সজীব ওয়াজেদ জয় এদেশের তরুণদের গতি বাড়িয়েছেন: ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)
আসন্ন নির্বাচন প্রচরণা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার।

সজীব ওয়াজেদ জয় এদেশের তরুণদের গতি বাড়িয়েছেন: ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার

প্রকাশিত :১৮.১০.২০১৮, ২:১৯ অপরাহ্ণ
  • মাসুদ আখতার পলাশ। গাইবান্ধা সদর-২ আসনের রাজনীতির সঙ্গে ২০০৫ সাল থেকেই জড়িত। মেধাবী মানুষ, তবে রাজনীতিতে তিনি মাঠের মানুষ হিসেবেই পরিচিত। পারিবারিকভাবে তার বেড়ে ওঠা আওয়ামী রাজনীতির বলয়ে। গাইবান্ধার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন, কাজ করেন। স্বপ্ন দেখেন আজকের তরুণরাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের হাত ধরে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়বে। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, কর্মকাণ্ড, গাইবান্ধার রাজনীতি এবং নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন আজ সারাবেলা’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জব্বার হোসেন এবং রবিউল ইসলাম রবি

আজ সারাবেলা : আপনি সফল একজন পেশাজীবী। আইন পেশার সাথে যুক্ত। রাজনীতির সঙ্গে কীভাবে জড়িয়ে পড়লেন?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : একটু পেছন থেকে বলি। মা ছাত্রলীগ করতেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে মায়ের দেখা হবারও সুযোগ ঘটেছিল। বাবা ইউনিয়নের সভাপতি, পরে সেক্রেটারি ছিলেন টানা ৩৫ বছর। জেলা আওয়ামী লীগের সদস্যও ছিলেন। বর্তমানে বাবা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য। আমার নানা তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ’৭৫ সালে তিনি মারা যাবার সময় গাইবান্ধা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন।

একটা আওয়ামী পরিবারেই আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বঙ্গবন্ধুর কথা শুনেশুনেই আমরা বড় হয়েছি। ক্যাডেট কলেজে পড়বার সময় রাজনীতির সুযোগ ছিল না। কিন্তু আমার চিন্তা আর রক্তের ভেতর-তো আওয়ামী রাজনীতির ধারাটা রয়েই গিয়েছিল। বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে যখন পড়তে যাই তখন দেশে সেনাসমর্থিত অগণতান্ত্রিক সরকার। নেত্রীকে দেশে আসতে দেওয়া হচ্ছিল না। মনে আছে, রেহানা আপার বাসায় আমরা নিয়মিত যেতাম। সেখানেই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ ঘটে আমার। একজন মানুষ যার বাবা ও পুরো পরিবারকে নৃশংস হত্যার পরও যিনি মানুষের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তাকে দেখেই মূলত রাজনীতির প্রতি আমার আসক্তি চলে আসে। মানুষ হলে এভাবেই বোধহয় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হয়।

সে-সময়ই শেখ হাসিনাই আমাদের বলেছিলেন, “তোমরা তো আইনজীবী, একটা পরিষদ করো না কেন?” নেত্রীর সেই নির্দেশে আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ গঠন করি। সেখানে আমি ভাইস-প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছি। সে-সময় আওয়ামী লীগের সঙ্গে থেকে, ভিতরে থেকে বিদেশে সকল আন্দোলনে সংগ্রামে যুক্ত ছিলাম।

গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার।

আজ সারাবেলা : তখন তো আওয়ামী লীগের দুঃসময় ছিল। এখন সু-সময়। সরকার পরপর দুই টার্ম ক্ষমতায়। এই সময়ে এসে যুক্ত হতে চাওয়ার অর্থই হলো অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থায় থাকা। তবে কি ধরে নিব আপনি রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে চাইছেন?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : আমি চাইবো কোন ভুল ব্যাখ্যার যেন সুযোগ না থাকে। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে আমার মা আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। সেই সময়ের অবস্থা আমরা সবাই জানি। ১/১১ এর সময় বাইরে থেকে অনেকেই নেত্রীর জন্য স্বেচ্ছা কারাবরণ করতে চেয়েছেন। আমি সেই পরীক্ষিত মানুষদের একজন। ইউরোপিয়ান ও বিট্রিশ পার্লামেন্ট মেম্বারদের অনেকের সঙ্গেই ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে বলেছি কেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার দরকার।

আজ সারাবেলা : স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে আসি। গাইবান্ধা সদর-২ আসন থেকে আপনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। দুটো বিষয় জানতে চাইবো, নিজেকে কেন যোগ্য মনে করছেন এবং জনগণ আপনাকে কেন নির্বাচিত করবে?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহাসিক গণতান্ত্রিক দল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরবর্তী নেতৃত্বও গড়ে উঠেছে সেই বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই। আমি সেই রাজনৈতিক ধারাবাহিকতারই ফসল। গাইবান্ধা সদর-২ আসন আওয়ামী লীগের একক শক্তির জায়গা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, নিজেদের মধ্যে কিছু অনাকাক্সিক্ষত দলাদলির সৃষ্টি হয়েছে। সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে কিন্তু এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের সদস্যদের ঘৃণা করছে। এক ধরনের দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতি।

আজ সারাবেলা : এই দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতিতে আপনার অবস্থানটা কী?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : আমি যেটা করছি, সবার কাছে যাচ্ছি। তৃণমূল থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী সকলের সঙ্গে কথা বলছি। কথা এবং কাজ দিয়ে বোঝাচ্ছি, আমি কারো বিরুদ্ধে নই। জনগণ গাইবান্ধা সদর-২ আসনের আওয়ামী লীগ পরিবার থেকে যোগ্য প্রার্থী বেছে নেবে। আমাদের দলাদলির কারণে যেন বিএনপি জামায়াত বা অন্য কোনো দল সুযোগ না পায়। আমার চেষ্টাটা সেখানেই।

আজ সারাবেলা : আপনার আসনে আরো অনেক প্রার্থী রয়েছেন। অনেকের মধ্যে নিজেকে কীভাবে আলাদা করবেন?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : ইংল্যান্ডে আইন পড়ার সময় থেকেই আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত। সে কথা আগেই বলেছি। এলাকায় আমার দাদার নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলাম, সেটি এখন সরকারি হয়েছে। নিজের উদ্যোগে দুটি মসজিদ স্থাপন করেছি। ২০০৪ সাল থেকে এলাকার দরিদ্র পরিবারদের আর্থিক সহায়তায় ‘গরু প্রদান প্রকল্প’ হাতে নিয়েছি, যাতে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারে। শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করে আসছি প্রায় ১০ বছর ধরে। ক্যাডেট কলেজ সংগঠন অর্কা’কে সঙ্গে নিয়ে সেনিটেশন, স্বাস্থ্যসেবার বিষয়গুলো নিশ্চিত করছি। বেশ কয়েকবার ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছি যেন দরিদ্র পরিবারগুলো সুচিকিৎসা পায়। স্কুল-কলেজে নিয়মিত মাদক ও জঙ্গিবাদবিরোধী সচেতনতা গড়ে তুলবার জন্য নানা কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি। মুক্তিযুদ্ধ-বঙ্গবন্ধুর অবদান ও গুরুত্ব এই বিষয়গুলো তরুণদের মাঝে সচেতনতামূলকভাবে তুলে ধরছি যাতে তাদের মধ্যে জামায়াত-বিরোধিতা ও দেশপ্রেম জেগে ওঠে। গাইবান্ধা আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাদের সকলের ডাটাবেইজ তৈরি করেছি যাতে সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা যায়। এই তৃণমূলের মানুষেরাই আওয়ামী লীগকে ধরে রেখেছে। আমি তৃণমূলকেই আরো সংগঠিত করে এগিয়ে যেতে চাচ্ছি।

আজ সারাবেলা : এই সরকারের সময় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তারপরও অনেক অপ্রাপ্তির জায়গাও রয়ে গেছে। গাইবান্ধার আগামী দিনের নেতা হিসেবে আপনি অপ্রাপ্তি ও জনগণের প্রত্যাশার জায়গাগুলো কতটুকু চিহ্নিত করতে পেরেছেন?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : আমি বরাবরই চেষ্টা করেছি তাদের অভাব তাদের মতো করে বুঝতে। গাইবান্ধা সদর থেকে যে-কোনো মেডিকেল কলেজের দূরত্ব ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার। একটা মেডিকেল কলেজ এখন এখানে সময়ের দাবি। এ ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও আন্তরিক। এখানে অনেক চরাঞ্চল রয়েছে। নদীগুলো ভাঙনের শিকার। নদীগুলো সংস্কার ও নদীকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিক বিনোদন পার্ক হতে পারে। রিভার ট্রান্সপোর্ট ডেভোলপ করাও সহজ। গ্যাস সংযোগ এই এলাকার মানুষের অনেক দিনের চাওয়া। এই দাবিগুলো পূরণ অনেক কঠিন নয়। আন্তরিকতা প্রয়োজন।

এলাকার মানুষদের নিয়ে উঠোন বৈঠক করছেন মাসুদ আখতার।

গাইবান্ধায় ইতোমধ্যেই আউটসোর্সিংয়ের সেন্টার রয়েছে। ব্যাপক কাজ হচ্ছে। অনেক তরুণ ইন্টারনেট জগতের এই আউটসোর্সিংকে পেশা হিসেবে নিয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের দৃষ্টি আর্কষণ করে এই এলাকায় অনায়াসেই একটি আইটি পার্ক হতে পারে। এখানে একটি কৃষি ইন্সটিটিউট রয়েছে। একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এখন তরুণ প্রজন্মের প্রত্যাশা। শহরের মাঝখান দিয়ে বালাসী ঘাট পযর্ন্ত চার লেনের রাস্তা হচ্ছে। এই সড়কটা যদি বাইপাস করা যায় তবে ব্যবসায়ও থাকবে, শহরও থাকবে আরও জমজমাট। সদর হাসপাতালের আওতায় মেডিকেল সেন্টার করা যায় কিনা সেটাও ভাবতে হবে। বালুয়া হাসপাতাল সেটিকে যদি সংস্কার করে চালু করা যায় সেক্ষেত্রে অনেক উপকার হবে মানুষের।

আজ সারাবেলা : আপনি তরুণ। তরুণদের দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে অনেক ধরনের কাজ করছেন। জাতীয় রাজনীতির তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক সজীব ওয়াজেদ জয়। তার কাছে আপনার কী প্রত্যাশা ও আশাবাদ?

ব্যারিস্টার মাসুদ আখতার পলাশ : আমার অনেক সময় মনে হয়, সজীব ওয়াজেদ জয় বাংলাদেশের বারাক ওবামা। বিরোধিতার জন্য অনেকে নানা কিছু বলে থাকেন। যারা বিরোধিতা করছেন তাদের হাতে স্মার্টফোন, ইন্টারনেট। তাদের এই এই টেকনোলজির সুবিধা-তো সজীব ওয়াজেদ জয়ই দিয়েছেন।

সেদিন আমি অনেক দূরে একটি চরে গিয়েছিলাম। নৌকায় একটি তরুণ ছেলের সঙ্গে পরিচয়। হাতে ল্যাপটপের ব্যাগ। বললো, “আপনি-তো ঢাকায় থাকেন, বিদেশে লেখাপড়া করেছেন। যদি কোনোভাবে সম্ভবপর হয় জয় সাহেবকে বলবেন, ইন্টারনেটের গতিটা যেন আরেকটু বাড়িয়ে দেবার ব্যবস্থা করেন। আমি বললাম, “তুমি গতি দিয়ে কী করবে?” বললো, “আউটসোর্সিংয়ের কাজ করি। ইন্টারনেটের গতি বেশি পাবার জন্য আমাকে বগুড়া যেতে হয়।”

সজীব ওয়াজেদ জয় ইন্টারনেটের গতি দিয়ে এদেশের তরুণদের বিশ্বমানের করেছেন। গাইবান্ধার চরাঞ্চলের একটি ছেলেও ম্যাক্সিকো, ম্যানহ্যাটনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছে। তথ্য-প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ এখন নতুন দুনিয়ায় প্রবেশ করেছে। তরুণদের উপার্জনের সুযোগ বেড়েছে। যার সবটাই হয়েছে সজীব ওয়াজেদ জয়ের কারণে। আর তার মতো সৎ মানুষ, যোগ্য মানুষ, স্বপ্নবান মানুষ আমাদের আরো প্রয়োজন। তবেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের যে সোনার বাংলাদেশ তা বাস্তবায়িত হবে পুরোপুরিভাবে। জয় আমাদের আসবেই।

আজসারাবেলা/সাক্ষাৎকার/রই/ভোটের-হাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*