আওয়ামী লীগ সরকার হতাশ করলো চরমভাবে: ড. কামাল হোসেন - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

আওয়ামী লীগ সরকার হতাশ করলো চরমভাবে: ড. কামাল হোসেন

প্রকাশিত :০১.০৯.২০১৮, ৭:০৯ অপরাহ্ণ
  • ড. কামাল হোসেন। বিশিষ্ট আইনবিদ ও সংবিধান প্রণেতা। বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে এলেও বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন। নির্বাচন সামনে। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন আবারও আলোচনায়।

বৃহত্তর ঐক্য, জাতীয় যুক্তফ্রন্ট গঠন আর আসন্ন নির্বাচন এমন অনেক প্রসঙ্গ নিয়ে তার সঙ্গে ‘আজ সারাবেলা’র আলোচনার প্রথম পর্ব প্রকাশিত হলো।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জববার হোসেন

আজ সারাবেলা: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হবার পরও মানুষের ভেতরে গণতন্ত্রের আকাঙ্খা রয়ে গেছে। গণতন্ত্রের ঘাটতি এবং আকাঙ্খা এ দুটি বিষয়কে কিভাবে দেখছেন?

ড. কামাল হোসেন: গণতন্ত্র থাকলেও কার্যকর গণতন্ত্রের অভাব রয়েছে। প্রতিবারই নির্বাচনের আগে একই কথা বার বার বলতে হয়। বলতে হয় যেন ‘ন্যূনতম’ গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও প্রক্রিয়া নির্বাচনে কার্যকর থাকে। এটা খুব দুঃখজনক।

ব্যাংকগুলো রীতিমত লুট হয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংক। জনতা ব্যাংক। সোনালী ব্যাংক। রূপালী ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রত্যেক ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেছে। শুধু বাংলাদেশ ব্যাংক থেকেই গেছে ৮ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা। এসব টাকা ফিরিয়ে আনার কোন কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেই। এসব লুট হওয়া টাকার একটি অংশ যদি নির্বাচনে ব্যয় করা হয়, কালো টাকা প্রয়োগ করা হয়, তাহলে কি হবে? এসব টাকার ব্যবহার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে সবাই দেখেছে।

গণতন্ত্র মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। জনগণ ক্ষমতার মালিক। মানুষ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে, ভোট দিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। অর্থ বা ক্ষমতা কোন কিছু দিয়ে প্রভাবিত হয়ে নয়। ক্ষমতার মালিক হিসেবে বুঝেসুজে সে ভোট দিবে। এটাই তো হবার কথা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে। কিন্তু মানুষ কি তার সে গণতান্ত্রিক অধিকার পাচ্ছে?

আজ সারাবেলা : নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে, সে বিষয়ে কোন সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরামর্শ কি আপনারা দিয়েছেন? ‘আপনারা’ বলতে যারা পরিবর্তন চান, আরও উন্নত গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছেন তাদের কথা বোঝাতে চেয়েছি? আপনিতো আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়েও অতীতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আন্দোলন করেছেন?

ড. কামাল হোসেন: অবাধ, নিরপেক্ষ শব্দগুলো কেবল বলবার জন্য না বলে অর্থপূর্ণ করে তুলতে হবে। বিচারক সবসময় নিরপেক্ষ হবে এর কোন বিকল্প নেই। স্কুলের ছেলেও এটা বুঝে। বার বার প্রশ্ন করা হয়, প্রধানমন্ত্রী থেকে নির্বাচন করবেন, নাকি সরে গিয়ে?

আমি বলি, ২০০৭-এ তিনি এ বিষয়গুলো ভেঙে ভেঙে বলেছেন। ফাউল হলে রেফারির ভ‚মিকায় কে থাকবেন? আপনি গণতন্ত্র চাইলে নিরপেক্ষতা তো নিশ্চিত করতেই হবে। এটা নিয়ে কেন বার বার কথা বলা হয়। তা আমার বোধগম্য নয়।

আজ সারাবেলা: আপনি ঐক্যের আহবান করেছেন। গণমাধ্যমের ভাষায় বলা হচ্ছে, সরকারবিরোধী বৃহৎ ঐক্যের ডাক দিলেন ড. কামাল হোসেন। গণতন্ত্র, সুশাসনের নিশ্চয়তায় যে ঐক্যের ডাক তার সুবিধাতো আওয়ামী লীগওতো পেতে পারে। যেহেতু আওয়ামী লীগের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। সে বিবেচনায় ‘ঐক্যকে’ শুরুতেই ‘সরকারবিরোধী’ লেভেলিং করা কতটা যৌক্তিক?

ড. কামাল হোসেন: কাউকে সরকার থেকে নামানো বা কাউকে সরকারে বসানো লক্ষ্য উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য উন্নত গণতন্ত্র। কার্যকর শাসনব্যবস্থা। আইনের যথাযথ প্রয়োগ। মানবাধিকার নিশ্চিতকরণ। সে বিবেচনায় বলা যেতে পারে, ‘যারা পরিবর্তন চায়’, তাদের ঐক্য। যে কোন বিষয় ভালোভাবে বুঝে নিয়ে মন্তব্য করা উচিত। যাতে করে সঠিক জনমত তৈরি হতে পারে এবং জনগণ তার অধিকার প্রয়োগ করতে পারে।

আজ সারাবেলা : ‘জাতীয় যুক্তফ্রন্ট’ গঠনের উদ্দ্যোগ নিয়ে বৈঠক করেছেন। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এখানো চ‚ড়ান্ত কিছু জানাননি। মানুষের আগ্রহ আছে এই বিষয়ে জানবার। যদি ব্যাখ্যা করে বলেন?

ড. কামাল হোসেন: দেখুন, মানুষের মধ্যে একটা ঐক্য হয়েই আছে। মানুষ কল্যাণকামী রাষ্ট্র চায়। নিপীড়ন, নির্যাতন চায় না। মানবাধিকারের লঙ্ঘন চায় না। গুম, খুন দেখতে চায় না। আইনের শাসন চায়। জনগণ তার নিজের মত করে জনপ্রতিনিধি চায়। উন্নত ও কার্যকর গণতন্ত্র চায়। জনগণের এই ইতিবাচক চাওয়াকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতেই জাতীয় যুক্তফ্রন্ট।

আজ সারাবেলা : ভাল কথা। আপনাদের বৃহত্তর ঐক্যের পক্ষ থেকে এটাও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী কোন রাজনৈতিক দল বা তাদের সমর্থক ঐক্য প্রক্রিয়ার মধ্যে স্থান পাবে না। সেই হিসেবে বিএনপি’র সঙ্গে ঐক্য বা জোট গঠন হবে কিভাবে?

ড. কামাল হোসেন: আমরা এখনও পর্যন্ত আলোচনা ও প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছি। বিএনপি’র সঙ্গে জোট গঠন এখনও চ‚ড়ান্ত হয়নি। ফলে এই মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আজ সারাবেলা : ২০০৮ সালে কিন্তু মহাজোট গঠন করেছিলেন আওয়ামী লীগকে সঙ্গে নিয়ে।

ড. কামাল হোসেন: আমি আবারও বলছি, উন্নত গণতন্ত্রের লক্ষে আমরা কাজ করছি। কাউকে ক্ষমতায় বসানো বা ক্ষমতা থেকে নামানো আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ছিল বড় একটি অর্জনের দিন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৭ সালে যে পাতানো নির্বাচনের ফাঁদ পেতেছিল তা বন্ধে বাধ্য হয়। আমাদের মহাজোট পায় ২৭০টি আসন। ভেবেছিলাম ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাঙালি যা হারিয়েছিল তা ফিরে পাবে। জনগণ দেশের মালিক হিসেবে রায় দিয়েছে। সংসদ কার্যকর হবে, জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা পাবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার হতাশ করলো চরমভাবে। পরিস্থিতি অনুধাবন করে জোট থেকে আগেই বেড়িয়ে এলাম। আওয়ামী লীগ সরকার আরও বেশি স্বৈরাচারী হয়ে উঠল। যার ফল ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন। সারা দুনিয়াতে গণতন্ত্রের ইতিহাসে লজ্জার উদাহরণ হয়ে থাকলো। এই কারণেই আবার পরিবর্তন চাওয়া।

আজ সারাবেলা: আরেকটি বিষয়, আপনাদের বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ায় আপনি ড. কামাল হোসেন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রয়েছেন। মূল নেতৃত্বে আপনাদের দু’জনের কে রয়েছেন?

ড. কামাল হোসেন: দেখুন, এসব বেহুদা বির্তক, যা মূল লক্ষ্য উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে দেয়। এদেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার নেতৃত্বে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। উন্নত গণতন্ত্রের লক্ষ্যে আমাদের যে আন্দোলন সেখানে অমুক আগে নাকি তমুক আগে এই তর্কই বৃথা। মনে রাখতে হবে এটি একটি যৌথ ঐক্য প্রক্রিয়া। আর এখানে যৌথ প্রক্রিয়ায় কার নেতৃত্ব, কে প্রধান খুঁজতে যাওয়ার অর্থই হলো আবার স্বৈরতন্ত্রের দিকে, এক নায়ক তন্ত্রের দিকে ঝুঁকে পড়া।

আজ সারাবেলা: ধন্যবাদ সময় দেওয়ার জন্য।

ড. কামাল হোসেন: আপনাকেও ধন্যবাদ।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/সাক্ষাৎকার/রাজনীতি

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*