বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে জনগণের হাত ধরেই পরিবর্তন আনতে চাই: ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন - Aj SaraBela (আজ সারাবেলা)

বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে জনগণের হাত ধরেই পরিবর্তন আনতে চাই: ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন

প্রকাশিত :০৯.১১.২০১৮, ৬:৪২ অপরাহ্ণ
  • কিশোরগঞ্জ-৫, বাজিতপুর-নিকলী আসনে ‘ক্লিন ইমেজে’র রাজনীতির জনপ্রিয় মুখ ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক আদর্শেই তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। বাবাও ছিলেন রাজনীতিবিদ, পরিচ্ছন্ন মানুষ। এলাকার মানুষের জন্য মিল্টন কাজ করছেন দীর্ঘদিন। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একজন তিনি। নিজের রাজনৈতিক জীবন, সংসদীয় এলাকা, আর আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশার কথা বলেছেন আজ সারাবেলা’র সাথে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জববার হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি এবং সিদ্দিক আশিক।

আজ সারাবেলা: আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: আমার বাবা মরহুম এডভোকেট আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের জয়েন সেক্রেটারি, ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সনের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এডভোকেট হওয়ার পর সৈয়দ নজরুল ইসলামের জুনিয়র হিসেবে কাজ করেছেন। পারিবারিকভাবে আওয়ামী বলয়ে বেড়ে উঠেছি। বাবা আমাদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মানুষ করবার চেষ্টা করেছেন। সেভাবেই ‘জয় বাংলা’র মানসিকতায় বেড়ে উঠেছি আমরা। ’৯০ সালে ঢাকা কলেজে লেখাপড়া করার সময় ‘পল-অশ্রু’ পরিষদের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে রাজনীতিতে আমার অভিষেক ঘটে। দক্ষিণ ছাত্রাবাস শাখার আহ্বায়ক ছিলাম। মূলত তখন থেকেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়া।

আজ সারাবেলা: সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায়। বিরোধী দল প্রায় রাজনীতি শূন্য। ঠিক এ সময়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাওয়া, এটা সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা নয় কি?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: পারিবারিকভাবে আমরা আওয়ামী লীগের সুখ-দুঃখের সাথে সবসময় ছিলাম। ২০০১ সালে লন্ডনে ছিলাম। সেখানে ‘বঙ্গবন্ধু ব্যারিস্টার এসোসিয়েশন’ গড়ে তুলি, ২৩ এপ্রিল, ২০০৩ সেটির আত্মপ্রকাশ ঘটে। একটা বিপরীত সময়ে আমরা দলটির আরো কাছাকাছি আসতে চেয়েছি। মনে আছে, লন্ডনে সংগঠনটি করার সময় অনেক আইনজীবীদেরই বলেছিলাম যুক্ত হতে, কিন্তু তারা অনেকেই হননি। যাদের অনেকেই দেশে এখন ভালো অবস্থানে আছেন। লন্ডনে শীতের মধ্যে আমি বাড়ি বাড়ি গিয়ে সদস্য সংগ্রহ করেছি। নেত্রী শুনে খুব খুশি হয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ কিন্তু তখন ক্ষমতায় নেই।

২০০৬ সালে আমি মনোনয়ন পত্র দাখিল করি। তখন আমার বয়স হয়তো অনেক কম ছিল। কিন্তু তারপর রাজনীতির মাঠ থেকে আর সরে যাইনি। আমি বরাবরই দলের জন্য নিবেদিত। দল ক্ষমতায় আছে কি নেই- সেটা আমার কাছে বড় ব্যাপার না, বরং আমি দলের জন্য জনগণের জন্য কী করতে পারলাম- সেটা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার পরিচয় আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতিবিদ, পরে একজন আইনজীবী।

আজ সারাবেলা: সরকার প্রায় দশ বছর ধরে ক্ষমতায়। সারাদেশে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন হয়েছে। আওয়ামী লীগের একজন রাজনীতিক হিসেবে সরকারের এই উন্নয়ন প্রচারণা আপনি কতদিন ধরে করছেন?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: আওয়ামী লীগের জন্য আমার বাবা ৫৫ বছর শ্রম দিয়েছেন। ’৭৫ পরবর্তী সময়ে মুসলীম লীগের এই এলাকার হাল ধরেছিলেন বাবা। সেই সময় থেকেই আমরা বঙ্গবন্ধুর কথা প্রচার করে আসছি। সরকারের উন্নয়নের প্রচারণাও নতুন করে করছি তা নয়। জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতিটি কাজ তুলে ধরছি বছর জুড়ে। বছরের পর বছর।

এই সরকারের উন্নয়নের প্রতিটি কাজ এলাকার মানুষের কাছে গিয়ে তুলে ধরছি আজ প্রায় চার বছর ধরে।

আজ সারাবেলা: একাদশ সংসদ নির্বাচনে আপনি মনোনয়ন প্রত্যাশী। কোন জায়গাটিতে আপনি নিজেকে অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে করেন যে এলাকার জনগণ আপনাকেই জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবে?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: আমি কাজে বিশ্বাসী। আত্নপ্রচারণা বিমুখ। আমার কথা মানুষই বলবে। মানুষ চায় একজন শিক্ষিত সচেতন মানুষ যেন জনপ্রতিনিধি হয়। সময় বদলে গেছে, মানুষ এখন কথা নয় কাজ দেখতে চায়। তারা পরিবর্তন চায়, চায় শিক্ষিত ও যোগ্য কেউ আসুক জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে। মানুষ চায় সৎ, মেধাবী, নতুন মুখ। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে জনগণের হাত ধরেই পরিবর্তন আনতে চাই।

আজ সারাবেলা: আপনি তরুণ রাজনীতিবিদ। এলাকার তরুণদের নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: বাজিতপুর-নিকলী এলাকার তরুণদের নিয়ে আমার পরিকল্পনা অনেক। সেই লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছি। তরুণরা যেন মাদক ও অন্যান্য অপরাধে না জড়িয়ে পড়ে সে জন্য প্রয়োজন শিক্ষা ও কাজের সুযোগ। অনেক দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি ব্যক্তিগত উদ্যোগে। কর্মসংস্থানের জন্য আমাদের যে ব্যাচম্যাট বন্ধুরা আছে তাদের সহায়তা নিয়েছি। ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকের জন্য কারিগড়ি ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেছি।

গ্রাজুয়েট ক্লাব করে এলাকার তরুণদের সংগঠিত করছি যাতে আগামী প্রজন্ম আরো ভালো শিক্ষা ও কাজের সুযোগ পায়। দেশে এবং বিদেশে এলাকার যে বন্ধুরা বিভিন্ন জায়গায় প্রতিষ্ঠিত তাদের আহ্বান করেছি তরুণদের কাজের সুযোগ তৈরি করতে।

আজ সারাবেলা: আপনি নিজ এলাকার সমস্যা কতটা চিহ্নিত করতে পেরেছেন এবং সমাধানের জন্য পরিকল্পনা কী?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: মাদক এখন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামও মাদকের থাবা মুক্ত নয়। নিকলী-বাজিতপুরে ক্ষমতাবানদের পৃষ্ঠপোষকতায় এখানে মাদক ব্যবসায় চলছে। এই মাদক তরুণ সমাজকে শেষ করে দিচ্ছে। সন্ত্রাস ও অপরাধের জন্ম দিচ্ছে। নিরাপত্তা নষ্ট হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। মাদক নির্মুল হলেই সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। ফিরে আসবে শিক্ষার পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মানুষের মধ্যে স্বস্তি।

সারাদেশে ব্যাপক উন্নতি হলেও এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষ্যযোগ্য পরিবর্তন ঘটেনি। আমি সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিবর্তন করতে চাই।

সরকার বরাদ্দ দেয় ঠিকই, কিন্তু তা সাধারণের দরজা পর্যন্ত পৌঁছায় না। আমি মানুষের সেবা ও অধিকারকে নিশ্চিত করতে চাই। আমার অনেক টাকা-পয়সা, শিল্প-কারখানা দরকার নেই। আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। আমার বাবাও তাই করেছেন। আমার বাবা যেন কবর থেকে দেখতে পান আমি মানুষের জন্য কাজ করছি। এতেই আমার প্রাপ্তি ও অর্জন।

আজ সারাবেলা: তরুণ নেতৃত্বের প্রতীক সজীব ওয়াজেদ জয়কে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

ব্যারিস্টার মো. রফিকুল ইসলাম মিল্টন: সজীব ওয়াজেদ জয় একজন অসাধারণ নেতৃত্বগুণসম্পন্ন নেতা। তার বড় গুণ হচ্ছে তিনি একজন সৎ, স্পষ্টবাদী এবং মেধাবী ব্যক্তিত্ব। তিনি তরুণদের নতুন আলো দেখিয়েছেন। তথ্য-প্রযুক্তির এক নতুন জানাল খুলে দিয়েছেন। এখন তরুণরা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে উপার্জনের দারুণ সুযোগ পাচ্ছে। আগামী দিনে তিনি আমাদের মতো শিক্ষিত তরুণদের নিয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিবেন, এমনই প্রত্যাশা।

আজসারাবেলা/সংবাদ/রই/সাক্ষাৎকার/ভোটের-হাওয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*