নান্দাইলের মানুষের পাশে থেকে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে চাই: প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান খান - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

নান্দাইলের মানুষের পাশে থেকে আওয়ামী লীগকে আরও শক্তিশালী করতে চাই: প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান খান

প্রকাশিত :১২.১১.২০১৮, ২:৫৭ অপরাহ্ণ
  • মো. মোস্তাফিজুর রহমান খান। পেশায় প্রকৌশলী হলেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করেছেন একাকার করে। বাবা সৎ রাজনীতিবীদ ছিলেন। সেই সততা আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ মোস্তাফিজুরের রক্তেও বহমান। ময়মনসিংহ-৯, নান্দাইল আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি। তরুণ এই প্রকৌশলী দৃঢ়তা আর প্রত্যয় নিয়ে বললেন নিজের স্বপ্ন, নান্দাইলের মানুষের জন্য কর্মপরিকল্পনা আর আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আশাবাদের কথা।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রবিউল ইসলাম রবিসিদ্দিক আশিক

আজ সারাবেলা: রাজনীতিতে আপনার সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া কীভাবে?

প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান: পারিবারিকভাবে আওয়ামী আবহে বড় হয়েছি। বাবা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন, সে অনেককাল। বঙ্গবন্ধুকে ভীষণ ভালোবাসতেন। সেখান থেকে আমার মধ্যেও বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা তৈরি হয়। এই আওয়ামী লীগই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছে, দেশ স্বাধীন করেছে।

’৭০ এর নির্বাচনে ১৬৯টি আসনের মধ্যে ২টি আসনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করতে পারেনি। একটি নান্দাইল অন্যটি পার্বত্য চট্টগ্রাম।  নান্দাইল ছিল পূর্ব বাংলার মূখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিনের এলাকা। এন্টি আওয়ামী লীগ গোষ্ঠী বরাবরই সক্রিয় ছিল। তারমধ্যেই আমার বাবা রাজনীতি করেছেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে। বাবা নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। কৃষক লীগের ভাইস প্রেসিডেন্টও ছিলেন।

আমার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া কিশোর বয়স থেকে। ফরিদপুরে স্কুল ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। পরবর্তীতে ঢাকা প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) পড়াকালীন কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলাম। ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়ে। বর্তমানে আমি আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য।

আজ সারাবেলা: নন্দাইলের রাজনীতির সঙ্গে আপনি অনেকদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। এই এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো কী কী বলে আপনি মনে করেন?

প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান: নান্দাইল বরাবরই অবহেলিত উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে। ময়মনসিংহ থেকে দূরত্ব বেশি হওয়া- অন্যতম একটি কারণ। আর্থ-সামজিকভাবে যে উন্নয়ন হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। শুধু কৃষি-নির্ভর অর্থনীতি হওয়াতে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই বললেই চলে। এখানকার পৌরসভা ২য় শ্রেণির, যা ময়মনসিংহের কোথাও নেই। নেই কোনো পর্যটন স্পট, বিনোদন কেন্দ্র, খেলার মাঠ। আমি মনে করি সামগ্রিকভাবে জীবন মানের উন্নয়ন ঘটাতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে এলাকার উন্নয়ন জরুরি। শিল্প-কলকারখানা গড়ে তোলা প্রয়োজন, তাতে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

আজ সারাবেলা: ময়মনসিংহ-৯ নন্দাইল আসনটি থেকে আপনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। নিজের স্বাতন্ত্র্যের জায়গা থেকে যদি বলে জনগণ কেন আপনাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে?

প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান: এলাকায় আমার পরিবার আওয়ামী লীগ পরিবার হিসেবে পরিচিত। আমার বাবা সততা ও স্বচ্ছতার রাজনীতি সারাজীবন করেছেন। আমি সততা নিয়ে কাজ করতে চাই মানুষের জন্য। মানুষ নৌকায় ভোট দিতে চায় কিন্তু সৎ এবং যোগ্য লোক চায়, পরিবর্তন চায়।

আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অনেকদিন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমার কোনো ‘ইমেজ সঙ্কট’ নেই। আমি নান্দাইলের মানুষের পাশে থেকে আওয়ামী লীগকে আরো শক্তিশালী করতে চাই। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সম্মান করি। তাদের সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।

আজ সারাবেলা: আপনি তরুণ রাজনীতিবীদ। তরুণদের নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান: তরুণরাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। একটা সময় গেছে যখন বিএনপি-জামায়াত তরুণদের বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানতেই দিতে চায়নি। ইতিহাসকে বিকৃত করেছিল তারা। আমি চাই তরুণরা মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সম্পর্কে জানুক।

ছোটবেলা থেকেই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান।

বঙ্গবন্ধু পরিষদ নান্দাইল উপজেলা শাখার সদস্য হিসেবে উপজেলার স্কুল ও কলেজগুলোর তরুণদের মাঝে সরকারের উন্নয়ন ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ প্রচার করছি। নান্দাইল প্রেসক্লাবের সদস্য হিসেবে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহন করছি। অরুণোদয় পাঠাগার, হক ফাতেমা পাঠাগার ও এইচ.আর ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা হিসেবে চেষ্টা করছি তরুণদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে।

মাদকের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান স্পষ্ট। সচেতনতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। তরুণদের আন্দোলিত করছি, সংগঠিত করছি- সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। আমি চাই সজীব ওয়াজেদ জয়ের আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে তরুণরা এগিয়ে যাক। তাই প্রযুক্তিবিদ্যার ক্ষেত্রে কিছু পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছি।

আজ সারাবেলা: আওয়ামী লীগ সমর্থিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় রয়েছে। এই সরকারকে জনগণ আবারও কেন নির্বাচিত করবে বলে মনে করছেন?

প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান: উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চিন্তা করলে আওয়ামী লীগকে আবারও ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ গড়ার পথযাত্রায় এক সফল নেতা, সফল মানুষ। সমুদ্র বিজয় থেকে মহাকাশ যাত্রা কোথায় সফল্যের পদচিহ্ন নেই? মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধি, দুস্থ ভাতা, বয়স্ক ভাতা, মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, কমিউনিটি ক্লিনিক, নারী শিক্ষার উন্নয়ন সব ক্ষেত্রেই সরকার সফল ও আন্তরিক।

যোগাযোগে অভূতপূর্ব সাফল্য সরকার অর্জন করেছে। পদ্মাসেতু এখন দৃশ্যমান। জঙ্গিবাদ, মাদক দমনে সরকারের সাফল্য আগের সব রেকর্ডকে ভঙ্গ করেছে। অনেক এমপিদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে জবাবদিহিতার প্রশ্নে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। আন্তর্জাতিক বিশ্বে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছে আওয়ামী লীগ সরকার তা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার। ফলে সকল বিবেচনায় দেশের স্বার্থে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।

আজসারাবেলা/সাক্ষাৎকার/রই/ভোটের-হাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*