বাস্তবতার সঙ্গে বিমসটেককেও তাল মেলাতে হবে: হাসিনা - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

বাস্তবতার সঙ্গে বিমসটেককেও তাল মেলাতে হবে: হাসিনা

প্রকাশিত :৩০.০৮.২০১৮, ৬:২৯ অপরাহ্ণ

আজ সারাবেলা রিপোর্ট: বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা এগিয়ে নিতে দুই দশক আগে যাত্রা শুরু করা আঞ্চলিক জোট বিমসটেক যে এ অঞ্চলের দেড় কোটি মানুষের জীবন-মান উন্নয়নে বড় কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে জোটভুক্ত দেশগুলোকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিডের মাধ্যমে জোটভুক্ত সাত দেশকে যুক্ত করার উদ্যোগর মত আরও কয়েকটি ক্ষেত্র তিনি জোটের নেতাদের সামনে তুলে ধরেছেন, যেখানে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সবাই লাভবান হতে পারে।

নেপালের কাঠমান্ডুতে বৃহস্পতিবার চতুর্থ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির পরও প্রতিষ্ঠার ২১ বছরে বিমসটেকের সাফল্য হাতে গোনা।’

এ প্রেক্ষিতে বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিমসটেকের সম্ভাবনার ক্ষেত্রগুলো নতুন করে বিবেচনা করতে এবং জোটের কাঠামোগত পরিবর্তনের বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে বহু কাজ বাকি। এই যৌথ চেষ্টাকে অর্থবহ সম্পর্কের রূপ দিতে চাইলে, সহযোগিতার দৃশ্যমান ফলাফল চাইলে আমাদের মৌলিক আইনি কাঠামোগুলোকে আরও সংহত করার কথা আমাদের ভাবতে হবে।’

আর এই লক্ষ্যে বিমসটেক ফোরামের মাধ্যমে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল সৃষ্টি, বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতা বৃদ্ধি, সদস্য দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং একটি যৌথ অর্থায়ন কৌশল প্রণয়নের মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন শেখ হাসিনা।

ভৌগলিকভাবে দক্ষিণ এশিয়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করেছে বিমসটেক; কাজ করছে সার্ক ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক সহযোগিতার একটি সেতুবন্ধ হিসেবে।

১৯৯৭ সালে ব্যাংকক ঘোষণার মধ্য দিয়ে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন বা বিমসটেকের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে কেবল বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড এর সদস্য হলেও পরে মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটান বিমসটেকে যোগ দেয়।

বিশ্বের প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোতে বসবাস করে বলে বিশেষজ্ঞরা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই জোটের অপার সম্ভাবনার কথা বলে এলেও জোটভুক্ত দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ একেবারেই কম।

এর মূল কারণ হিসেবে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও অবকাঠামোর দুর্বলতা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে সমন্বয়ের অভাবকে দায়ী করেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কাঠমান্ডুর হোটেল সোয়ালটি ক্রাউনি প্লাজার মেঘনা মালহার হলে বিমসটেকের চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলনের কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রথমেই সম্মেলন কেন্দ্রে আসেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর আসেন ভুটানের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দাশো শেরিং ওয়াংচুক, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট উইন মিন্ট, শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুত চান-ও-চা। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি অতিথিদের স্বাগত জানান।

মঞ্চে অতিথিদের বসার ব্যবস্থা ছিল দেশের নামের ক্রমানুসারে। বেলা ৪টার দিকে নেপালের জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলির উদ্বোধনী বক্তব্যের পর বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যাচ্ছে, প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন মেরুকরণ হচ্ছে। এই পরিবর্তন আর বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে বিমসটেককেও তাল মেলাতে হবে; আর তা করতে হবে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার মাধ্যমে।

বাংলাদেশ যে বিমসটেকের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়, ঢাকায় বিমসটেক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা সেই অঙ্গীকারেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*