দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই: অধ্যাপক ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই: অধ্যাপক ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি

প্রকাশিত :০৮.০৭.২০১৮, ৪:১৪ অপরাহ্ণ
  • সমাজে আস্থার লোক বরাবরই কম। অধ্যাপক ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি এমন বিরল মানুষদেরই একজন। ৩৮ বছর শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা। রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘকালে সম্পৃক্ততা। ছিলেন দু’দফায় রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক আন্দোলনের বাতিঘর ছিলেন বরাবরই তিনি। আগামী নির্বাচন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন তিনি।
    সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জববার হোসেনরবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা: মূলত আপনি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক। পাশাপাশি রাজনীতির সঙ্গেও অনেককাল ধরে যুক্ত। এই রাজনৈতিক যুক্ততাটি কেন?

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: শিক্ষকতা আমার পেশা। প্রকৃত শিক্ষার পাঠদানটি আমি বরাবরই আগ্রহ নিয়ে সততার সঙ্গে করতে চেয়েছি। সফলতার সঙ্গে সম্পন্নও করেছি। কোন মানুষই রাজনৈতিক চেতনার বাইরে নয়। আমার যে রাজনৈতিক বিশ্বাস, দর্শন, আদর্শ সবসময়ই সেটার মধ্যে থাকতে চেয়েছি। সেভাবেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া বা জড়িয়ে পড়া।

আজ সারাবেলা: এই যে রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া, এর প্রেক্ষাপটটি যদি আরেকটু ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, কেন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে যুক্ত হলেন?

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: আমার জন্মতো আজকের বাংলাদেশে নয়। আমরা বড় হয়েছি পাকিস্তানের বৈষম্য দেখে। বাঙালিদের উপর অবজ্ঞা, অবহেলা দেখে। পাকিস্তানের ভাষা, সংস্কৃতি কোনটিই আমার নয়। বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা তরুণ বয়সেই আমাকে ভীষণ আন্দোলিত করেছিল। একটা দেশের স্বপ্ন, স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন ভেতরে ভেতরে ঘুরপাক খাচ্ছিল। বঙ্গবন্ধুর জীবনের যাত্রাটাই ছিল সেই পরাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতার পথে। সেই পথ ধরেই তো বড় হয়েছি। আমার চিন্তা, আদর্শ, দর্শনতো আওয়ামী লীগের মৌলিক চেতনার সঙ্গে যুক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। বাংলাদেশের পক্ষে, বাংলাদেশকে ধারণ করেই আজ এই পর্যন্ত এসেছি।

আজ সারাবেলা: আপনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। বড় একটি সময়জুড়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। সেই সময়টি কিভাবে কেটেছে আপনার?

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: সে সময়টা ছিল মূলত বিএনপি-জামায়াতের উল্লাসকাল। আপনারা জানেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের একটা আধিপত্য বরাবরই ছিল লক্ষণীয়। আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে আমরা তাদের প্রতিহত করেছি সব সময়। কিন্তু সে সময়টাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াত-শিবির বিশ্ববিদ্যালয়ে তান্ডব চালায়। প্রগতিশীল শিক্ষকদের তারা চিহিৃত করতে থাকে, লাঞ্ছিত করবার জন্য। তারা নানাভাবে এই শিক্ষকদের হেনস্থা করতে থাকে। আমি সেই শিক্ষকদেরই একজন।

আমাকে তারা নানাভাবে হুমকি দিতে থাকে। অজ্ঞাত নাম্বার থেকে ফোন দেয়। চিরকুট পাঠায়। বলে, তুমি রাষ্ট্রবিরোধী। তোমার চিন্তা চেতনা, কর্মকান্ড রাষ্ট্রপরিপন্থী। এমন বার্তা আসতেই থাকে। তবুও আমি ছিলাম বঙ্গবন্ধুর চেতনা, আদর্শে অটল, অবিচল।

আমার স্ত্রী রাজশাহী শহরের একজন খ্যাতনামা গাইনী চিকিৎসক। দীর্ঘকাল তিনি সুনাম ও সম্মানের সঙ্গে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। শুধুমাত্র আমি বঙ্গবন্ধুর রাজনীতি করার কারণে আমার স্ত্রীকে মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়। পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হতে হয়।

আজ সারাবেলা: নির্বাচন আসন্ন। রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) এ আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আপনিও একজন। নিজেকে কতটা যোগ্য প্রার্থী মনে করছেন, আরও সরাসরি জানতে চাইব, মানুষ কেন আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে বলে মনে করছেন?

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: নিজের কথা আমি যতটা না বলব, তার চেয়ে এলাকার মানুষই আমার কথা বেশি বলবে এমন প্রত্যাশা আমার। মানুষের আস্থা একদিনে অর্জন করা যায় না। আস্থাভাজন হয়ে উঠতে হয়। আমি দীর্ঘদিনে নিজেকে সেই জায়গাটিতে নিয়ে যেতে পেরেছি বলে আমার বিশ্বাস। সততা মানুষের সবচেয়ে বড় গুন বলে মনে করি। আমি বরাবরই আমার চিন্তা ও কর্মে সৎ থেকেছি। ৩৮ বছর শিক্ষকতা করেছি। দু’বার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন নির্বাচিত হয়েছি, সিন্ডিকেট মেম্বার হয়েছি, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ছিলাম। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বের জায়গায় কোন নির্বাচনে কখনও তৃতীয় হইনি, প্রথম-দ্বিতীয় হয়েছি। দু’দফা রাকাবের চেয়ারম্যান ছিলাম। এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে নিষ্ঠা ও সততা নিয়ে দায়িত্ব পালন করছি।

আমি শিক্ষক, কর্মজীবী মানুষ। কাজের প্রয়োজনে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়েছে কিন্ত কখনোই এলাকার মানুষকে ছেড়ে যাইনি। তাদের সঙ্গে ছিলাম, এখনও আছি। ভবিষ্যতেও সুখ-দুখে পাশে থাকব ইনশাল্লাহ।

এলাকার গবির দুখিদের যতটা পারি সহায়তা করি। কখনও আমার সামর্থ্যরে মধ্যে না থাকলে বন্ধুদের সহযোগিতা নেই। এলাকার কোন দরিদ্র মেধাবী ছেলে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত, চেষ্টা করেছি তাকে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে। কারো চাকরি দরকার বন্ধুদের সহযোগিতা নিয়েছি তার কাজের সুযোগ নিশ্চিত করতে। শীত, অতি বৃষ্টি, বন্যার মত দুর্যোগে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি সবসময়।

আজ সারাবেলা : বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ এলাকাটিতে জাতীয়পার্টিরও অবস্থান লক্ষ্য করা যায়। গত নির্বাচনে জাতীয়পার্টির প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কারণেই বর্তমান সাংসদ বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। জাতীয়পার্টিকে কতটা চ্যালেঞ্জ মনে করছেন?

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: এরশাদ সাহেবের প্রতি রংপুরের মানুষের এক সময় আকর্ষণ ছিল। কিন্তু তার কথা ও কাজে মিল না থাকাতে এখন আর তার সে অবস্থান নেই। মানুষ তার প্রতি বীতশ্রদ্ধ। আমাদের এলাকাটি মুক্তিযুদ্ধের চারণভূমি। তেভাগা আন্দোলনে এখানকার মানুষের ভ‚মিকা রয়েছে। এ এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিকল্প নেই।

আজ সারাবেলা: আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রয়েছে। এই সরকারকে জনগণ আবারও কেন নির্বাচিত করবে বলে মনে করছেন?

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: দেশের স্বার্থ চিন্তা করলে আওয়ামী লীগকেই জনগণ আবার ভোট দিবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার পথযাত্রায় এক সফল নেতা। সফল মানুষ। সমুদ্র বিজয় থেকে মহাকাশ যাত্রা কোথায় সফল্যের পদচিহ্ন নেই? মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, দুস্থ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, কমিউনিটি ক্লিনিক, নারী শিক্ষার উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই সরকার সফল ও আন্তরিক। যোগাযোগে অভূতপূর্ব সাফল্য সরকার অর্জন করেছে। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। জঙ্গিবাদ, মাদক দমনে সরকারের সাফল্য আগের সব রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। অনেক এমপি’দের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে জবাবদিহিতার প্রশ্নে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার তা হচ্ছে যুদ্ধারাধীদের বিচার। ফলে সকল বিবেচনায় দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের কোন বিকল্প নেই।

আজ সারাবেলা: সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

ড. শাহ্ নওয়াজ আলি: আজ সারাবেলা’কেও ধন্যবাদ।

অাজসারাবেলা/সাক্ষাৎকার/রই/ভোটের/হাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*