শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আজও প্রাসঙ্গিক কবি কাজী নজরুল - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে আজও প্রাসঙ্গিক কবি কাজী নজরুল

প্রকাশিত :২৫.০৫.২০১৮, ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ

আজ সারাবেলা রিপোর্ট: ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে/মোর মুখ হাসে মোর চোখ হাসে মোর টগবগিয়ে খুন হাসে/আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।’ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে বাঁধনহারা কবি কাজী নজরুল ইসলাম। বিপুল বিস্তারে বিচরণ করেছেন সাহিত্যের ভুবনে। বিপ্লব, সাম্য, মানবতা আর অসাম্প্রদায়িকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন সমগ্র জীবনজুড়ে। আজ এ মহান কবির ১১৯তম জন্মজয়ন্তী শুক্রবার(২৫ মে)। ১৮৯৯ সালের এইদিনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্ধমান জেলার চুরুলিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন দ্রোহ ও প্রেমের এই কবি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তারা কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশ ও বিশ্বময় আজও প্রাসঙ্গিক কাজী নজরুল। দ্রোহের এই অনবদ্য সৃষ্টির যিনি স্রষ্টা, তিনি একাধারে সৃজন করেছেন প্রেমের পংক্তিমালাও। চিন্তার বৈচিত্র্য আর বিস্তারে এভাবেই বিশিষ্ট হয়ে উঠেছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। বাংলাদেশের জাতীয় কবি। ক্ষুরধার লেখনীর আঁচড়ে যিনি সাহিত্যের ভুবনে বিচরণ করেছেন অনায়াসে।
দুর্দিনে আর আঁধারে, শোষণ আর বঞ্চনার প্রতিবাদে তিনি ছিলেন সোচ্চার। নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান যুগে যুগে মুক্তির প্রেরণা জুগিয়েছে। ইতিহাস ও সময় সচেতনতার প্রভাব রয়েছে তার সৃষ্টিজুড়ে।

কাজী নজরুল ইসলামের ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। ১৯৪২ সালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারান কবি। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতিক্রমে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলা সাহিত্য এবং সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নজরুলকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে। একই বছরে কবিকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
১৯৭৬ সালে জীবনাবসান ঘটে বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের। কিন্তু জাতির হৃদয়ে তিনি চির অম্লান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।

কর্মসূচি : নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। আজ সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দিবসটির কর্মসূচি পালন শুরু হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হবে।

‘জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল’ প্রতিপাদ্যে সরকারিভাবে বাংলাদেশে নজরুলের স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশাল, ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এ আয়োজনে ‘জাতীয় জাগরণে কবি নজরুল’ শিরোনামে স্মারক বক্তৃতা রাখবেন বেগম আকতার কামাল।

বাংলা একাডেমি দিবসটি উপলক্ষে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা ও কবির সমাধিতে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আজ বেলা ১১টায় একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, নৃত্য ও আবৃত্তিকলা মিলনায়তনে থাকছে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া শিশু একাডেমি, নজরুল একাডেমিসহ বিভিন্ন সংগঠন পৃথক কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*