সচেতনতাই হৃদরোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে : ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

সচেতনতাই হৃদরোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে : ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ

প্রকাশিত :১৩.০৫.২০১৮, ৮:৫২ অপরাহ্ণ
  • বিনামূল্যে একদিন ঢাকায় আর দুদিন কুমিল্লায় স্বাস্থ্য পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করলো রিফ্লেক্ট মেডিক্যাল সেন্টার। আমন্ত্রিত হয়ে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের দুই প্রখ্যাত চিকিৎসক। অর্থোপেডিক্স বিশেষজ্ঞ ডা. গৌরব গুপ্ত এবং কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ। দু’জনই ভারতের সিকে বিড়লা হসপিটালের বিখ্যাত চিকিৎসক। ‘আজ সারাবেলা’ উপস্থিত হয়েছিল তাদের ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পে, রিফ্লেক্ট মেডিক্যাল সেন্টারে। কথা হয় ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজের সঙ্গে হৃদরোগ চিকিৎসার নানা বিষয় নিয়ে।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- জববার হোসেনরবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা: বলা হয়ে থাকে সচেতনতা, অনেক ক্ষেত্রেই হৃদরোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে। আসলে কথাটা কতটা সত্য?

ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ: শতভাগ না হলেও অনেকটা তো সত্যি বটেই। সচেতনতা হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। আমরা অনেক সময় অসচেতনতার কারণে হৃদরোগের ঝুঁকির মধ্যে পরি।

আজ সারাবেলা: কী ধরনের সচেতনতা অবলম্বন করলে এ ঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব বলে মনে করেন আপনি?

ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ: প্রাথমিকভাবে বলব নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়াটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। অনেকেই রয়েছেন দিব্যি তেল চর্বি খেয়ে যাচ্ছেন। রেড মিটের প্রতি দুর্বলতা রয়েছে। দিন দিন ওজন বাড়ছে। তেমন বেশি একটা হাঁটা চলাও করেন না। দৌড়ঝাঁপ তো নয়ই। ধুমপানও করছেন। কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েই চলেছে। উচ্চ রক্তচাপ বাড়ছে। ডায়বেটিকও রয়েছে। এ সবই রিস্ক ফ্যাক্টর। এর সবগুলোই নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আগে মনে করা হতো একটু বয়স হলে হয়তো হৃদরোগে লোকে আক্রান্ত হয়। আমি বিএম বিড়লা’র সঙ্গে ৮৯ সাল থেকে যুক্ত। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এখন তরুণেরাও অনেক বেশি হৃদরোগ ঝুঁকিতে থাকে, আক্রান্ত হয়। গত কয়েক বছরে এর মাত্রা ২০% বেড়েছে।

কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ।

আজ সারাবেলা: তরুণদের অনেক বেশি মাত্রায় হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণ কী?

ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ: ধুমপান একটা ফ্যাক্টর। এখন টিনএজাররাও অনেক ধুমপান করে। সামাজিকভাবেও অস্থিরতা বেড়েছে। ধুমপান টেনশন রিলিফ দিতে পারে না বরং বাড়িয়ে দেয়। ফাস্টফুড একটা বিশাল ফ্যাক্টর। সময় কম। ভার্সিটি বা অফিসে দৌড়াতে হবে। তাই চট করে জাংকফুড খেয়ে নিচ্ছে। এতে তেল, মসল্লা, চর্বির মাত্রা অনেক বেশি থাকে। কোলেস্টেরল মাত্রাও বেশি। ফলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকেই যায়। আবার ঘরে ফিরেই টিভি দেখা বা সোস্যাল মিডিয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। সেই অর্থে তেমন কোন শারীরিক শ্রম নেই। আগের মত মাঠইতো নেই, আর খেলাধুলা থাকবে কোথা থেকে। ফলে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে।

আজ সারাবেলা: বংশগতভাবে হৃদরোগের ঝুঁকির মাত্রা কতটা হয়ে থাকে?

ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ: সেটা যে অনেক বেশি তা কিন্তু নয়। ৫ থেকে ১০% হবে এবং চাইলে সেটা রোধ করাও সম্ভব। যাদের পারিবারিকভাবে বাবা-মায়ের কম বয়সে হার্ট অ্যাটাকের হিস্টি রয়েছে তারা চাইলে নিজেকে যত্ন ও সচেতনতার মধ্যে রাখতে পারেন। নিয়মিত ইসিজি, ইকো, ইটিটি, ট্রেডমিল টেস্ট করতে পারেন। আর বাবা-মার হৃদরোগ থাকলেই যে, সন্তান তাতে আক্রান্ত হবে তা নয় সব সময়। সচেতনতাই হৃদরোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারে।

আজ সারাবেলা: সাধারণত কোন কোন উপসর্গ দেখা দিলে হৃদরোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?

ডা. তরুণ কুমার প্রহরাজ: অনেকেই বুক-পেটের যে কোন ব্যথাকে গ্যাস্টিকের ব্যথা বলে মনে করেন করে থাকেন যা সব সময় ঠিক নয়। বুকে যে কোন ব্যথা যদি প্রায় প্রায়ই হয়, হাঁটতে গিয়ে ব্যথা লাগে আবার দাঁড়ালে থেমে যায়, বুকের বা দিক থেকে ডান পাশে যদি ব্যথা সঞ্চারিত হয়। কখনও কখনও সিঁড়ি ভাঙতে গেলে খুব হাঁপিয়ে উঠে যা আগে হতো না- প্রাথমিকভাবে এ লক্ষণগুলো দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর পরামর্শ ও সঠিক চিকিৎসাই একজন মানুষকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে পারে।

আজসারাবেলা/স্বাক্ষাৎকার/আশিক/চিকিৎসা/সেবা/হৃদরোগ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*