আজীবন মানুষের সেবা করে যেতে চাই : সাংসদ সানজিদা খানম - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

আজীবন মানুষের সেবা করে যেতে চাই : সাংসদ সানজিদা খানম

প্রকাশিত :০১.০৮.২০১৮, ৪:০২ অপরাহ্ণ
  • সানজিদা খানম। কাউন্সিল’র থেকে হয়েছেন মাননীয় সাংসদ। বরাবরই জনবান্ধব। জনমানুষের প্রতিনিধি তিনি। রাত দিন কাজ করেন। মানুষের জন্য ছুটে বেড়ান। শ্যামপুর, সূত্রাপুর, ফরিদাবাদ, পোস্তগোলা- এসব এলাকা এখন অনেকটাই বদলে গেছে একজন সানজিদা খানমের শ্রম, মেধা আর সততায়। ঢাকা-৪ আসন থেকে চান মানুষের ভালোবাসায় নির্বাচিত হতে।

সানজিদা খানম কথা বলেছেন ‘আজ সারাবেলা’র সঙ্গে নিজের এলাকা আর নির্বাচন নিয়ে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জববার হোসেনরবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি চলছে। আপনার ব্যক্তিগত প্রস্তুতি কতটা এবং কেমন?

সানজিদা খানম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনেক কারণে গুরুত্বপূর্ণ। আওয়ামী লীগ ১০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। সারাদেশে উন্নয়নের জোয়ার বইছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুই দুইবার আমার হাতে নৌকার প্রতীক তুলে দিয়েছেন। আমি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান, অবকাঠামোগত উন্নয়নে ভ‚মিকা রেখেছি। জলাবদ্ধতারোধে ৫৫৮ কোটি টাকার প্রকল্প এগিয়ে চলেছে। বনানী পাসওভারের আদলে জুরাইনে কাজ হচ্ছে। ফোরলেন হচ্ছে। পদ্মাসেতুর যে সংযোগ সেটা আমার এলাকা থেকেই শুরু হয়েছে।

আমি বিশ্বাস করি মানুষের জন্য রাজনীতি। সেই রাজনীতিতে কাজই প্রধান। আমার কাজের পরিমান এবং মাত্রা আগের চেয়ে বহুগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হিসেবে প্রস্তুতিও অনেক বেশি। ৭৪টি কেন্দ্র রয়েছে আমার নির্বাচনী এলাকায়। আমরা সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। মানুষের যেকোন প্রয়োজনে পাশে রয়েছি। মানুষের পাশে থাকাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। আশা করছি ইনশাল্লাহ আগামীতেও নৌকাকে মানুষ ভোট দিবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা খানম। ছবি: সংগৃহিত

আজ সারাবেলা : গত নির্বাচন নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়নি। এবারের নির্বাচন কতটা গণতান্ত্রিক হবে বলে মনে করেন?

সানজিদা খানম: আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্যই সব সময় লড়াই করেছে। এই কথা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। ৬৯-এর আন্দোলন, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণআন্দোলন- সবইতো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই। শেখ হাসিনা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যই তার জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি বিশ্বাস করি গণতন্ত্র রক্ষার যে ধারা আওয়ামী লীগ করে আসছে আগামী নির্বাচনে তা অব্যাহত থাকবে।

আজ সারাবেলা: কিন্তু আমরা দেখতে পারছি জাতীয়পার্টির মত একটি গৃহপালিত দল বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করছে। বিএনপি কার্যত নেই। যদি কোন কারণে বিএনপি নির্বাচনে না আসে তাহলে নির্বাচন কতটা অংশগ্রহণমূলক হবে?

সানজিদা খানম: বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিবে। নিজেদের অস্তিতের প্রয়োজনেই নিবে। আর গৃহপালিত দলের কথা বলছেন, আমিতো বলব, রওশন এরশাদ প্রকৃত বিরোধী দলের মত আচরণ করছেন। তিনি সরকারের সমালোচনা করেন কিন্তু কখনই অশ্লীল ভাষা, বক্তব্য তার কাছে পাইনি। আমি নবম ও দশম দুটো সংসদেই ছিলাম। নবম সংসদে বিরোধিতার নামে অনেক খিস্তি খেউড়, ফাইল ছুড়ে মারা, মুক্তিযোদ্ধাদের গালাগালি এসব দেখেছি।

আজ সারাবেলা: একটু অন্য প্রসঙ্গে যায়, আপনি সাংসদ এবং একই সঙ্গে নারী। নারী হিসেবে বাড়তি কোন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় কি না?

সানজিদা খানম: এখন সবখানেই নারীদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। এখন ডিসি নারী, সচিব নারী, এসপি নারী, ইউএন মিশনেও নারীরা যাচ্ছে। আমি কাউন্সিলার ছিলাম, এখন এমপি। ১৭ বছর জনপ্রতিনিধি। মানুষ আমাকে জনপ্রতিনিধি হিসেবেই দেখে। নারী হিসেবে যে বাড়তি চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন সেটা মনে হয় এখন আর খুব বেশি ফেস করতে হয় না।

আজ সারাবেলা: নারী ডিসি হচ্ছে, ভিসি হচ্ছে- আপনার কথা মেনে নিলাম। কিন্তু পাশাপাশি এটা সত্য যে, নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে, যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। যে নারী ঝাড়ুদার সে যেমন নির্যাতিত হচ্ছে তেমনি এন্টারপ্রেনার নারী যে সেও নির্যাতিত হচ্ছে। হয়ত নির্যাতনের মাত্রায় পার্থক্য রয়েছে। এই সামাজিক বাস্তবতার কী ব্যাখ্যা দিবেন আপনি?

সানজিদা খানম: আমি অস্বীকার করছি না। এক সময়তো নারীদের জীবন্ত কবর দেওয়া হতো, পুড়িয়ে মারা হতো। দীর্ঘদিনের সচেতনার আন্দোলনে আজকে নারীরা অনেক দূর এসেছে। পুরুষতান্ত্রিক যে মানসিকতা সেটা পরিবর্তন জরুরি। আর পাশাপাশি নারীদের শিক্ষা এবং আত্মসম্মানবোধ তাকে বাধা পেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে বলে মনে করি।

রাজনৈতিক সহকর্মীদের সঙ্গে ঢাকা-৪ এর সাংসদ সানজিদা খানম। ছবি: সংগৃহিত

আজ সারাবেলা: নির্বাচনের আলোচনার মধ্য দিয়েই শেষ করব। জানতে চাইব, আবার নির্বাচিত হলে কোন কাজগুলোকে আপনি গুরুত্ব দিবেন বেশি?

সানজিদা খানম: অনেক কাজই হয়তো অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। স্বাস্থ্যসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দিয়েছি। চাইব প্রতিটি ওয়ার্ডে মা ও শিশু স¦াস্থ্যবিষয়ক আরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক করতে। শিক্ষাকে আরও যাতে নিশ্চিত করা যায়, কাজের সুযোগ তৈরি করা যায়- বিষয়গুলো মাথায় রাখব।

জলাবদ্ধতা আমার এলাকার অন্যতম সমস্যা। নিরসনে যে প্রকল্প চলছে ২০২০ সাল নাগাদ তা শেষ হবে। যানজট নিরসনেও ভ‚মিকা রাখতে চাই। জননেত্রী শেখ হাসিনা রাত-দিন নিরলসভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তার পাশে থেকে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আমার এলাকাকে সমস্যামুক্ত সম্ভাবনার নতুন ভূমিতে পরিণত করতে চাই। চাই আজীবন মানুষের সেবা করে যেতে।

আজসারাবেলা/সাক্ষাৎকার/এমপি_সানজিদা_খনম

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*