির্মূল করবে। অথবা সরকার খুব নার্ভাস হয়ে গেছে। দশ বছর ক্ষমতায় থেকে লুটপাট, অনাচার, অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন করে নিরাপদে ফিরে আসার পথও বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ যারাই ক্ষমতা ছেড়ে দেন, তাদের উপর ক্ষমতাসনীদের নির্যাতন শুরু হয়, নিপীড়ন চলে। বিচারের সম্মুখীন হতে হয়। সেটি একটি বড় রকমের ভয়ের কারণ। সব কিছু মিলিয়েই সরকার খুব নার্ভাস হয়ে গেছে। কারণ তারা জানে যে পরিমাণ আওয়ামী লীগ নির্যাতন, নিপিড়ন, চুরি-ডাকাতি করেছে, ক্ষমতা হারালে নিশ্চিতভাবে মহাবিপদের সম্মুখীন হতে হবে, বিএনপি তাদের সমুচিত জবাব দেবে। যেকারণেই সরকার ডু অর ডাই মুডে আছে।

আজ সারাবেলা : খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি কি নির্বাচনে যাবে?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচন করে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থেকে লোভ হয়ে গেছে। বিরোধী দলকে ইচ্ছামত দমন-পীড়ন করে, গণতন্ত্রের ধুলা উড়িয়ে, উন্নয়নের নামে বহুমতকে উপেক্ষা করে, খুন-হত্যা করে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় থাকতে চায়। তাদের কাছে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার সব অর্থেই মূল্যহীন। সরকার চাইবেই বিএনপি যেন নির্বাচন বর্জন করে। তাহলে ক্ষমতা হারানো ভয় আর জেকে ধরবে না। তবে বিএনপির উচিত হবে যেকোন উপায়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা। নির্বাচনের পরিবেশ আদায় করে নেওয়া।

আজ সারাবেলা : অন্যান্য দেশে কোথাও নির্বাচিত সরকারের অধিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার নজির আছে কি না?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : মূলত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচন কমিশনের অধিনে। সেই সময়ে যারা সরকারে থাকেন তারা শুধু রুটিন অনুযায়ী কাজ করেন। এটি সারা পৃথিবীর ইতিহাস। কাগজে-কলমে এই বিধান থাকলেও, নির্বাচনকালীন সরকার কিন্তু নিয়ম-কানুন মেনে চলে না। চলে না বলেই নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট, নির্বাচনে কারচুপি, ভোটচুরি, একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ইত্যাদি সব প্রসঙ্গ কিন্তু তখন আলোচনায় চলে আসে। এই অভিযোগগুলো কিন্তু চরম সত্য। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় যেকটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, শুধুমাত্র তিন-চারটা ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে নানা রকমের অভিযোগ এসেছে। আগের টার্মে কয়টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে টেস্ট চালিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনে নির্বাচনে আসার জন্য পথ তৈরি করেছিল সরকার। কৌশলত ফায়দা লুটার জন্য সরকার কিছু কিছু নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে করিয়েছে। সেটি আইওয়াস বলতে পারেন।

নিজেদের তৈরিকৃত ব্যবস্থার উপর বিএনপির আস্থা অর্জন করে জাতীয় নির্বাচনে এককালীনভাবে ক্ষমতায় বাসার জন্য। রাষ্ট্রপতি শাসিত কিছু রাষ্ট্রে এমন পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শাসিত কোন রাষ্ট্রে সংসদ বহাল রেখে, এমপিদের বহাল রেখে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার নজির নেই। সরকার যেকোন উপায়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। যেটি বৈধ-অবৈধ যেটিই হোক। নির্বাচন করতে হলে অবশ্য সংসদের মেয়াদ শেষ করে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে এবং আরপিও সংশোধন করে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত করে নির্বাচনের মাঠে রাখতে পারলেই তখন দেশে একটি সর্বজন স্বীকৃত, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আজ সারাবেলা : ৭৮ হাজারের বেশি মামলা রয়েছে বিএনপির বিরুদ্ধে। আসামি প্রায় ১১ লক্ষাধিক। এতগুলো মামলা মোকাবেলা করে আদৌ কি বিএনপি নির্বাচনে পুরোপুরিভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে?

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : সরকারের কৌশল হচ্ছে বিএনপিকে আদালতে ঘুরিয়ে মামলার গ্যাড়াকলে ফেলে নির্বাচনের মাঠ থেকে দূরে রেখে নিজেরাই জনসভা, সভা-সমাবেশ করবে, ভোট চাইবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী সিলেট ও রাজশাহীতে গিয়ে সরকারি খরচে নৌকা মার্কার জন্য ভোট চেয়েছেন। তার দলের মন্ত্রী-এমপিরাও ভোট চাচ্ছেন। অথচ সেই সময়ে বিএনপিকে কালো পতাকা দেখানোর মত শান্তিপূর্ণ সমাবেশেরও অনুমতিও দিচ্ছে না।

বিএনপির নেতাদের গণগ্রেপ্তার করা হচ্ছে, গণরিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। এক সঙ্গে ৪০ জন ৬০ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। সরকার বিএনপিকে আদালতের বারান্দায় ঘোরার স্থায়ী ব্যবস্থা করেছে।

উন্নয়নের নামে গণতন্ত্রের পায়ে শেকল পরানো হয়েছে। আইয়ুব খান তার শাসনামলে বারবার বলতেন কম গণতন্ত্র বেশি উন্নয়ন। সেই উন্নয়ন করেও কিন্তু আইয়ুব খান পার পাননি। এই সরকারও আইয়ুব খানের মত কৌশল গ্রহণ করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা বলে বেড়াচ্ছেন উন্নয়নের কথা। গণতন্ত্র কম হলেও তাদের চলবে। এগুলো হল গণতন্ত্রহীনতা ও লুটপাটের মন্ত্র।

এই দেশটি নির্দিষ্ট করে আওয়ামী লীগ, বিএনপি একার কারো না। দেশটা আমাদের সকলের। নির্বাচনের নামে এই দেশে চলা সহিংসতায় আওয়ামী লীগ জিতে অথবা বিএনপি জিতে। কিন্তু হারে কারা? হেরে যান সেই স্ত্রী যিনি তার স্বামীকে হারিয়েছেন, যে সন্তান তার পিতাকে হারিয়েছেন, যে মা তার সন্তানকে হারিয়েছেন। প্রকৃত পরাজয়টা, কষ্টটা কিন্তু তাদের। আমরা চাই না রাজনীতির জন্য, ক্ষমতার জন্য কেউ তার স্বজন হারাক। সহিংসতা পরিহার করে আলোচনা-পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি সুন্দর পরিস্থিতিতে নির্বাচন হোক। দেশে পূর্ণ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসুক। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পাশাপাশি নিয়ে দেশটা এগিয়ে যাক স্বপ্নের জায়গায়।

কারণ আপনি যদি গণতন্ত্রকে বন্দি করেন, বালুর ট্রাকে গণতন্ত্রকে আটকে রাখেন আর উন্নয়নের নামে লুটপাট করেন, নিপীড়ন করেন তাহলে অর্জিত উন্নয়নও ম্লান হয়ে যাবে। সেই উন্নয়ন বেশি দিন টিকবে না। উন্নয়নকে টেকসই করতে হলে অবশ্যই গণতন্ত্রকে টেকসই রূপ দিতে হবে।

আজ সারাবেলা : আপনাকে ধন্যবাদ।

ডা. সাখাওয়াৎ হোসেন সায়ন্থ : আপনাদেরকেও ধন্যবাদ।

আজ সারাবেলা/সংবাদ/সাক্ষাৎকার