মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ায় বিশিষ্টজনদের ক্ষোভ | Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীদের বের করে দেওয়ায় বিশিষ্টজনদের ক্ষোভ

প্রকাশিত :২১.০৪.২০১৮, ২:৩৫ অপরাহ্ণ

রবিউল ইসলাম রবি : কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হল থেকে কয়েকজন আবাসিক ছাত্রীকে বের করে দেবার ঘটনা ঘটে।

হল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে ছাত্রীদের মুঠোফোন তল্লাশি করেছে। গভীর রাতে কয়েকজন ছাত্রীকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে।

এই বিষয়ে আজসারাবেলা’র সঙ্গে কথা বলেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ।

Serajul_Islam_Choudhury

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।ছবি: সংগৃহিত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমেরিটাস সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীদের মধ্যরাতে বের করে দিতে পারে তা আমার ধারণার মধ্যেও আসে না। এটি বর্ণনাতীত একটি দুর্বিসহ অবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় একজন শিক্ষার্থীর কাছে কেবল পাঠদানের জায়গা নয়, একই সঙ্গে অভিভাবক ও নিরাপত্তা। শিক্ষার আগে একজন শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয়ের। আন্দোলন বা ফেসবুকে কিছু ছড়ানোর অভিযোগে মধ্যরাতে কিছুতেই ছাত্রীদের বের করে দেওয়া যায় না। আমার দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতায় এমন বর্বর ঘটনা আগে কখনও দৃশ্যমান হয়নি।

মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা ও বুদ্ধি জাগ্রত হবার জায়গা।

মানবাধিকারকর্মী ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল। ছবি: সংগৃহিত

সেখানে যদি নিয়মনীতি মানা না হয় তাহলে আর কোথায় যাব আমরা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের গৌরবের জায়গা। সেখানে মেয়েদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে, মোবাইল ফোন তল্লাশি, মধ্যরাতে বের করে দেওয়া এসব কতটা যৌক্তিক, বিবেকবোধ সম্পন্ন কাজ তা ভেবে দেখা উচিত। ভুলে গেলে চলবে না এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলন এক সময় মুক্তিযুদ্ধ পর্র্যন্ত আমাদের নিয়ে গেছে। আমি চাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের শুভবুদ্ধির উদয় হোক, সকল অগ্রহণযোগ্য কার্যক্রম থেকে তারা বেড়িয়ে আসুক।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, মধ্যরাতে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দেওয়া যেটি অবিশ্বাস্য ঘটনা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, এমনকি ছাত্রীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন তল্লাশি আইনবহিভর্‚ত কাজ। তাছাড়াও প্রক্টর, উপাচার্যের অভিযোগও অস্বচ্ছ।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। ছবি: সংগৃহিত

কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাতের বেলায় ছাত্রীদের হল থেকে বের হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সামনে নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে কীভাবে তারা বের হয়? আর এবার খোদ প্রশাসনই মধ্যরাতে ছাত্রীদের হল থেকে বের করে দিল। এখন আসলে দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর অনুসারীরা কী ভূমিকা পালন করেন।

জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাতে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে হলের ভিতর ছাত্রলীগ সভাপতি ইফফাত জাহান এশা’র গলায় জুতার মালা পরানোর ঘটনার সঙ্গে ২৬ জন ছাত্রী জড়িত বলে হল কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করে।

এই ২৬ জনের অভিভাবকদের বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে ডেকে আনা হয়। তাদের কাছে ছাত্রীদের তুলে দেবার জন্যে।

আজসারাবেলা/সংবাদ/জাতীয়/রই/শিক্ষা