‘টেরট বাবা’ গ্রেফতার - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
এম এম জাহাঙ্গীর রেজা ওরফে রাদবি রেজা। ছবি: সংগৃহিত

‘টেরট বাবা’ গ্রেফতার

প্রকাশিত :০২.০৩.২০১৮, ৫:২৫ অপরাহ্ণ

রবিউল ইসলাম রবি : ফেসবুকে টেরোট কার্ড রিডিং করে মানুষের ভবিষৎ বলে দিত “ফেসবুক টেরট লাইভের” নামে। সেখানে বিভিন্ন মানুষ তার কাছে ভবিষ্যৎ ও নিজেদের ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান জানতে কমেন্টস করত এবং লাইভে এসে কথা বলত। তখন সে তাদেরকে তার সাথে পার্সোনালী অফিসে এসে যেগাযোগ করতে বলত। মূলত পার্সোনালী যোগাযোগের নামেই সে তাদের কে তার বাসায় নিয়ে ট্রিটমেন্টের নামে অর্থ হাতিয়ে নিত। তাছাড়াও www.daartarot.com নামে তার একটি ওয়েবসাইট আছে এবং একটি টেরট কার্ড কন্সালটেন্সি ফার্ম আছে যা কিনা সরকারী অনুমোদিত বলে সে দাবি করে। সেখানে তার সাথে দেখা করতে হলে সর্বোচ্চ ২ ঘন্টায় ২০,৪০০ টাকা দিতে হয় বলে উল্লেখ আছে । যা বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম দিতে হয়।

এবিসি রেডিওর ডর টেরট প্রোগ্রামের মাধ্যমে সে আরও দাবী করত যে, সে টেরট কার্ডের মাধ্যমে যে কাউকে লটারীতে জিতিয়ে দিতে পারেন, খেলার ফলাফল আগেই বলে দিতে পারেন, পরীক্ষার ফলাফলও বলে দিতে পারেন আগে থেকেই। ক্যান্সার ও প্যারালাইসিসের রোগীকে ভাল করে ফেলতে পারেন, এমনকি কোমায় থাকা রোগীকেও সুস্থ করে তুলতে পারেন তিনি।

প্রশ্ন হল কে এই টেরোট বাবা? ‘টেরট বাবা’র প্রকৃত নাম এম এম জাহাঙ্গীর রেজা ওরফে রাদবি রেজা। বাড়ি তাঁর সুনামগঞ্জে। উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন ইংল্যান্ডে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী রাজধানী ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।

শুক্রবার এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্লা নজরুল ইসলাম। রাজধানীর মালিবাগে সিআইডির প্রধান কার্যালয়ে এই ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে এবিসি রেডিওতে প্যারানরমাল রিসার্চার হিসেবে যুক্ত হন রাদবি রেজা। রেডিও চ্যানেলটিতে ভৌতিক পর্ব নিয়ে অনুষ্ঠান ‘ডর’ প্রচারিত হতো। কিন্তু রাদবি রেজা যোগ দেওয়ার পর অনুষ্ঠানটিতে মানুষের নানা সমস্যা সমাধান পর্ব ‘টেরট কার্ড সেগমেন্ট’ প্রচার শুরু হয়।

নাম ও ফোন নম্বর দিয়ে সাধারণ মানুষকে এ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হতো। এই নাম-পরিচয় অনুযায়ী ফেসবুকে সার্চ করে আগেই আগ্রহী শ্রোতার ব্যক্তিগত তথ্য জেনে নিতেন রাদবি রেজা। পরে যখন তাঁর সঙ্গে দেখা হতো, তখন আগ্রহী মানুষ সম্পর্কে আগেভাগে অনেক তথ্য বলে ফেলতেন তিনি।

এবিসি রেডিওতে অনুষ্ঠান প্রচার হওয়ায় অনেক সরল মানুষ রাদবি রেজার ভক্ত হয়ে যান। অনেকে তাঁকে অতিমানবীয় ব্যক্তি ভাবতে লাগলেন। এভাবে এক নারী রাদবি রেজার ভক্ত হন। ওই নারীর সাংসারিক সমস্যা সমাধানের জন্য স্বপ্নে পাওয়া মুক্তাসহ আতর, আংটির প্রয়োজন হবে বলে জানান ‘টেরট বাবা’ রেজা। এসব জিনিস দেওয়া কথা বলে ওই নারীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রাদবি রেজা। তাঁকে এ কাজে সহায়তা করতেন এবিসি রেডিওর সাবেক আরজে কিবরিয়া সরকার।

যাত্রাবাড়ী থানার দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন ২০০৬ (সংশোধনী ২০১৩)–এর ৫৭ ধারায় দায়ের করা একটি মামলায় রাদবি রেজাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত দুদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন বলে জানান মোল্লা নজরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, প্রতারণাসহ আরও অনেক অপরাধ করেছেন রাদবি রেজা। তাঁকে ২০টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ ২০১২ সালের ১৪ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশ।

প্রতারণা বিষয় ধরার পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাদবি রেজাকে ডর অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয় বলে জানান এবিসি রেডিও হেড অব অপারেশন এহসানুল হক টিটু।

তিনি বলেন, রাদবি রেজা ডর অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে যুক্ত হতেন। তাঁর বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ জানার পরপরই বাদ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরজে কিবরিয়াও গত ডিসেম্বর মাসে এবিসি রেডিওর চাকরি ছেড়ে অন্য রেডিও চ্যানেলে যোগ দিয়েছেন।

আজসারাবেলা/সংবাদ/র/জাতীয়/অপরাধ